আন্তর্জাতিক

বিষাক্ত মদে আলেকজান্ডারের মৃত্যু?

ডেস্ক রিপোর্টঢাকা, ১৩ জানুয়ারি : আলেকজান্ডার। ইতিহাসের পাতায় তার পরিচিতি ‘আলেকজান্ডার দ্যা গেট’ নামে। অপরাজিত সম্রাট, সুবিশাল সাম্রাজ্যের অধিপতি আলেকজান্ডারের জীবন সাফল্যের এক অবিশ্বাস্য কাহিনী, যা আজও সমান গুরুত্বে মুখে মুখে উচ্চারিত হয়।কিন্তু তার মৃত্যু নিয়ে বিতর্কের শেষ হয়নি আজও। সেই বিতর্কিত ইতিহাসেই এ বার আলোড়ন তুলেছে নতুন এক তত্ত্ব। এ তত্ত্বে বলা হচ্ছে, ম্যালেরিয়া বা বহু প্রচলিত বিষের প্রয়োগে নয়, ম্যাসিডোনিয়ার সম্রাটের প্রাণ কেড়েছিল এক বিষাক্ত মদ।শুনতে অদ্ভুত হলেও এই তত্ত্ব উড়িয়ে দিচ্ছেন না ইতিহাসবিদরা। ইতিহাস এবং বৈজ্ঞানিক তথ্যগুলিকে পর পর সাজিয়ে দুই হাজার তিনশ’ বছরেরও বেশি পুরনো এই রহস্য-মৃত্যু যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন নিউজিল্যান্ডের দুই গবেষক লিও স্কেপ এবং প্যাট উইটলে, তার পর তাকে গুরুত্ব না দিয়ে থাকা যায় না। এ নিয়ে সম্প্রতি নিজেদের গবেষণাপত্র ‘ক্লিনিক্যাল টক্সিকোলজি’ জার্নালে প্রকাশও করেছেন ওই দুই গবেষক।তাদের গবেষণায় উঠে এসেছে একটি নাম ‘ভেরাট্রাম অ্যালবাম’।উদ্ভিদ জগতের এক বিষাক্ত প্রজাতি হলো ভেরাট্রাম অ্যালবাম। স্কেপের দাবি, এই ভেরাট্রাম অ্যালবাম থেকেই তৈরি বিষাক্ত মদ পান করেছিলেন আলেকজান্ডার। আর তাতেই মৃত্যু হয়েছিল তার।বিষপ্রয়োগেই হত্যা করা হয়েছিল আলেকজান্ডারকে এ অবশ্য নতুন কোনো তত্ত্ব নয়। কিন্তু বিষ হিসেবে এত দিন আর্সেনিক বা স্ট্রিকনিন প্রয়োগের তত্ত্বই জনপ্রিয় ছিল ইতিহাসবিদদের মধ্যে। সেই তত্ত্বকে রীতিমতো হেসে উড়িয়ে দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের ওটাগো ইউনিভার্সিটির ন্যাশনাল পয়জনস সেন্টারের ওই দুই গবেষক। তাদের দাবি, যদি ওই বিষগুলোর কোনো একটাও ব্যবহার করা হতো, সে ক্ষেত্রে আরো দ্রুত মৃত্যু হতো আলেকজান্ডারের। কিন্তু ইতিহাস বলছে, তা হয়নি। ১২ দিন (মতান্তরে ১৪ দিন) ভুগে মারা গিয়েছিলেন সুবিশাল সাম্রাজ্যের এই অধিপতি।এই তথ্যকেই নিজেদের ব্যাখ্যার সমর্থনে ব্যবহার করেছেন স্কেপরা। তারা বলছেন, যেভাবে গলার স্বর এবং হাঁটাচলার ক্ষমতা হারিয়ে একটু একটু করে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন তিনি, তার পর আর যাই হোক, স্ট্রিকনিন বা আর্সেনিককে দায়ী করা যায় না। বরং ভেরাট্রাম অ্যালবাম থেকে তৈরি বিষাক্ত মদ পানেই এহেন মৃত্যু সম্ভব। গবেষকরা এও বলছেন, সে সময় বমি করানোর ওষুধ হিসেবে গ্রিসে ভেরাট্রাম অ্যালবাম থেকে তৈরি বিষের ব্যবহার বেশ জনপ্রিয় ছিল। স্কেপদের দাবি, তেতো স্বাদের বিষ মেশানো ওই মদ পান করেন আলেকজান্ডার। যার কারণেই বেশ কয়েক দিন ভুগে তার মৃত্যু হয়।কিন্তু তাকে চক্রান্ত করে বিষ দেওয়া হয়েছিল কি না, তা জানা নেই। জানার উপায়ও নেই।তবে চেষ্টা চলবেই। ঠিক যেমনভাবে চেষ্টা করেছেন স্কেপ। ওটাগো ইউনিভার্সিটির ন্যাশনাল পয়জনস সেন্টারে কাজ করতে করতেই এক সংস্থা ২০০৩-এ বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করতে অনুরোধ করেন স্কেপকে। তার ভাষ্য, ওই সংস্থাটিকে হ্যাঁ বলার পরও আমার মনে হয়েছিল, হয়তো কিছুই খুঁজে পাব না। কিন্তু শেষমেশ মিলল ভেরাট্রাম অ্যালবামের তত্ত্ব। সত্যি না মিথ্যা- বিতর্ক থাকবেই। ইতিহাস যাকে সর্বশ্রেষ্ঠ সম্রাটের তালিকার শীর্ষে রেখেছে, তার এমন মৃত্যু প্রশ্ন তৈরি করবে, সেটাই হয়তো স্বাভাবিক।

 

রাইজিংবিডি / রাসেল পারভেজ