বিনোদন

দেশী সিনেমার আকাল : আমদানিতে সয়লাব!

রাহাত সাইফুল : হালে পাড়ায় কিংবা মহল্লার রাস্তার দিকে চোখ যেতেই দেখা মেলে জিৎ, দেব, অঙ্কুশ, কোয়েল মল্লিক আর শ্রাবন্তীদের। হঠাৎ করেই মনে হতে পারে বিনা ভিসা, বিনা টিকিটে কলকাতায় ঢুকে গেলাম না তো! আদতে দেশীয় সিনেমার আকালে আমদানিকৃত সিনেমার সংখ্যা বেড়েই যাচ্ছে ঢালিউডে। যে কারণে বদলে যাচ্ছে দৃশ্যপট। দেশীয় শিল্পীদের পোস্টার এখন চোখে পড়ে কম। গলি ঘুঁপচিতে যা দু’চারখান উঁকি ঝুঁকি মারে তার বেশিরভাগই আনকোরা নতুন মুখ। ঈদ-পূঁজা বা কোন উৎসবে দেখা পাওয়া যায় দেশীয় শিল্পীদের। এখানেও মাঝে মাঝে হানা দিচ্ছে ভারতীয় সিনেমা।

চলচ্চিত্রের সোনালি অতীতে সিনেমা মুক্তি পেলেই পাড়া-মহল্লায় সা্ঁটানো হতো দেশীয় শিল্পীদের পোস্টার। পোস্টার দেখে পরিবারের সবাইকে নিয়ে সিনেমা দেখার একটা সাজ সাজ রব পড়ে যেত। কথায় আছে, ষাট-সত্তর দশকে মধ্যবিত্তদের দৈনন্দিন বাজারের তালিকায় নিদেনপক্ষে দুটি সিনেমার টিকিট থাকতো। বিনোদন বলতে কেবল সিনেমাই ছিল একমাত্র ভরসা। সময়ের সাথে সাথে বিনোদনের মাধ্যম আর মাত্রা পরিবর্তন হতে থাকে। গত রোজার ঈদের পরে দু’একটি দেশী সিনেমা বাদে সাত সপ্তাহ ধরে চলছে ওপার বাংলার হায়ার করা চলচ্চিত্র। স্বাভাবিক কারণে অলি-গলি আর রাস্তায় শোভা পাচ্ছে টালিগঞ্জের সিনেমার পোস্টার।

গত ৬ জুন ঈদুল ফিতরে মুক্তি পায় তিনটি সিনেমা। এরপর ২৮ জুলাই পর্যন্ত কোন সিনেমা মুক্তি পায়নি। ঈদের চলচ্চিত্রগুলোই ঘুরে ফিরে বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হয়। ২৮ জুলাই ‘ভোকাট্টা’ নামের ভারতীয় সিনেমা সাফটা চুক্তির মাধ্যমে মুক্তি পায়। এরপরের সপ্তাহে (৫ জুন) দেশীয় চলচ্চিত্র ‘আব্বাস’ পেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হয়। ১২ জুলাই দেশীয় সিনেমা ‘ভালোবাসা ডটকম’ মুক্তির সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। কিন্তু বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় কলকাতার ভাড়াটে সিনেমা ‘কিডন্যাপ’। দেব অভিনীত কিডন্যাপ’র দাপটে প্রেক্ষাগৃহ সঙ্কটে পড়ে সরে যায় ‘ভালোবাসা ডটকম’। ১৯ জুলাই মুক্তি পায় জিতের ‘শুরু থেকে শেষ’ সিনেমাটি। এর সঙ্গে নামমাত্র দুটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘অনুপ্রবেশ’। এ সিনেমাটিরও অধিকাংশ শিল্পী ওপার বাংলার। ২৬ জুলাই মুক্তি পায় কলকাতার সিনেমা ‘বিবাহ অভিযান’। অর্থাৎ গত সাত সপ্তাহে কেবল ‘আব্বাস’ সিনেমাটি নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। বাকি ছয় সপ্তাহ ভারতীয় সিনেমার দখলে ছিলো দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলো।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস দীর্ঘ ও গৌরবের। ইদানিং ঢাকাই সিনেমা মাঝে মধ্যেই দেশের বাইরেও সুনাম অর্জন করছে। এক সময় দেশের ১৩ শত সিনেমা হলে প্রতি সপ্তাহে একাধিক সিনেমা মুক্তি পেত। প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা দেখতে দর্শকদের দীর্ঘ লাইন দিতে হতো। কিন্তু হালে ঢাকার চলচ্চিত্র নির্মাণ সংখ্যা কমে যাওয়ার কারনে প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যাও কমতে কমতে ৩৩২-এ এসে দাঁড়িয়েছে। যদিও দুই ঈদে কিছু কিছু বন্ধ প্রেক্ষাগৃহ আবারও চালু হয়। তখন সংখ্যা বেড়ে ৩০০ পেরিয়ে যায়। প্রেক্ষাগৃহ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো সিনেমার নির্মাণহার কমে যাওয়া। কেন চলচ্চিত্রে লগ্নি করতে সাহস করছেন না প্রযোজক? বোদ্ধারা মনে করছেন, লগ্নিকৃত অর্থের ন্যায্য অংশ ও সিনেমার টিকিট বিক্রির স্বচ্ছতার ব্যবস্থা থাকলে প্রযোজক অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়বেন না, পাশাপাশি মানসম্পন্ন নতুন সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেলে দর্শক আবার হলমুখী হবেন। ফলে প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের লোকসান গুনতে হবে না, প্রযোজকরাও ফিরে পাবেন তাদের লগ্নিকৃত অর্থ। রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩০ জুলাই ২০১৯/রাহাত/ নবীন হোসেন