পজিটিভ বাংলাদেশ

সাজিদের স্বপ্নযাত্রা ‘ই-কারিগরি’

চট্টগ্রামের ছেলে সাজিদের শৈশবটা ছিল দুরন্ত আর ডানপিটে।  চাইতেন নিজের মতো করে বড় হতে।  স্কুলজীবনে প্রথম আয় ক্রিকেট খেলে। সেসময় বড় ভাইদের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসায়ও সম্পৃক্ত ছিলেন। ইচ্ছা  থেকেই যুক্ত হন ডিজিটাল মার্কেটিং, কমিউনিকেশন, পাবলিক রিলেশনের দুনিয়ায়। পরিবারের সাপোর্ট নিয়ে শুরু করেন ‘ইকারিগরি’ নামে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান। সফলও হয়েছেন।

ইকারিগরি আইডিয়া কবে মাথায় আসলো, এমন প্রশ্নের উত্তরে বললেন, ২০১৯ সালে ইকারিগরি প্রতিষ্ঠার কথা ভাবি। বাংলাদেশে এই বিষয়ে প্রতিষ্ঠিত ভালো প্রতিষ্ঠানের অভাব রয়েছে। অনেকে পাবলিক রিলেশন , ডিজিটাল প্রেজেন্স, ব্রান্ডিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত নন। কারণ এগুলো আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শেখানো হয় না, তরুণ এবং ক্ষুদে উদ্যোক্তা, তারকা, শিল্পী কিংবা প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে সঠিক গাইডলাইন পায় এবং আমাদের দেশ থেকেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের তুলে ধরতে পারে, সেই লক্ষ্যেই ইকারিগরির যাত্রা শুরু। 

এই ব্রান্ডিংয়ের কাজ বিদেশি অনেক ক্লায়েন্টের জন্য আমরা করি, নিজ দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো এবং বিশেষ করে আমার মতো তরুণ উদ্যোক্তারা যাতে বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় হারিয়ে না যায়, এই ভাবনাও কাজ করেছে। আমরা অ্যাফরডেবল খরচে বিভিন্ন প্যাকেজ দিচ্ছি, যাতে আন্তর্জাতিক ও বিশ্বমানের ব্রান্ডিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন ও মার্কেটিং আমরা করে থাকি, এতে করে একটা লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ডও তৈরি হবে।  সবসময় চাকরি করার চেয়ে চাকরির ক্ষেত্র তৈরির ব্যাপারে ভাবতাম। ইকারিগরির মাধ্যমে নতুন একটি সেক্টরে বাংলাদেশ থেকেও দক্ষ প্রফেশনাল তৈরি করার ব্যাপারটিও মাথায় ছিল। এমন ভাবনা থেকেই যাত্রা শুরু। বর্তমানে ২০০ এর বেশি দেশি, বিদেশি গ্রাহককে সেবা দিচ্ছেন তারা।

ই-কারিগরি একটি ডিজিটাল মার্কেটিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কিছু প্রতিষ্ঠানের গ্রাফিক ডিজাইন, কন্টেন্ট, এনিমেশন ভিডিও, মিডিয়া কমিউনিকেশনের কাজ করছে। 

বাংলাদেশে এই ধরনের উদ্যোগ নিয়ে কতটা আশাবাদী হতে পারেন? সাজিদ বললেন, বর্তমান বিশ্বে শুধু পরিশ্রম বা প্রতিভাই যথেষ্ট নয়, কৌশল জানা দরকার। সফলতা যতটা না ভাগ্য, তার চেয়ে বেশি হলো সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সম্মিলিত ফলাফল। আমরা চেষ্টা করি আমাদের গ্রাহকদের কাছে এমন ভাবে গুছিয়ে দিতে ও এমনভাবে ব্রান্ডিং করতে, যেন এটি সত্যিকার অর্থে আস্থা তৈরি এবং আমাদের গ্রাহকদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

বড় বড় কোম্পানিগুলোর কিন্তু ইন হাউজ আলাদা ডিপার্টমেন্ট থাকে ব্রান্ড ও রেপুটেশন ম্যানেজমেন্টের জন্য। নতুন উদ্যোক্তাদের পক্ষে এমন বড় প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা বর্তমানে বেশ কঠিন বলা চলে। আমরা চেষ্টা করছি অ্যাফরডেবল খরচে বিশ্বমানের ব্রান্ডিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন সার্ভিস প্রোভাইড করতে, যাতে এই দূরত্ব কমে আসে। 

মূলত উদ্যোক্তা, ইকারিগরি থেকে আমরা পাবলিক রিলেশন, কনটেন্ট ক্রিয়েশনসহ নানা ধরনের কনফিডেনশিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে গ্রাহকদের মাঝে সঠিক ব্র্যান্ড ও রেপুটেশন ম্যানেজমেন্ট করে থাকে ইকারিগরি। আমাদের রয়েছে সর্বোচ্চ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিডিয়া এফিলিয়েশন, যা আমাদের ক্লায়েন্টদের জন্যে বড় একটি প্রাপ্তি।  আর আমাদের কাছে আমাদের ক্লায়েন্টদের সফলতাই সফলতা।  তাই  বলতে পারি, আমরা দেশের একমাত্র ব্রান্ড ও রেপুটেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, যারা আসলেই নতুন উদ্যোক্তাদের কথা ভাবি। 

এই সেক্টরে চাকরির বাজার শিক্ষার্থীদের জন্য কেমন, এই প্রশ্নে সাজিদ বলেন, অনলাইনে যারা ব্যবসা করেন, তাদের জন্য সবচেয়ে কঠিন জায়গাটা হচ্ছে সেলস ঠিক রাখা। কারণ, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর বদৌলতে তৈরি হওয়া জায়গাগুলোতে সঠিক মার্কেটিং কৌশল না জানবার ফলে ভালো টার্গেটেড অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না অনেকেই। এ জায়গাটিতে সঠিকভাবে সেবা দিতে তৈরি হয়েছে ব্যবসার নতুন ক্ষেত্র।