বিনোদন প্রতিবেদক: ঢাকাই চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাগৃহে এখন আর দর্শকদের ভিড় তেমনটা লক্ষ্য করা যায় না। পর্দায় গতানুগতিক গল্প দেখে দর্শক বিরক্ত ও হলবিমুখ। এদিকে ভিনদেশি সিনেমা নকলের নোংরা থাবায় বিধ্বস্ত ঢাকাই চলচ্চিত্র। সিনেমার গল্প থেকে শুরু করে সংলাপ, দৃশ্য, মারামারি এমন কি পোস্টারেও নকলের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ নিয়ে প্রায়ই সমালোচনা, বিতর্কের ঝড় উঠছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে গণমাধ্যমেও। এবার বিষয়টি আমলে নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি। তারই ফলশ্রুতিতে নতুন গল্পকার, চিত্রনাট্যকার, সংলাপ রচয়িতা অন্বেষণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি। গুণী নির্মাতা ও কাহিনিকার ছটকু আহমেদের পাঠানো একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে— ‘ইদানীং প্রায়শই প্রযোজক পরিচালক অভিনেতা কলাকুশলী সাংবাদিক ও চলচ্চিত্রমোদীদের কাছ থেকে একটা অনুযোগ শোনা যায় যে সিনেমা বানাবার উপযোগী ভালো ও উন্নতমানের মৌলিক গল্পের প্রচন্ড অভাব। ভালো গল্পের অভাবে ছবির প্রযোজক টাকা লগ্নী করতে চান না, পরিচালক ছবি বানিয়ে তৃপ্তি পান না, অভিনেতা অভিনয়ে কোনো কুশলীতা প্রদর্শন করতে পারেন না, কলাকুশলীরা কাজ করে আস্থা পান না আর দর্শকরা একই গল্পের পুন রূপান্তর দেখে হল বিমুখ হয়ে পড়েছেন। এমনকি সেন্সর বোর্ডের মাননীয় সদস্যরাও অনুযোগ করেন গল্পে কোনো বৈচিত্র নেই। নতুনত্ব নেই। বলা যায় চারিদিকে গল্পের একটা হাহাকার অবস্থা বিরাজ করছে। চলচ্চিত্রকে যদি একটা মানব জীবনের সাথে তুলনা করা হয় তবে প্রযোজককে যেমন মাথা বলা যায়, পরিচালককে ব্রেন, ক্যামরাম্যানকে চোখ, অভিনেতা এবং অন্যান্য কলাকুশলীদের হাত পা নাক মুখ বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গের সাথে তুলনা করা যায়, তেমনি গল্পকে বলা যায় চলচ্চিত্রের হার্ট। হার্ট যদি ব্লক হতে থাকে তবে সম্পূর্ণ মানব জীবন যেমন বিপদজনক তেমনি গল্প যদি ঠিক না থাকে তবে সিনেমার ব্যবসাও বিপদজনক হয়ে উঠে। তাই চলচ্চিত্রকে বাঁচাতে হলে গল্পকে যথার্থ মুল্যায়ন করতে হবে। গল্পের বৈচিত্র আনতে হবে। গল্পে মৌলিকত্ব থাকতে হবে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি বিশ্বাস করে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠিত, অপ্রতিষ্ঠিত, পরিচিত, অপরিচিত অনেক ভালো মৌলিক গল্পকার, চিত্রনাট্যকার, সংলাপ রচয়িতা আছেন, যারা তাদের প্রতিভা বিকাশের যথাযথ সুযোগ পাচ্ছেন না। প্রযোজক ও পরিচালকদের সাথে সহজ মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারছেন না। সহজ যোগাযোগের মাধ্যম ও তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির উদ্যোগে গল্পকার, চিত্রনাট্যকার, সংলাপ রচয়িতা অন্বেষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যে পরিচালক কাহিনিকার ছটকু আহমেদকে আহবায়ক ও পরিচালক কাহিনিকার কমল সরকারকে সদস্য সচিব করে সাত সদস্যের একটি চলচ্চিত্রের গল্প যাচাই বাছাই উপ কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হচ্ছেন পরিচালক আব্দুস সামাদ খোকন, পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান, পরিচালক শিল্পী চক্রবর্তী, পরিচালক শাহিন সুমন ও পরিচালক কবিরুল ইসলাম রানা। এই উপ কমিটি জমাকৃত গল্প থেকে গল্প যাচাই বাছাই করে পরিচালক সমিতির নির্বাহী কমিটির কাছে প্রেরণ করবে এবং নির্বাহী কমিটি কর্তৃক মনোনীত গল্প নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হবে। উল্লেখ্য, নির্বাচিত গল্পকারকে যথাযথ সম্মানী প্রদান করা হবে। ১ লা জুন থেকে ৩১ শে অগাস্ট ২০১৯ এই তিন মাস সময়ের মধ্যে গল্পকার বা চিত্রনাট্যকারকে তার নাম, ঠিকানা টেলিফোন নাম্বার এবং জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটো কপি সহ গল্প বা চিত্রনাট্য ‘এ ফোর’ সাইজ পেপারে টাইপকৃত অবস্থায় পরিচালক সমিতিতে জমা দিতে হবে। পরিচালক সমিতির ঠিকানায় রেজিস্ট্রিকৃত ডাক যোগে বা পরিচালক সমিতির ই-মেইলেও গল্প পাঠানো যাবে। সেই সাথে গল্প যাচাই বাছাই এর সার্ভিস চার্জ বাবদ মাত্র ৫০০ টাকা জমা দিয়ে রশীদ গ্রহণ করতে হবে। পরিচালক সমিতির বিকাশ নাম্বারেও সার্ভিস চার্জ প্ররণ করা যাবে।’ রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩১ মে ২০১৯/রাহাত/শান্ত