বর্তমান সরকারের ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ শীর্ষক কর্মসূচি অনুযায়ী প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করে দেশের ইকোসিস্টেমের উন্নয়ন এবং যুবদের আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে যাচ্ছে সরকার।
আর তাই ২০৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। যা বাস্তবায়নে কাজ করবে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।
প্রকল্পটি সম্পর্কে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর জানায়, বর্তমান সরকারের ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ শীর্ষক কর্মসূচি চলছে। তাই সে অনুযায়ী প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করে দেশের ইকোসিস্টেমের উন্নয়ন এবং যুবদের আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। প্রকল্পটি দেশের ৬৪টি জেলার ৪৯২টি উপজেলা বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে জানুয়ারি ২০২১ হতে ডিসেম্বর ২০২৩ সাল পর্যন্ত। আর এর মোট প্রকল্প ব্যয় সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে করা হবে। প্রকল্পটি ২০২১-২২ অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত আছে (পৃষ্ঠা নং-৫৩৯, ক্রমিক নং-৫১০)।
প্রধান কার্যক্রমসমূহ সম্পর্কে অধিদপ্তর জানায়, (ক) ৬৪,০০০টি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন; (খ) খামার স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি (প্রতি খামারে ২ জন হিসেবে ১,২৮,০০০ জন); (গ) প্রশিক্ষণ প্রদান (১,৪৭,৬০০ জন) ও কর্মশালা আয়োজন; (ঘ) রিভলভিং ক্রেডিট ফান্ড পরিচালনা (১২৫ কোটি টাকা); (ঙ) যানবাহন ও যন্ত্রপাতি ক্রয়। ১০. পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সাথে সংগতিপূর্ণতা: ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় যুবসমাজকে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে যুবসম্পদে রূপান্তর করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিতকরণ ও উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান এবং আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যার সাথে প্রকল্পটি সঙ্গতিপূর্ণ।
পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম বলেন, প্রকল্পটি পরিবেশবান্ধব এবং জনমুখী। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের ৬৪টি জেলার সব উপজেলায় বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের মাধ্যমে রান্না ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ কমিয়ে দেশের ইকোসিস্টেমের উন্নয়ন করা সম্ভব হবে। তাছাড়া, ক্ষুদ্রঋণ সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে খামার এবং বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের ফলে গ্রামীণ যুবদের আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ বিস্তারে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।