ভ্রমণ

বাংলাদেশের বিভিন্ন উৎসব

অহ নওরোজ :  কোনো অঞ্চলের মানুষের সামাজিক জীবন ধারা বোঝা এবং সে সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান লাভের জন্য যে বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তার মধ্যে উৎসব অন্যতম মাধ্যম। কোনো দেশ বা সমাজের উৎসব সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান থাকলে ঐ সমাজের সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার রূপটি স্বচ্ছ হয়ে ধরা দেয়। কারণ উৎসব  শুধু উৎসব নয়, উৎসব হলো একটি জনপদের মানুষের পছন্দ, আচরণ, আকাঙ্ক্ষা এমনকি ইচ্ছা অনিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। হতে পারে সে উৎসব নির্দিষ্ট কোনো জনপদের, অথবা হতে পারে নির্দিষ্ট কোনো ভূ-খণ্ডের। গুরুত্বপূর্ণ এই সামাজিক আচারের ইতিহাস, উদ্ভব, রূপান্তর-প্রক্রিয়া, বিকশিত রূপ খুঁজে পাওয়া অনেক জটিল ব্যপার। তবে যাদু-বিশ্বাস, আচার ক্রিয়া, ধর্মীয় উপাদান, অর্থনৈতিক বিষয়সহ কোনো কোনো স্পর্শকাতর বিষয়ের সঙ্গে এর যোগসূত্র রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। সেই সঙ্গে আনন্দময়তা, ঐতিহ্যে অংশগ্রহণ এবং  সামাজিক ও ব্যক্তিগত সংযোগ-সংহতি উৎসবের মৌল উপাদানের অর্ন্তগত। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানের মতে প্রাচীন ধর্ম ও নবীন ধর্মের মধ্যে যখন সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে তখন মানুষ উৎসবকে আগলে রেখে ধর্মকে গ্রহণ করেছে। পরে নানা ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিবর্তনের মধ্য দিয়ে উৎসব একটা ভিন্ন চরিত্রে দাঁড়িয়ে গেছে । কোনো কোনো ধর্মীয় উৎসব বহুলাংশে বা প্রায় সবটাই সামাজিক ও ধর্ম-নিরপেক্ষ উৎসবে পরিণত হয়েছে।

এ ধরনের জাতীয় ও ধর্ম নিরেপক্ষ উৎসব বাদেও উৎসবের কাতারে সামিল হয়েছে অনেক ধর্মীয় উৎসব। এর মধ্যে মুসলমানদের দুই ঈদ, হিন্দুদের দুর্গাপূজা; এ ছাড়া বৈশাখী পূর্ণিমা, বড়দিন, চাকমা মারমা ও ত্রিপুরাদের বিঝু উৎসব, মণিপুরীদের রাসলীলা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।  ঢাকা, মানিকগঞ্জ, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম প্রভৃতি অঞ্চলে মর্সিয়া, কাসিয়া, তাজিয়া, জশনে জুলুশ, নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দরে অষ্টমী স্নান, ঢাকার ধামরাই সহ বিভিন্ন অঞ্চলে রথের মেলা, মৌলভীবাজারের মাধবপুর এবং সুন্দরবনের দুবলারচরে বিশাল রাশ উৎসব, নবান্ন, বেড়াভাসান, বরকতমার থল, জব্বারের বলিখেলা প্রভৃতি আঞ্চলিক উৎসবও আমাদের ঐতিহ্যকে বেশ সমৃদ্ধ করছে।রাইজিংবিডি/ঢাকা/২২ জুলাই ২০১৫/তাপস রায়