বার্মিংহাম থেকে ক্রীড়া প্রতিবেদক: ‘নতুন বলের বোলিংটা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুরুতে যদি নতুন বলে আমরা দুই-তিনটি উইকেট নিয়ে নেই তাহলে আমরা যখন বোলিংয়ে আসি তখন সুবিধা হয়। নয়তো আমাদের বোলিং করতে হয় সেট ব্যাটসম্যানদের। তখন ওরা অ্যাটাকিং খেলে দ্রুত রান তোলে।’ – আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের পর এভাবেই নতুন বলে ভালো বোলিংয়ের প্রয়োজনীয়তা বুঝাচ্ছিলেন সাকিব আল হাসান।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের যে সাফল্য তার পুরোটাই এসেছে মাঝপথে, শেষভাগে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরাজের বলে মুশফিক ডি ককের ক্যাচ ছাড়ার পর রান আউটে ভাঙেন উইকেট। এরপর সাকিব এসে দেন কার্যত ব্রেক থ্রু। দ্বিতীয় ম্যাচে সাকিব স্পিনে ঘায়েল করেন মার্টিন গাপটিল ও কলিন মুনরোকে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচে বোলিং ছিল ছন্নছড়া। ২০তম ওভারে মিরাজের অসাধারণ ক্যাচে মাশরাফি পান বিশ্বকাপের একমাত্র উইকেট।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ার্নারের ক্যাচ সাব্বির মিস করেন শুরুতে। সেই ভুলের মাশুল গুনতে হয় ২১তম ওভার পর্যন্ত। সৌম্য এসে ফেরান ফিঞ্চকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পেসার সাইফউদ্দিন ফেরান ক্রিস গেইলকে। নতুন বলে সেটাই একমাত্র সাফল্য বলা যায় পেসারদের জন্য। আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় পাওয়া ম্যাচে সাকিব ১১তম ওভারে বোলিংয়ে এসে পান উইকেট। সব মিলিয়ে নতুন বলে সাকিব বাদে কারোর পারফরম্যান্স ভালো না।
একদিন পরই বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত। ছুটি কাটিয়ে বাংলাদেশ যখন এজবাস্টনের অনুশীলন এরিয়াতে তখন মূল মাঠে ইংল্যান্ডের আতিথেয়তা নিচ্ছিল ভারত। ইংল্যান্ডের দেওয়া ৩৩৮ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতে লোকেশ রাহুলের উইকেট হারায় তারা। কঠিন চাপে রান তুলতে পারেননি বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা্। ২০ ওভারে তাদের রান ১ উইকেট ৮৩। নতুন বলে শুরুতেই উইকেট পড়লে ম্যাচ যে ভিন্ন রকম হয়ে যা তার প্রমাণ এটাই।
ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং আক্রমণকে সামলাতে শুরুতেই চাই উইকেট। অধিনায়ক মাশরাফি যেমন সেদিন বলছিলেন,‘যদি ১০০ এর ওদের তিনটা উইকেট নিয়ে নিতে পারি দেখবেন বেশি রান করতে পারবে না।’ দল ভারতকে হারাতে এমন ছক আঁকলেও নতুন বলে কাজটা কে করে দেবে সেই বোলারকে খুঁজে পাচ্ছে না!
মাশরাফি বাদে বাকি যে দুজন পেসার আছেন সাইফউদ্দিন ও মুস্তাফিজ, দুজনই পুরোনো বলে বোলিংয়ে স্বাচ্ছন্দ্য পান। মাশরাফি নতুন বলে বোলিংয়ে অভ্যস্ত থাকলেও পাচ্ছেন না উইকেট। ইকোনমিও রেটও আহামরি ভালো নয়। এ তিন পেসার বাদে আছেন দুই স্পিনার মিরাজ ও সাকিব। দুজনই নতুন বলে বোলিংয়ে অভ্যস্ত। সাফল্যর হারও কম নয়। তবে তাদের শুরুতে চালালে মাঝের ওভারগুলোতে বোলিং নিয়ে থাকে সংশয়।
বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ অবশ্য বলছেন উল্টো কথা। তার মতে নতুন বলে বোলিংয়ে সাফল্য এনে দেবে পেসাররাই। সেই সামর্থ্য আছে মাশরাফি, মুস্তাফিজ ও সাইফউদ্দিনের। স্কোয়াডে থাকা রুবেল হোসেনের ওপরও তার অগাধ বিশ্বাস।
‘আমরা প্রত্যেক বোলাররকে নতুন বলে বোলিংয়ের জন্য প্রস্তুত করছি। আমাদের তিন পেসার আছে যারা নিয়মিত খেলছে। বাইরে আছে রুবেল। তাদের প্রত্যেকেই নতুন বলে বোলিংয়ের জন্য প্রস্তুত করছি। উইকেট যদি সাহায্য করে এবং আর্লি সুইং থাকে তাহলে মুস্তাফিজের থেকে সাইফউদ্দিন হতে পারে আদর্শ। আবার মুস্তাফিজের শেপ আছে যেটা নতুন বলে কার্যকর। ম্যাশ সব সময়ই নতুন বলে সুইং করাতে পারে। তাই বলছি আমাদের হাতে অপশন আছে। উইকেট থেকে খানিকটা সাহায্য পেলে ওরা হয়ে উঠতে অনন্য। ‘ – বলেছেন ওয়ালশ।
‘উইকেট বোলারদের সাফল্য ব্যর্থতায় অনেক বড় ভূমিকা রাখে। আমরা সচরাচর যে ধরণের উইকেটে খেলি সেখানে সেই সুবিধা পেয়ে থাকি। বার্মিংহামে আমরা কোন উইকেটে খেলছি সেটা অবশ্যই আমাদেরকে লক্ষ্য রাখতে হবে। যদি উইকেটে টার্ণ থাকে অবশ্যই আমাদের স্পিনাররা সুবিধা পাবে। নতুন বলে অবশ্যই তাহলে মুভমেন্ট পাওয়া যাবে। উইকেটের পূর্ণ ব্যবহার করতে পারলে যে কেউই ভালো করতে পারবে নির্দিষ্ট দিনে। ‘ – যোগ করেন ওয়ালশ।
রাইজিংবিডি/বার্মিংহাম/৩০ জুন ২০১৯/ইয়াসিন/শামীম