পজিটিভ বাংলাদেশ

বিনামূল্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেবেন রেজওয়ান করিম 

অনলাইনে বিনামূল্যে ফ্রিল্যান্সিং কাজ শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছেন রেজওয়ান করিম। বর্তমানে তিনি ফিনল্যান্ডের একটি স্টার্টআপের সঙ্গে ডাটা অ্যানালিস্ট হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তার দীর্ঘ সংগ্রাম ও অভিজ্ঞতার আলোকে দেশের তরুণদের মাঝে ফ্রিল্যান্সিং ছড়িয়ে দিতেই এই উদ্যোগ নিয়েছেন। 

তার মতে, ইংরেজিতে দক্ষ যে কেউ ইন্টারনেট সংযুক্ত পিসি থাকলে ঘরে বসে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে শিখতে পারবে গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়ার্ড প্রেস, এসইও, ই-মেইল মার্কেটিং এবং আর্টিকেল রাইটিংসহ অনলাইনের সবধরনের কাজ। তবে এজন্য প্রয়োজন ধৈর্য আর নিরলস প্রচেষ্টা। 

ফ্রিল্যান্সিং করে সফল হওয়া ২৯ বছর বয়সী রেজওয়ান করিমের বাড়ি ঢাকার কাফরুলে। সেখানেই বেড়ে ওঠা। ছোটবেলা থেকেই তার তথ্য-প্রযুক্তির প্রতি ঝোঁক ছিল। বাবার কম্পিউটার থাকায় ২০০০ সাল থেকে কম্পিউটার চালানোর হাতেখড়ি হয়। মূলত কম্পিউটারের প্রতি আগ্রহটা তৈরি হয় সেখান থেকেই।

এরপর ২০১৫ সালে অ্যারোনটিক্যাল ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ থেকে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেন। বাবা বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে প্রকৌশলী হিসাবে কর্মরত রয়েছেন। মা একজন গৃহিণী। ছোট বোন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন।

ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় কীভাবে, জানতে চাইলে রেজওয়ান করিম বলেন, পড়াশোনা শেষ করে চাকরি পাচ্ছিলাম না। তখন চিন্তা করি, চাকরির জন্য অপেক্ষা করবো না। নতুন কিছু শেখা শুরু করবো। আমার যেহেতু ছোটবেলা থেকেই টেকনলোজিতে ঝোঁক ছিল, তাই ঘাটাঘাটি শুরু করলাম এটাকে কীভাবে প্রফেশনাল কাজে ব্যবহার করা যায়। এরপর ২০১৬ সালে সিদ্ধান্ত নিলাম ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার। তখন আমার জন্য সবচেয়ে সহজ যে ক্যাটাগরি ছিল, তা হচ্ছে ওয়েব রিসার্চ। আমি ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য ওয়েব রিসার্চকে নির্বাচন করলাম। ইউটিউব টিউটোরিয়াল দেখে অ্যাকাউন্ট তৈরি করলাম আপওয়ার্কে। আমার প্রথম কাজটা ছিল ৭৫ ডলারের। কাজটি পেয়েছিলাম, প্রথম তিন মাস কাজে বিড করার পর। সে প্রজেক্ট সম্পূর্ণ করতে আমি সাতদিন সময় নিয়ে ছিলাম। এভাবে ধারাবাহিকভাবে দীর্ঘদিন কাজ করলাম বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং সাইটে।

দীর্ঘ এই পাঁচ বছরে শতাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্টে কাজ করেছেন রেজওয়ান করিম। তার মধ্যে ব্লুমবার্গ (Bloomberg), আপকাউন্সিল (Upcounsel), ওয়েফেয়ার (Wayfair) অন্যতম। সম্প্রতি তাকে টপ রেটেড প্লাস ফ্রিল্যান্সার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে আপওয়ার্ক। 

১ সেপ্টেম্বর ২০২০ সালে ফিনল্যান্ড ভিত্তিক একটা স্টার্টআপ থেকে ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাক আসে রেজওয়ান করিমের। সুযোগ মেলে ১ মাস ইন্টার্নশিপের। কাজের দক্ষতা ও অগ্রগতি দেখে ফুলটাইম ডাটা অ্যানালিস্ট হিসেবে যুক্ত করা হয় তাকে। এরপর থেকে সেখানেই কর্মরত আছেন।

রেজওয়ান করিম ফ্রিল্যান্সিংয়ের পাশাপাশি গান তৈরি করে নিজের ভেরিভাইড স্পটিফাই প্রোফাইল ও ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করেন।  পিয়ানো বাজানো তার শখ, তাই অবসর সময় কাটান পিয়ানো বাজিয়ে।

রেজওয়ান করিম বলেন, ফ্রিল্যান্সিং শেখানোর নামে আমাদের দেশে অসুস্থ একটা প্রতিযোগিতা চলছে। অনেক টাকা কামানো যায় ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে, এ ধরনের লোভ দেখিয়ে একটি চক্র লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তরুণদের কাছ থেকে। হ্যাঁ, টাকা উপার্জন অবশ্যই সম্ভব। তবে, তা একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা উপার্জন করা সম্ভব, তার জন্য প্রয়োজন তিনটা বিষয়—এক. কঠোর পরিশ্রম, দ্বিতীয়ত. মেধা এবং পরিশেষে ধৈর্য।

রেজওয়ান করিম তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানান, দেশের তরুণদের জন্য বিনামূল্যে ফ্রিল্যান্সিং শেখার ব্যবস্থা করতে চান। তার অভিজ্ঞতার আলোকে অবসর সময়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অনলাইনে ট্রেনিং করাবেন। তার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় যদি কিছু বেকার তরুণের কর্মসংস্থান হয়, তবে সেটাই তার সাফল্য।