স্টাফ রিপোর্টার
বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন দেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান। শুক্রবার বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় তার দাফন সম্পন্ন হয়। দাফনের আগে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার দেয়। কবরে নামানোর পর গোলন্দাজ দল রাষ্ট্রপতিকে গান স্যালুট প্রদান করে। দাফন সম্পন্নের পর তিনবার গুলি ছুড়ে তাকে হলি ফায়ার জানায় সেনা বাহিনীর আরেকটি দল। পরে ধর্মীয় শিক্ষক বিশেষ মোনাজাত পরিচোলনা করেন।
দুপুর আড়াইটার দিকে জাতীয় ঈদগাহ মহদানে রাষ্ট্রপতির দ্বিতীয় নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় জানাযায়ি রাষ্ট্রপতির ছেলে নাজমুল হাসান পাপন উপস্থিতদের উদ্দেশে বলেন, ‘সারা দেশের মানুষ তার জন্য শোক করছে। এটার তার জন্য যেমন শান্তির তেমনি আমাদের জন্যও। তিনি এমনই একজন মানুষ ছিলেন যিনি কোনোদিন কাউকে কষ্ট দেননি। তারপরও মনের অজান্তে যদি কাউকে দুঃখ কষ্ট দিয়ে থাকেন তাহলে আপনারা ক্ষমা করে দিবেন। কারো কাছে দেনাপাওনা থাকলে আমাকে জানাবেন আমি এর দায়ভার নিলাম।’ বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমার এমনই কপাল এ হাত দিয়ে আমি আমার আম্মাকে কবর দিয়েছি এখন বাবাকেও এ হাত দিয়ে কবর দিতে হচ্ছে। তাকে সবাই মাফ করে দিয়েন।’ জানাযা শেষে রাষ্ট্রপতিকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়। সেখান থেকে কিছু সময়ের জন্য মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় গুলশানের বাসভবনে। গুলশান বাসভবন থেকে সরাসরি মরদেহ নেয়া হয় বনানী কবরস্থানে।
১৪৯৩/৮৩ নম্বর কবরটিতে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভী রহমানকেও দাফন করা হয়েছিল ২০০৪ সালে। তিনি ২১ আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় আহত হয়ে মারা যান। আজ সে কবরে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানেরও শেষ শয্যা হল। উল্লেখ্য, সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশ সময় গত বুধবার (২০ মার্চ) বিকেল চারটা ৪৭ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান ইন্তেকাল করেন।