ক্যাম্পাস

প্রচলিত আইনে অনলাইন ব্যবসা

অনলাইন নির্ভর ব্যবসা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর আরেক নাম ই-কমার্স। ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে অনলাইনে কেনা-বেচা হয়। ফেসবুক, বিভিন্ন ওয়েবসাইট, ইউটিউব ও গুগলসহ নানা ধরনের অনলাইন মাধ্যম ব্যবহৃত হয়ে থাকে এসব ব্যবসায়। জনপ্রিয়তাও পাচ্ছে এই অনলাইনে ব্যবসা। আগামীতে এই ব্যবসার পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে।

এখানে বিক্রেতা তার পণ্যের ছবি কিংবা ভিডিওতে বিস্তারিত তথ্যসহ বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাকে আকৃষ্ট করেন। ক্রেতা তার পছন্দের পণ্য অর্ডার করে হোম ডেলিভারি পেয়ে থাকেন। নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা কিংবা অফার প্রদান করে থাকে প্রতিষ্ঠানগুলো। আমাদের মতো দেশে ক্রেতারা কেবল বিজ্ঞাপনের ওপর বিশ্বাস করেই পণ্য কেনেন। ক্রেতার পণ্যের মান যাচাইয়ের তেমন সুযোগ নেই। তাই ক্রেতাদের প্রতারিত হওয়ার সুযোগ থাকে বেশি।

তাছাড়া অনেকে প্রিপেইড করে সঠিক সময় পণ্য পান না। আবার অনেকে পণ্যই পান না। অনলাইন ব্যবসাতে যেমন ভালো দিক আছে, তেমনি মন্দ দিকও আছে। এই ভালোমন্দ মিলিয়ে বর্তমানে অনলাইন ব্যবসা দেশে একটি জনপ্রিয় ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। ছোট পরিসরে অনেক উদ্যোক্তা এসেছে।

বাংলাদেশে যে কোনো ব্যবসা করতে ট্রেড লাইসেন্স করতে হয়। অনলাইন ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত আলাদা নীতিমালা হয়নি। কিন্তু যেহেতু এটাও একটি ব্যবসা, এর জন্যও তাই ট্রেড লাইসেন্সের ব্যবস্থা থাকা উচিৎ। এখানে ব্যবসায়ীরা প্রচুর আয় করেন। তাই আয়করের বিষয়টিও এখানে জড়িত। তবে সরকারি বিধিমালা ও সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করে সবকিছু।

২০০৯ সালে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন জারি করা হয়েছে। এই আইনের উদ্দেশ্য- কোনো ক্রেতা কোনোভাবে প্রতারিত যাতে না হয় এবং আইনত নিষিদ্ধ পণ্য বিক্রি করা না হয় কিংবা সরবরাহসহ ব্যবস্থায় ক্রেতার কোনো ক্ষতি না হয় হত্যাদি। অনলাইনে বিশ্বাস করে কোনো পণ্য ক্রয় করে ক্রেতারা। এসব ক্ষেত্রে প্রতারিত হতে পারেন সাধারণ ক্রেতারা। বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪১৫ ধারা অনুযায়ী প্রতারণা দণ্ডনীয় অপরাধ। ৪১৭ ধারা অনুযায়ী, যে প্রতারণা করবে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

ভোক্তা অধিকার আইনে ৩৭ ধারা থেকে ৫৬ ধারায় পণ্য বিক্রি ও ক্রয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধিবিধান রয়েছে। পণ্যের বিস্তারিত তথ্য ও তথ্যের সঙ্গে পণ্যের সামঞ্জস্যতা থাকতে হবে। অন্যথায় এটা প্রতারণা হিসেবে গণ্য হবে। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্য থাকতে হবে। তা প্রদর্শন করতে হবে। ভেজাল পণ্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোনো পণ্যে ভেজাল মিশানো যাবে না। অবৈধ পণ্য বাজারজাতকরণ, মিথ্যা বিজ্ঞাপন ও প্রতিশ্রুতি, যথাযথ ও প্রতিশ্রুতভাবে সেবা প্রদান না করাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য বেআইনি প্রথা অবলম্বন করে ব্যবসা করলে তাতেও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করতে পারবেন ক্রেতারা।

সাধারণত ভোক্তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সরকারের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তি দ্বারা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। এই আইনের মজার বিষয় হলো এর ৭৬ ধারা। এখানে অভিযোগকারী ভোক্তাকে মোট জরিমানার ২৫ শতাংশ দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

উদ্যোক্তা হওয়া সহজ বিষয় নয়। একজন উদ্যোক্তা প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত হওয়া মোটেও কাম্য নয়। বর্তমান যুগে অনলাইনে ব্যবসা একদিকে যেমন লাভজনক, অন্যদিকে আর্কষণীয়। পছন্দনীয় পণ্য ক্রয় করে যদি ক্রেতা প্রতারণার স্বীকার হন, এটা ক্রেতার জন্য কষ্টকর। তেমনি বিক্রেতার জন্যও এটা অশনি সংকেত। একজন বিক্রেতার ভুলের দায়ভার সব বিক্রেতার ওপর এসে পড়ে।

লেখক: শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

বাউবি/আজহার/মাহফুজ/মাহি