ক্রীড়া প্রতিবেদক, লন্ডন থেকে: ক্রিকেট মাঠে গড়াল বিশ্বকাপ। স্বাগতিক ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা মুখোমুখি উদ্বোধনী ম্যাচে। ব্যাট-বলের উত্তাপ ছড়ানোর দিনে লন্ডনে শুয়ে-বসে কাটিয়েছে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা। লন্ডনের পার্ক প্লাজা রিভারব্যাংক হোটেলে উঠেছে মাশরাফিরা। বিশ্রামের দিনে যে যার মতো করে ঘুরে কাটিয়েছেন ক্রিকেটাররা। সাদা শার্ট, নেভি ব্লু রঙের জিন্স পড়ে হোটেল থেকে সাত সকালে বেরিয়েছেন আবু জায়েদ রাহী। সিলেটের এ তরুণ পেসারের লন্ডনে অনেক আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব। আজ তাদের সঙ্গে দেখা করার নির্ধারিত দিন। বিশ্বকাপের কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে বেশি সময় দেওয়ার সুযোগ নেই। আজ পাওয়া সেই সুযোগটি হাতছাড়া করেননি রাহী। দলের একাধিক ক্রিকেটার বেড়িয়েছেন হাতের নাগালে থাকা থামেস নদীর তীরে। হোটেলের থেকে হাঁটা দুরত্বে গিয়ে বিকেলে রোদ পোহিয়েছেন তারা। গিয়েছিলেন ল্যামবেথ ব্রিজেও। লন্ডনের ঠান্ডা অবশ্য তাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টের ঠান্ডা সহ্য করে লন্ডনের সঙ্গে ভালোভাবেই মানিয়ে নিয়েছেন তারা। লিটন বেশ হাসিমুখেই যেন বললেন সে কথা,‘ বাংলাদেশ দল প্রথমে যে ঠান্ডায় ছিল সেটা এই ঠান্ডার তুলনায় কিছুই না। আমরা অ্যাডজাস্ট করে নিয়েছি।’
কন্ডিশনের সঙ্গে পুরোপুরি অ্যাডজাস্ট হাওয়াতে বাংলাদেশ এখন সামনে তাকিয়ে। রোববার টাইগারদের প্রথম ম্যাচ উদ্বোধনী ম্যাচ খেলা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। মাঠে নামার আগে আরও দুদিন অনুশীলনের সুযোগ পাবেন সাকিব, মুশফিকুরা। তবে শেষ মুহূর্তে মানসিক প্রস্তুতিতেই মনোযোগ পুরো দলের। গণমাধ্যমের জোরাজুরিতে একমাত্র লিটনই বিশ্রামের দিন অনস্ক্রিনে দাঁড়িয়েছিলেন। জানালেন নিজেদের প্রস্তুতির কথা। ‘আমরা আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলেছি। যেটা আমাদেরকে অনেক এগিয়ে নিয়েছে। বাংলাদেশে থেকে যদি অনুশীলন করতাম তাহলে এ প্রস্তুতিটা হতো না। ওখানে খেলা ভালো হয়েছে। আমরা এখানে ক্যাম্প করেছি। আবার প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছি ভারতের বিপক্ষে। আমি মনে করি বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি ওভারঅল অনেক ভালো।’ ‘পুরো দলের মানসিকতা এখন ভালো। দলের প্রত্যেকে খোশমেজাজে আছে। প্রস্তুতি পর্যাপ্ত হওয়ায় সবাই বেশ খুশি। এখন সবাই মানসিকভাবে নিজেদের প্রস্তুত করছে।’ - বলেছেন লিটন।
সেমিফাইনালে চোখ রাখা বাংলাদেশের জিততে হলে অন্তত পাঁচটি ম্যাচ জিততে হবে। প্রত্যাশিত জয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশকে হারাতে হবে দুই-একটি বড় দলকেও। দক্ষিণ আফ্রিকা হতে পারে সেই দলের একটি। ছক কষে অনেক ‘যদি-কিন্তু’ বের করা হয়েছে। মূল চ্যালেঞ্জ তো মাঠের ২২ গজে। সেই চ্যালেঞ্জ জিততে প্রত্যয়ী লিটন। ‘আমরা জেতার জন্য এসেছি। প্রথম ম্যাচ কিংবা শেষ ম্যাচ। সেমিফাইনালে যাওয়ার জন্য আমাদের ম্যাচ জিততেই হবে। এটাই...এই মানসিকতা নিয়েই নিজেদের প্রস্তুত করেছি।’ উদ্বোধনী ম্যাচ খেলা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওভালে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ। প্রোটিয়ারা ব্যাটিং, বোলিংয়ে, ফিল্ডিংয়ে অনেক শক্তিশালী। নিজেদের ব্যাটিং-বোলিং নিয়ে লিটন বেশ সন্তুষ্ট। তার উদ্বেগের জায়গা ফিল্ডিংয়ে। তার মতে, অসাধারণ ফিল্ডিংয়ে রান বাঁচানো গেলে তা ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় নিয়াহক হিসেবে কাজ করবে। ‘আমরা সব জায়গায় আত্মবিশ্বাসী। ব্যাটিং রান হবে। বোলাররা বোলিংয়ে মার খেতেই পারে কিন্তু ভালো করাও সম্ভব। আমি ফিল্ডিং নিয়ে উদ্বিগ্ন। যদি ফিল্ডিংটা অসাধারণ কিছু করতে পারি তাহলে খুব ভালো হবে।’ আর দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে তার মত, ‘কোনো কিছুই আসলে সহজ হবে না। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং, বোলিং সব কিছুই স্ট্রং। তারা এরকম কন্ডিশনে খেলে অভ্যস্ত। এমন না যে আমরা ওদেরকে হারাতে পারব না। আমরা যদি ভালো খেলি সেদিন, অবশ্যই জিততে পারব।’
রাইজিংবিডি/লন্ডন/৩০ মে ২০১৯/ইয়াসিন