খেলাধুলা

ত্রয়ীর হাতেই বিশ্বকাপ ভাগ্য

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ স্কোয়াডে একঝাঁক তরুণ ক্রিকেটার রয়েছে। রয়েছেন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারও। তবে সপ্তম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার অপেক্ষায় থাকা মাহমুদউল্লাহ, সাকিব ও মুশফিকই ভরসার নাম।

লিটন, সৌম্য, তাসকিন, মোস্তাফিজ দলের অন্যতম সেরা অস্ত্র। আফিফ, নাঈম, মেহেদী, শরিফুল, নাসুমরা নিশ্চিতভাবেই দলের শক্তি বাড়িয়েছেন। তরুণদের হাতে স্বপ্নের মশাল। তবে ভরসা হয়ে উঠতে পারেননি এখনও। সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও পারফরম্যান্সে তারা কেউই ধারাবাহিক নন। তাইতো প্রশ্নবোধক চিহ্নটা নামের পাশ থেকে সরেনি এখনো। তাইতো মাহমুদউল্লাহ, সাকিব ও মুশফিকের উপর বিশাল দায়িত্ব।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ও যাত্রা এ তিন ক্রিকেটারের উপর অনেকটা নির্ভর করবে বলেই মনে করছেন জাতীয় দলের সাবেক কোচ সারোয়ার ইমরান, ‘এটা নিশ্চিত যে সাকিব, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর পারফরম্যান্স বড় প্রভাব রাখবে। মাহমুদউল্লাহ এখন অধিনায়কও। দুই বছর তার অধীনেই ছিল দলটি। তার দায়িত্বটা বেশি। মুশফিক বরাবরই আমাদের ব্যাটিংয়ের স্তম্ভ। মধ্যভাগে তার ব্যাটিংয়ের দিকে তাকিয়ে থাকবে বাংলাদেশ। সাকিব বরাবরই আমাদের সুপারস্টার। ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগে সাকিবের বিকল্প নেই। তারা পারফর্ম করলে এবং তরুণরা নিজেদের দেওয়া দায়িত্বটা ঠিকমতো পালন করলে বিশ্বকাপে ভালো করা সম্ভব।’ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সাকিব বাদে মুশফিক, মাহমুদউল্লাহর পারফরম্যান্সও খুব সন্তোষজনক নয়। মুশফিক ২৫ ম্যাচে করেছেন মাত্র ২৫৮ রান। মাহমুদউল্লাহ ২২ ম্যাচে ১৯৪ রান। বল হাতে পেয়েছেন ৮ উইকেট। অন্যদিকে সাকিব ২৫ ম্যাচে ৫৬৭ রান করেছেন। উইকেট পেয়েছেন ৩০টি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে সাকিবের রেকর্ড ঈর্ষণীয়। কমপক্ষে ৩০ উইকেট ও পাঁচশ’র বেশি রান করা দুই খেলোয়াড়দের তালিকায় সাকিব রয়েছেন প্রথমে। পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদি ব্যাটিংয়ে ৫৪৬ রান ও বোলিংয়ে ৩৯ উইকেট নিয়েছেন।

বলার অপেক্ষা রাখে না টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষ অলরাউন্ডার সাকিবের উপরই চোখ থাকবে সবার। তার দিকে তাকিয়ে থাকবে বাংলাদেশও। বিশ্বকাপ হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে। ওমানে বাছাই বা প্রথম পর্ব খেলে বাংলাদেশকে সুপার টুয়েলভে খেলতে হচ্ছে। আইপিএল খেলতে সাকিব রয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে। ম্যাচ খেলতে না পারলেও দলের সঙ্গে নিয়মিত অনুশীলন করে সাকিব নিজের মতো করেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফলে রান ও উইকেটের ক্ষুধায় যে সাকিব মত্ত থাকবেন তা অজানা নয়।

বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের কোচও বললেন একই কথা, ‘সাকিব খেলতে পারছে না। কিন্তু তার প্রস্তুতি কিন্তু থেমে নেই। আমি তো মনে করি বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে সেরা প্রস্তুতি সাকিব পাচ্ছে। মোস্তাফিজও পাচ্ছে। ম্যাচ খেলতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু আইপিএলের মতো টুর্নামেন্টে দলগুলোর যে পেশাদারিত্ব, প্রস্তুতি সেটাকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিকের পারফরম্যান্স সন্তোষজনক না হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তারা ভালো সময় কাটাচ্ছেন। মাহমুদউল্লাহ ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ড সিরিজে দলের সেরা পারফর্মার। মুশফিক দলে ফিরে রান পেতে মরিয়া হয়ে ছিলেন। কিন্তু নিজের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। অবশ্য বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে সম্প্রতি দুইটি ওয়ানডে খেলে দুটিতেই রান পেয়েছেন। রান পাওয়ায় মুশফিকের মুখেও ফুটেছে হাসি। নিজের শিষ্যদের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন সারোয়ার ইমরান।

‘মুশফিক রানে ছিল না এটা ঠিক কিন্ত বড় ক্রিকেটাররা একটা ইনিংস খেলে নিজেদের ফিরে পান। এটা বিশ্বকাপেই হতে পারে। তখন সব কিছুই ঠিক হয়ে যাবে। এখানে দুইটি ম্যাচ খেলল সেখানেও তো প্রস্তুতি হলো। রানও পেয়েছে। তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। মাহমুদউল্লাহরও পারফর্মার। নিউ জিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কয়েকটা ম্যাচ জিতিয়েছে। সেও ভালো করবে আমি আশাবাদী।’