সারা বাংলা

ধ্বংসের মুখে ঐতিহাসিক মত্তের মঠ (ভিডিও)

পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ধ্বংসের মুখে দুইশ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক মত্তের মঠ।

মানিকগঞ্জ জেলা সদর থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মঠ। বৈচিত্র্যময় নির্মাণশৈলী আর কারুকার্য খচিত নকশার কারণে এ মঠের সুনাম রয়েছে দেশেজুড়ে। এ মঠের তিনশ গজের ভেতরেই অবস্থিত প্রখ্যাত নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. অমর্ত্য সেনের বাড়ি। 

জনশ্রুতি রয়েছে, এ গ্রামে বসবাস করা হেমসেন নামের এক অত্যাচারী জমিদার দুইশ বছর আগে এ মঠটি নির্মাণ করেন। তার শাসনামলে কেউ জুতা পায়ে দিয়ে, ছাতা মাথায় দিয়ে চলাচল করতে পারতেন না। এছাড়া, এ মঠের সামনে দিয়ে কেউ সাইকেল নিয়ে যাতায়াত করতে পারতেন না। তবে তিনি ছিলেন পিতৃভক্ত। বাবার মৃত্যূর পর শেষকৃত্যের ওই স্থানে স্মৃতি ধরে রাখতে এ মঠটি নির্মাণ করেন।

আবার এ বিষয়ে আরেক জনশ্রতি রয়েছে, হেমসেনের মেয়ে বিয়ে হওয়ার পর বাবার জন‌্য কান্নাকাটি করতেন। দূর থেকে এ সুউচ্চ মঠটি দেখে যাতে বাবার কাছাকাছি আছি বলে মনে হয় তার জন্য জমিদার হেমসেন এ মঠ নির্মাণ করেন।

স্থানীয়রা জানান, নিটল দিঘীর পাড়ে প্রায় ১৫ শতাংশ জমির ওপর এ মঠ নির্মাণ করা হয়। মঠ নির্মাণ করতে ইরাক থেকে কারিগর আনা হয়। মঠটির উচ্চতা ও কারুকার্যময় সৌন্দর্যের জন্য তৎকালীন সময়ে অবিভক্ত পূর্ব বাংলার অন্যতম নিদর্শন হিসেবে বেশ কদর ছিল। ১৩২৬ সালে আশ্বিন মাসের ঝড়ে মঠের ২০ ফুট অংশ ভেঙে নিটল দিঘীতে পড়ে যায়। তারপর মঠের মাথায় বসানো ৫টি সোনার কলস আর পাওয়া যায়নি।

কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন বলেন, ‘সবার কাছে শুনেছি এ মঠটি দুইশ বছরেরও আগে তৈরি। এখন মঠের কারুকার্যময় প্রায় সব অংশই খসে পড়েছে। এতে করে এ মঠটি যেকোনো সময় ধসে যেতে পারে।’ 

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আইজুদ্দিন জানান, এ মঠটি বহু বছরের পুরনো। বাবা-দাদাদের কাছ থেকে মঠ নিয়ে অনেক গল্প শুনেছি। এই এলাকার তৎকালীন জমিদার এ মঠটি নির্মাণ করেন। দেশ ভাগের পর বা তারও আগে জমিদাররা দেশ ত্যাগ করেন। এখনো দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মঠটি দেখতে প্রায়ই লোকজন আসে। তবে দিন দিন এ মঠের সবকিছু শেষ হয়ে যাচ্ছে।

খান বাহাদুর আওলাদ হোসেন খান কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সাইফুদ্দিন নান্নু জানান, বিভিন্ন সময় মঠ পরিদর্শনে আসা অনেক গবেষক মত্ত মঠের গঠনশৈলী দেশের অন্যান্য মঠের চেয়ে আলাদা ও বৈচিত্রময় কারুকার্যে করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। এ মঠের গঠন কৌশল পুরোটাই আলাদা ও ব্যতিক্রম। মঠটি মানিকগঞ্জের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক বাহক। এ মঠটি সংরক্ষণে সবার এগিয়ে আসা উচিত।

 

পৌর মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিম জানান, মত্ত মঠটি মানিকগঞ্জের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। এ মঠটি রক্ষণাবেক্ষণ ও দর্শনার্থীদের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করার জন্য প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তবে এখনো তাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। প্রত্নতত্ব বিভাগ কোনো ধরনের ব্যবস্থা না নিলেও পৌরসভার পক্ষ থেকে এ ঐতিহ্য রক্ষা করার জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।