অর্থনীতি

মীর আক্তারের ঋণ বাড়ছে, মুনাফায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা 

মীর আক্তার হোসাইন কোম্পানি লিমিটেড প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে ১২৫ কোটি টাকা তুলে নিয়ে পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু করেছে। পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলন করলেও ব্যাংকঋণ দিন দিন বাড়ছে কোম্পানিটির। সেই ঋণের সুদ দিতে গিয়ে মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

প্রকৌশলখাতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসা মীর আক্তার হোসাইন লিমিটেড ব্যাংক ঋণের নির্ভরতা কমাতে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছে। পুঁজিবাজারে আসতে কোম্পানিটি ২০১৮ সালে রোড শো করে। দুই বছর পর ২০২০ সালে আইপিওর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছে। ব্যাংকঋণ নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে যেখানে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করছে, সেখানে আলোচ্য সময়ের মধ্যে কোম্পানির ব্যাংকঋণ বেড়েছে। এই ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে পুঁজিবাজারে এসেছে কোম্পানিটি।

কোম্পানির প্রসপেক্টাস পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানির ব্যাংকঋণ ছিল ১ হাজার ২৭১ কোটি ৫ লাখ ৩২ হাজার টাকা। এরমধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ছিল ৯৯৯ কোটি ৮৩ লাথ ১৮ হাজার টাকা এবং স্বল্প মেয়াদি ২৭১ কোটি ২২ লাখ ১৩ হাজার টাকা।

গত বছর মার্চ মাস শেষে কোম্পানির ব্যাংকঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৭৫ কোটি ৫১ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। এরমধ্যে দীর্ঘ মেয়াদি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৭৪ কোটি ৯৫ লাখ ৩৬ হাজার টাকা এবং স্বল্প মেয়াদি ৪০০ কোটি ৫৬ লাখ ৪২ হাজার টাকা।

নয় মাসের ব্যবধানে ব্যাংকঋণ বেড়েছে ৩০৪ কোটি ৪৬ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। এরমধ্যে দীর্ঘ মেয়াদি ঋণ বেড়েছে ১৭৫ কোটি ১২ লাখ ১৭ হাজার টাকা এবং স্বল্প মেয়াদি ১২৯ কোটি ২৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা। এ সব ঋণের সুদের হার দিন দিন বাড়ছে। যা মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে কোম্পানির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) পরিমল কুমার সরকার রাইজিংবিডিকে বলেন, কোম্পানির প্রজেক্ট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঋণ পরিশোধ করে দেওয়া হবে। তাতে ঝুঁকির কিছু নেই বলে জানান তিনি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পেশাদার, অভিজ্ঞ ও দক্ষ প্রকৌশলীদের দিয়ে চলছে মীর আক্তার হোসাইন লিমিটেড। কোম্পানিটি আধুনিক প্রযুক্তি দ্বারা প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করে থাকে। কিন্তু কোম্পানির ঋণভিত্তিক মূলধন কাঠামো। ইক্যুয়িটির প্রবৃদ্ধি সম্পদের প্রবৃদ্ধির তুলনায় কম। ফলে সময় যত গড়াবে তত দায় বৃদ্ধি পাবে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু আহমেদ রাইজিংবিডিকে বলেন, অতিরিক্ত ব্যাংকঋণ নিয়ে যেসব কোম্পানি অতীতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে, সেগুলো আর্থিক প্রতিবেদন দেখলে সহজে ঋণের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। মুনাফা হওয়ার পর আগে ঋণের সুদ পরিশোধ করে এরপর শেয়ারহোল্ডাদের লভ্যাংশ দেবে। সে ক্ষেত্রে ঋণ কম থাকলে বিনিয়োগকারীরা সুফল পায়।

মীর আক্তার হোসাইন লিমিটেড আইপিওর মাধ্যমে ১২৫ কোটি টাকা উত্তোলন করে ভারি যন্ত্রপাতি কেনা, ভবন নির্মাণ, দুটি প্লান্ট ওয়্যারহাউজ এবং ওয়ার্কশপ নির্মাণ করবে। এছাড়াও ৪০ কোটি টাকা দিয়ে ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করবে। যা মোট ঋণের অনুপাতে অনেক কম।

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুর রাজ্জাক রাইজিংবিডিকে বলেন, মীর আক্তার হোসাইন ওয়ার্ক অর্ডারের ওপর ভিত্তি করে ঋণ নিয়ে থাকে। যদি সেই ঋণ স্বল্প মেয়াদি হয় এবং প্রজেক্ট শেষ হলে তা পরিশোধ করে দেয় তাহলে ভালো। আর যদি দীর্ঘ মেয়াদি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যায়, তাহলে তা বিনিয়োগকারীদের জন্য সুফল বয়ে আনবে না।