বিনোদন ডেস্ক : তিন বছর পার হলেও এখনো রহস্য ঘেরাই রয়ে গেছে বলিউড অভিনেত্রী জিয়া খানের মৃত্যু রহস্য। এ অভিনেত্রীর মৃত্যুর পরে শুরু হয় নানা গুঞ্জন। কেউ বলেছেন ক্যারিয়ার ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যা করেছেন জিয়া। আবার কেউ বলেছেন সুরাজ পাঞ্চোলির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে বনিবনা না হওয়ার আত্মহত্যা করেন তিনি। কেউ কেউ একধাপ এগিয়ে দেখতে পাচ্ছেন হত্যা রহস্য। এরই মধ্যে বেশ জোরেসোরেই তদন্ত শুরু করে দিয়েছে গোয়েন্দা বিভাগ। তবে শেষ পর্যন্ত রহস্যই রয়ে গেছে এ মৃত্যু। বলিউডে জিয়ার মৃত্যুই প্রথম নয়। ‘মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে’ কবির এ কথাকে মিথ্যা প্রমাণ করে এর আগেও অনেক বলিউড অভিনেত্রী আত্মহত্যা করেছেন। তাদের মৃত্যু আজও রহস্য ঘেরা রয়ে গেছে সবার কাছে। এ রকম কয়েকজন বলিউডে সাড়া জাগানো অভিনেত্রীদের নিয়ে আমাদের এ প্রতিবেদন। জিয়া খান : ২০১৩ সালের ৩ জুন জুহুর ফ্ল্যাটে সিলিং ফ্যান থেকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলতে থাকা ২৫ বছরের জিয়ার দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে মৃত্যুর কারণ আত্মহত্যা বলে দাবি করে পুলিশ। কিন্তু জিয়ার মা তার প্রতিবাদ করেন। তিনি জানান, অভিনেতা আদিত্য পাঞ্চোলির ছেলে সুরাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল তার মেয়ের। দাবি করেন আত্মহত্যা নয়, জিয়াকে আসলে খুন করা হয়েছিল। এদিকে ফরেন্সিক রিপোর্ট খুঁটিয়ে দেখে প্রাথমিক তদন্তে ফাঁক রয়েছে বলে মন্তব্য করে হাইকোর্ট। জিয়ার মা রাবিয়া খানের আবেদনের ভিত্তিতে ২০১৪ সালে মুম্বাই হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তের ভার বর্তায় সিবিআই-এর হাতে। তবে এখনো রহস্যে ঘেরা এ মৃত্যু। বিবেকা বাবাজি : বলিউডের আবেদনময়ী মডেল বিবেকা বাবাজি। কামাসূত্রা কনডমের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঝড় তুলেছিলেন সকল পুরুষের মনে। ২০০৫ সালে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বিবেকা। এরপর মৃত্যু রহস্য হিসেবে গুঞ্জন ওঠে প্রেমে এবং ক্যারিয়ারে ব্যর্থতা আত্মহত্যার কারণ। পাশাপাশি অন্য একটি কারণ হিসেবে ওঠে আসে অর্থনৈতিক দৈন্যদশার কথা। কিন্তু জিয়ার মতো এ বিবেকার মৃত্যুকে ঘিরে এখনো রয়েছে রহস্যের ছায়া। কুলজিত রানধোয়া : ২০০৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারিকেই কুলজিত বেছে নিয়েছিলেন তার জীবনের শেষ দিন হিসেবে। এ দিন জুহুর অ্যাপার্টমেন্ট থেকে সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয় এ মডেল এবং টিভি অভিনেত্রীর। মৃত্যুর কারণ হিসেবে সুইসাইড নোটে কুলজিত লিখে রেখে গিয়েছিলেন অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন তিনি। কিন্তু এ অভিনেত্রীর অতিরিক্ত মানসিক চাপ আসলে কী ছিল এটিই পরবর্তীতে কোটি টাকার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। যে প্রশ্নের উত্তর আজও পাওয়া যায়নি। সিল্ক স্মিথা : ভারতের দক্ষিণী সিনেমায় একের পর এক সাহসী এবং খোলামেলা দৃশ্যে অভিনয় করে দর্শকরে মাঝে বেশ সাড়া জাগিয়েছিলেন সিল্ক স্মিথা। নিজেকে সেক্স সিম্বল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন এ অভিনেত্রী। ১৯৯৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর চেন্নাইয়ের নিকটবর্তী সালিগ্রামাম নামক স্থানে নিজ বাড়িতে উদ্ধার করা হয় এ অভিনেত্রীর মৃত দেহ। মৃত্যুর কারণ হিসেবে একটি সুইসাইড নোট লেখে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে তিনি লেখেন, একের পর এক জীবনে ব্যর্থতা এবং হতাশার কারণে মৃত্যুকেই মুক্তির পথ হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি। কিন্তু মূল কারণ এখনো অজানায় রয়ে গেছে। এ অভিনেত্রীর জীবনের কাহিনি নিয়ে পরবর্তীতে বলিউডে নির্মাণ হয় ডার্টি পিকচার সিনেমাটি। সিনেমাটিতে অভিনয় করেন বিদ্যা বালান। দিব্যা ভারতী : মাত্র দুই বছরেই মুক্তি পেয়েছিল এ অভিনেত্রীর প্রায় বারোটি সিনেমা। সেগুলোর বেশির ভাগের সঙ্গেই ছিল সুপারহিটের তকমা। কিন্তু তার বেশি সিনেমা দেখার সৌভাগ্য হয়নি দর্শকদের। কারণ হঠাৎ করেই ১৯৯৩ সালে ৫ সেপ্টেম্বর বাড়ির ব্যালকুনি থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় মাত্র ১৯ বছর বয়সি এ অভিনেত্রীর। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো অজানায় রয়ে গেছে। বাড়িতে দিব্যা তার স্বামী সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার সঙ্গে থাকতেন। তার উল্লেখিত সিনেমার মধ্যে রয়েছে- বিশ্বাত্মা, দিওয়ানা, বলবান, শোলা অউর শবনম নাফিজা জোসেফ : কুলজিত রানধোয়ার বন্ধু ছিলেন নাফিজা জোসেফ। কুলজিতের মৃত্যুর কয়েক বছর পরেই রহস্যজনকভাবে আত্মহত্যা করেন এ মডেল। সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। তবে মৃত্যুর কারণ হিসেবে তার ব্যক্তিগত জীবনের গৌতম খান্দুজা নামে একজন ব্যবসায়ীর সঙ্গের বিয়ে না হওয়াকেই মনে করা হয়। জানা যায় এ ব্যবসায়ীর সঙ্গে বিয়ে পাকাপাকি হয়েছিল নাফিজার কিন্তু এ মডেল পরবর্তীতে জানতে পারেন গৌতম আগে থেকেই বিবাহিত ছিলেন। এরপর ভেস্তে যায় তাদের বিয়ে। রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৮ জুন ২০১৫/মারুফ/রাশেদ শাওন