সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় স্লো মোশন ভিডিও। স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাই মাঝারি বাজেটের ফোনেও দিচ্ছে এই ফিচার। স্লো মোশন ভিডিও রেকর্ডিং ফিচারটি চলন্ত কিছুর ফুটেজ খুব ধীরে ধীরে দেখায়।
সম্প্রতি মেট ৩০ সিরিজের ফোন উন্মোচন করেছে হুয়াওয়ে। ক্যামেরার পারফরম্যান্স বিচারে এর মধ্যে মেট ৩০ প্রো ফোনটি নিঃসন্দেহে বর্তমান সময়ের সেরা একটি ফোন। এর আধুনিক প্রযুক্তির ক্যামেরায় রয়েছে নানা আকর্ষণীয় ফিচার। যেমন স্লো মোশন ভিডিও ধারণে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে মেট ৩০ প্রো।
অন্যান্য ব্র্যান্ডের স্মার্টফোনে যেখানে সর্বোচ্চ ৯৬০ এফপিএস স্লো মোশন ভিডিও রেকর্ড করা যায়, সেখানে মেট ৩০ প্রো ফোনে স্লো মোশন ভিডিও রেকর্ড করা যাবে ৭,৬৮০ এফপিএসে! অর্থাৎ সুপার স্লো মোশন ভিডিও ধারণে এর ধারের কাছেও নেই অন্য কোনো স্মার্টফোন। অন্যান্য ফ্ল্যাগশিপ ফোনগুলোর তুলনায় মেট ৩০ প্রো ফোনের স্লো মোশন ক্ষমতা ৮ গুণ বেশি। এটিকে ‘আল্ট্রা স্লো মোশন’ ফিচার হিসেবে অভিহিত করেছে হুয়াওয়ে।
হুয়াওয়ে টিম কিভাবে এই সক্ষমতা অর্জন করেছে তার কিছু তথ্য জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী ব্রুস লি। তার মতে, হ্যান্ডসেটটি ০.১২ সেকেন্ডের ফুটেজ রেকর্ড করে, যা পরে ৩০ এফপিএস স্লো মোশন ভিডিওর ৩২ সেকেন্ডে প্রসারিত হয়। এটি ৭২০ পিক্সেল রেজ্যুলেশনে প্রতি সেকেন্ডে ৯৪৫ ফ্রেম ধারণ করতে পারে। ডাটা প্রসেসে ফোনটি পুরো চিপসেটকে কাজে লাগায় যেমন আইএসপি, সিপিইউ, জিপিইউ এবং এনপিইউ।
যাহোক, রেকর্ডিং শুরু করার মানব প্রতিক্রিয়ার সেরা সময় বাছাই করা প্রায় দ্রুত নয়। এর পরিবর্তে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে ফোনটির এনপিইউ ১ সেকেন্ডের ভিডিও বিশ্লেষণ করে যে, কখন ০.১২ সেকেন্ডর ক্লিপটি শুরু করতে হবে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয় ২ জিবির মতো র্যাম। পরিমাণটা বেশি মনে হলেও, সুখবর হচ্ছে মেট ৩০ প্রো ফোনে ৮ জিবি র্যাম রয়েছে। বলা যায়, এই পরিমাণ র্যাম মাল্টি টাস্কিংয়ের জন্য রেখে দেওয়ার পরিবর্তে তা ব্যবহার করার একটা ভালো উপায় খুঁজে পেয়েছে হুয়াওয়ে।
তথ্যসূত্র : গিজ চায়না
ঢাকা/ফিরোজ