সারা বাংলা

স্ত্রীর পাশে চিরনিদ্রায় পলান সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : স্ত্রীর কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত ‘আলোর ফেরিওয়ালা’ পলান সরকার। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় হারুনুর রশিদ শাহ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পলান সরকারের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ছিলেন তিনি। নাজার নামাজে ইমামতি করেন বাঘার বাউসা পূর্বপাড়া জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মোহাম্মদ আবুল বাশার। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক এস এম আব্দুল কাদের, পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন রেজা, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাবা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শামসুদ্দীন, সরের হাট এতিমখানার পরিচালক সাদা মনের মানুষ শামসুদ্দিন সরকার, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সদ্য নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান লায়েব উদ্দিন লাভলু, বাঘা পৌরসভার মেয়র আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মেয়র আক্কাস আলী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম প্রমুখ। প্রায় ৩০ বছর ধরে গ্রামে গ্রামে ঘুরে পাঠকের বই হাতে পৌঁছে দিতেন পলান সরকার। তার প্রকৃত নাম হারেজ উদ্দিন সরকার। তবে তিনি পলান সরকার নামেই পরিচিত। পলান সরকার সামাজিকভাবে অবদান রাখার জন্য ২০১১ সালে পেয়েছেন একুশে পদক। এর আগে ২০০৭ সালে তার বাড়ির আঙিনায় একটি পাঠাগার নির্মাণ করে দেয় রাজশাহী জেলা পরিষদ। পলান সরকার ১৯২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ২০১৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ‘ইমপ্যাক্ট জার্নালিজম ডে’ উপলক্ষে সারা বিশ্বের বিভিন্ন ভাষার ৪০টি দৈনিকে তার ওপর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর আগে তাকে নিয়ে আসা হয় জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তে। এ ছাড়া, তাকে নিয়ে ‘সায়াহ্নে সূর্যোদয়’ নামে একটি নাটকও তৈরি হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাড়িতে মারা যান বই পাগল এই মানুষটি। তার বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর। মৃত্যুকালে তিনি ছয় ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে গেছেন। এর আগে গত বছরের ২১ ডিসেম্বর পলান সরকারের স্ত্রী রাহেলা বেগম (৮৫) মারা যান। রাইজিংবিডি/রাজশাহী/২ মার্চ ২০১৯/তানজিমুল হক/সাইফুল