ইরানের খ্যাতনামা পরিচালক মাজিদ মাজিদি। ২০১৫ সালে ইরানে মুক্তি পায় তার আলোচিত সিনেমা ‘মুহাম্মদ: দ্য মেসেঞ্জার অব গড’। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এর শৈশবের জীবন নিয়ে নির্মাণ করা হয় এই সিনেমা। ফলে সিনেমাটি নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্কে রয়েছেন এই পরিচালক।
ইসলাম ধর্মে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর কোনো ধরনের শারীরিক চিত্রায়ন নিষিদ্ধ। বিশেষ করে সুন্নি মুসলমানরা তা কঠোরভাবে মানেন। অন্যদিকে শতকরা ৯৫ ভাগ শিয়া মুসলমানদের দেশ ইরানে এই নিয়ম মেনেই সিনেমাটি নির্মাণ করা হয়। এতে হয়রত মুহাম্মদ (স.)-এর মুখ দেখাননি মাজিদি। মূলত অন্যদের মুখে মহানবীর গল্প শোনানো হয়েছে। তবে সুন্নীদের মতে, শুধু হযরত মুহাম্মদের (সা.) চিত্রই নয় বরং তার কাছের আত্মীয়-স্বজনের চরিত্রের চিত্রায়নও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া একটি দৃশ্য কিশোর মুহাম্মদ (স.)- এর চেহারার অবয়ব কিছুটা দেখা যায় বলে বিতর্ক রয়েছে।
ফলে সুন্নী আরব দেশগুলোতে এই সিনেমার মুক্তি নিয়ে বাঁধার সম্মুখীন হোন মাজিদি। সেইসঙ্গে মুসলিম সংখ্যালঘু রাষ্ট্রেও এ সিনেমা পায়নি মুসলিম আবেগকে গুরুত্ব দিয়ে। আর এবার এ তালিকায় যুক্ত হচ্ছে ভারতের নামও।
বহুল আলোচিত এই সিনেমা আগামী ২১ জুলাই ভারতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে হিন্দি ভাষায় মুক্তি পাওয়ার কথা। ‘মুহাম্মদ: দ্য মেসেঞ্জার অব গড’ সিনেমার সংগীত পরিচালনা করেছেন ভারতীয় সুরকার এ আর রহমান এবং সিনেমাটোগ্রাফার তিনবারের অস্কারজয়ী ভিত্তোরিও স্তোরারো। তবে সিনেমাটি যেন ভারতে মুক্তি না পায় সেজন্য কয়েকদিন ধরেই জোড়ালো দাবি জানিয়ে আসছে ইসলামী সংগঠন রাজা একাডেমি। তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এবার মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখ সিনেমাটি অনলাইনে মুক্তিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করার জন্য কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী রবি শঙ্করকে চিঠি পাঠিয়ে অনুরোধ করেছেন।
চিঠিতে মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেখেন, ‘এই সিনেমা যদি নির্ধারিত দিনে মুক্তি পায়, তাহলে এটি একটি সম্প্রদায়ের বিশ্বাসে এবং ভাবাবেগে আঘাত হানতে পারে। সিনেমাটি ধর্মীয় অস্থিরতা তৈরি করতে পারে যার জন্য দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। ইনফরমেশন টেকনোলজি আইনের ৬৯ ধারা প্রয়োগ করে আমরা সবরকম ডিজিট্যাল প্ল্যাটফর্মে এই সিনেমার মুক্তিতে নিষেধাজ্ঞা জানানোর আবেদন জাানাচ্ছি। সেইসঙ্গে অনুরোধ জানাচ্ছি, ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতেও এই সিনেমার মুক্তিতে যেন নিষেধাজ্ঞা জারি করার নির্দেশিকা জারি করা হয়।’
এর আগে রাজা অ্যাকাডেমির বিরোধীতার কারণে ২০১৫ সালে চলচ্চিত্রটি ভারতীয় হলে মুক্তির ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। এবার অনলাইনে মুক্তির ব্যাপারেও তীব্র আপত্তি জানিয়েছে সংগঠনটি। তবে ২০১৮ সালে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে উত্সবে প্রদর্শিত এবং ব্যাপক প্রশংসিত হয় মাজিদির এই সিনেমা। ঢাকা/ফিরোজ