সারা বাংলা

ভ্রাম্যমাণ ঘানিতে খাঁটি সরিষার তেল

কাঠের ঘানি এবং সেই ঘানি গরু দিয়ে ঘুরিয়ে সরিষা মাড়াই করে তেল বের করা- এখন রূপকথার গল্পের মতো।

এর পরে আসে মেশিন দিয়ে মাড়াই করার পদ্ধতি। এতে সরিষা নিয়ে গিয়ে মেশিনে মাড়াই করে তেল আনতে হয়। সেই কাজ আরো সহজ করতে এসেছে ভ্রাম্যমাণ মাড়াই মেশিন। এই মেশিন হাজির হয় কৃষকের বাড়ির দ্বারে।

হবিগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ ঘানি নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে হাজির হন আব্দুল খালেক। জেলার হাট-বাজারে দেখা যায় তাকে। এই ঘানি শ্যালো মেশিনচালিত।

বাহুবল উপজেলার ইজ্জতনগরের বাসিন্দা আব্দুল খালেক জানান, বছরখানেক আগে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঘানি মেশিনটি কেনেন। এরপর থেকে জেলার গ্রামে, হাট-বাজার ছাড়াও পাশের মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় নিয়ে যান। প্রতিমণ সরিষা মাড়াই করে পান ৪০০ টাকা।

তিন কেজি সরিষা মাড়াই করে এক কেজি তেল পাওয়া যায়। তিনি নিজেও সরিষা কিনে তা মাড়াই করে খাঁটি তেল ১৬০ টাকা কেজিদরে বিক্রি করেন। আর প্রতিকেজি খৈল বিক্রি করেন ৪০ টাকায়। খাঁটি হওয়ায় মানুষ তার কাছ থেকে তৈল কেনেন।

সরিষা মাড়াই করে খালেক প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা আয় করেন। এই আয় দিয়ে তার সংসার চলে।

গাড়ি চালক রুস্তম আলী খাঁটি তেল কিনতে এসেছেন বাহুবল উপজেলার মিরপুর বাজারে। তিনি বলেন, এখন সব কিছুতে ভেজাল। সরিষা মাড়াই করে তেল তৈরি হচ্ছে- নিজ চোখে দেখে সেই তেল কিনলেন।

পরিবেশ প্রেমিক শাকিল চৌধুরী বলেন, কালের বিবর্তনে গরুর ঘানি হারিয়ে গেছে। ভেজালমুক্ত তেল পাওয়া এখন দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে চোখের সামনে মাড়াই করা তেল পেয়ে অনেকে স্বস্তি পান।

 

ঢাকা/বকুল