করোনা মহামারির এ সময়ে রোগীদের সেবা নিশ্চিতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির টেলিমেডিসিন সার্ভিস দিচ্ছে আইহেলথস্ক্রিন বাংলাদেশ। এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইহেলথস্ক্রিন ইনকরপোরেশনের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠানটি সর্বাধুনিক প্রযুক্তির প্ল্যাটফর্ম ‘মাইহেলথ’ টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে বাংলাদেশের দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিচ্ছে। এছাড়া উন্নত বিশ্বে প্রচলিত ডিজিটালাইজড স্বাস্থ্য তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থাও নিয়ে এসেছে।
চিকিৎসা সেবার নানা ক্ষেত্রে কাজ করছে মাইহেলথ। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি হলো: ১. টেলিমেডিসিন, ২. ইলেকট্রনিকহেলথ রেকর্ড (ইএইচআর), ৩. ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন, ৪. আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ভিত্তিক ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি, এইজ রিলেটেড ম্যাসকিউলার ডিজেনারেশন ডিজিজ (এ.এম.ডি) এবং গ্লুকোমা (অন্ধত্বের প্রধান কারণ) ৫. আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সভিত্তিক অন্যান্য রোগ (স্ট্রোক, হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিস) নির্ণয় এবং আগের থেকেই অনুমান করার ব্যবস্থা এবং ৬. রোগীর তথ্য সংরক্ষণ এবং সহজে ফাইল শেয়ারিং ও রেফারেন্স।
বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও রোগী সুবিধামতো সময়ে কথা বলতে পারেন ফোন, ইন্টারনেট অনলাইন ও অ্যাপের এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। এখানে চিকিৎসক যেমন রোগীর কাছ থেকে মুহূর্তেই প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে নিতে পারেন, তেমনি রোগীও দ্রুত পান জরুরি পরামর্শ। রোগী নিজেও সুবিধাজনক সময়ে চিকিৎসা সেবা পাওয়ার জন্য অনুরোধ জানাতে পারেন।
এই টেলিমেডিসিন প্ল্যাটফর্মের কিছু সুবিধা হচ্ছে-
রোগীর স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য সংরক্ষণ (ইএইচআর): উন্নত বিশ্বে এই ব্যবস্থা থাকলেও বাংলাদেশে ডিজিটালাইজড স্বাস্থ্য তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। কোনো চিকিৎসকের কাছে গিয়ে রোগীকে তার আগের সব স্বাস্থ্যতথ্য মৌখিকভাবে জানাতে হয়। এক্ষেত্রে রোগী অনেক তথ্য ভুলে গিয়ে থাকতে পারেন। কিংবা কাগজে লেখা প্রেসক্রিপশন হারিয়ে ফেলতে পারেন। প্রেসক্রিপশনে বিস্তারিত সব তথ্য লেখার সুযোগও নেই। মাইহেলথে তথ্য সংরক্ষণ একেবারেই সুরক্ষিত একটি ব্যবস্থা। ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ডে (ইএইচআর) স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে রোগীর পারিবারিক রোগ বিবরণী যেমন থাকবে, তেমনি রোগীর নিজের রোগ সম্পর্কিত সব তথ্যও সংরক্ষণ করা হয়। ফলে চিকিৎসক খুব দ্রুত ও নিখুঁতভাবে রোগীকে চিকিৎসা পরামর্শ দিতে পারেন।
ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন: মাইহেলথের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা প্রেসক্রিপশন দিচ্ছেন ডিজিটাল পদ্ধতিতে। স্টাইলাস পেনের সাহায্যে নিজেরা হাতে লিখে অথবা কম্পিউটার কিবোর্ডে টাইপ করে। রোগী ও ডাক্তার মুখোমুখি হয়ে যেভাবে প্রেসক্রিপশন লিখে দেন, পরস্পর পরস্পর দূরে থেকেও ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন মিলবে মাইহেলথ সেবায়, যা সহজেই ডিভাইসে ডাউনলোড ও প্রিন্ট করা যায়।
তথ্য আদান-প্রদান: মাইহেলথে ফাইল শেয়ারিং ও রেফারেন্স ব্যবস্থায় চিকিৎসক চাইলে তার রোগীর তথ্য সম্বলিত ফাইলসহ মাইহেলথে নিবন্ধিত অন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে রেফার করতে পারবেন।
চোখের বিভিন্ন সমস্যা নির্ণয়: মাইহেলথের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন হলো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিভিত্তিক সফটওয়্যার, যার সাহায্যে নিখুঁতভাবে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি (ডিআর), এইজ রিলেটেড ম্যাসকিউলার ডিজেনারেশন ডিজিজ (এ.এম.ডি) এবং গ্লুকোমা নির্ণয় করা যাবে। আক্রান্ত হওয়ার আগে বা শুরুতেই প্রতিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ করে ডিআর আক্রান্ত রোগীদের ৯০ ভাগকে অন্ধত্ব থেকে রক্ষা করা যায়। অ্যাসোসিয়েশন অব রিসার্চ অ্যান্ড ভিশন (এআরভিও)-এর মাধ্যমে বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষিত ও অনুমোদিত এই সফটওয়্যার। নিরীক্ষণ নির্ভুলতার হার ৯৮ শতাংশ।
বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সঙ্গে এ নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে, সমিতির পক্ষ থেকে যার অর্থায়নও করা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির নিবন্ধিত ৫০ লাখ রোগীর ডিআর পরীক্ষা করবে আইহেলথস্ক্রিন। শুধু তাই না, এর সাথে থাকছে আরও রোগ নির্ণয়ের সুবিধা; যেমন- এ.এম.ডি, যা প্রাথমিক পর্যায় নির্নয় করা সম্ভব এবং ধরা পড়বে গ্লুকোমা সমস্যা।
এছাড়া মাইহেলথের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সফটওয়্যারের সাহায্যে অন্যান্য রোগেরও পূর্বানুমান করা যায়। যেমন রোগীর স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কতটুকু তা আগেই নির্ণয় করা যাবে।
আইহেলথস্ক্রিন ইনকরপোরেশন ইউএস এর প্রতিষ্ঠাতা, প্রধান বিজ্ঞানী ও সিইও হলেন বাংলাদেশের ড. মো. আলাউদ্দীন ভূঁইয়া। তিনি নিউইয়র্কের আইকান স্কুল অব মেডিসিন মাউন্ট সিনাইয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞ। হার্ভাড স্কলার এবং নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বের খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করা এই বাংলাদেশি বর্তমানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সসহ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করছেন। নিজ দেশে আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি ও চিকিৎসার সেবা প্রদানের লক্ষ্যে এরই মধ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন আইহেলথস্ক্রিন বাংলাদেশ।
ড. ভূঁইয়া বলেন, দেশ বিদেশের অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সহজ প্রাপ্তি নিশ্চিত করবে মাইথেলথ। আমরা দৃঢ় প্রত্যয়ী যে, মাইহেলথের অ্যাপ্লিকেশন বাস্তবায়নে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এবং সেবা প্রত্যাশী উভয়েই সুবিধা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা পাবেন। আর করোনার এই সময়ে স্বাস্থসেবা সবার জন্য নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে মাইহেলথ সবার জন্য অপার সুবিধা বয়ে আনবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
ঢাকা/ফিরোজ