বিনোদন

বিদায়বেলায় সহকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত আনিস

বিনোদন প্রতিবেদক: গতকাল রাত ১১টায় না ফেরার দেশে চলে গেছেন কৌতুক অভিনেতা আনিসুর রহমান আনিস। শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে তার মরদেহ আনা হয়েছিল দীর্ঘ দিনের কর্মস্থল বিএফডিসিতে। সেখানে আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তার দ্বিতীয় জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। প্রিয় সহকর্মীকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে বিএফডিসিতে এসেছিলেন চিত্রনায়ক আলমগীর, ওমর সানী, মিশা সওদাগর, ড্যানি সিডাক, প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু, পরিচালক অপূর্ব রানাসহ অনেকে। এ সময় তারা আনিসুর রহমান আনিসের মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ও তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। আজ বাদ আসর ফেনীর ছাগলনাইয়া থানার বল্লবপুর গ্রামে তাকে সমাহিত করা হবে। বিএফিডিসিতে জানাজা শেষে তার মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন তার স্বজনেরা। এর আগে রাজধানীর টিকাটুলী জামে মসজিদে আজ সকাল ৯টায় আনিসের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।  

আনিস চলচ্চিত্রে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন অভিনেতা নয়, চিত্রসম্পাদক হিসেবে। প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ভ্রাতৃদ্বয় এহতেশাম ও মুস্তাফিজের লিও দোসানী ফিল্মসে সহকারী সম্পাদক ও পরিচালক ছিলেন তিনি। এ দুই নির্মাতার মাধ্যমেই একসময় অভিনয়ে নিয়মিত হন আনিস। ১৯৬০ সালে বিষকন্যা ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন। কিন্তু ছবিটি মুক্তি পায়নি। ১৯৬৩ সালে মুক্তি পায় আনিস অভিনীত প্রথম ছবি জিল্লুর রহমান পরিচালিত ‘এইতো জীবন’। তারপর থেকে তিনি অভিনয় করেই গেছেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তিনি অভিনয় করেছেন। নবাব সিরাজদ্দৌলা নাটকে গোলাম হোসেন চরিত্রে অভিনয় করে তিনি মঞ্চে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তার বাবা মরহুম আমিনুর রহমান চা বাগানের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলার ছাগলনাইয়ার দক্ষিণ বল্লবপুরে। ১৯৬৫ সালে খালাতো বোন কুলসুম আরা বেগমকে ভালোবেসে বিয়ে করেন আনিস। উনপঞ্চাশ বছর একসঙ্গে সংসার করেছেন তারা। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে এতটুকু ছেদ পড়েনি তাদের ভালোবাসায়। আনিসের বড় মেয়ে ফারহা দীবা থাকেন আমেরিকাতে। তার স্বামী তারেক হোসেন সেদেশে ব্যবসা করেন। ছোট মেয়ে ফাতেমা রহমান রিমি কুমিল্লায় আছেন। রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৯ এপ্রিল ২০১৯/শান্ত