হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাটের সাতছড়ি ত্রিপুরা পল্লীতে বসবাস করে আসছে ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠীর ২৪টি পরিবার। টিলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ছড়া থেকে এক শ্রেণির অসাধু চক্র বালু উত্তোলন করছে এবং টিলা কাটছে। ফলে আলগা হয়ে যাচ্ছে টিলার মাটি। এতে ধসে পড়ছে এসব পাহাড়ি টিলা। এছাড়া গত কয়েক বছরে বর্ষায় টিলাগুলোতে অল্প অল্প করে ধস শুরু হয়। এ বছরও বর্ষায় ছড়ার পাশে থাকা টিলার অনেকাংশ ধসে পড়েছে। এর কারণে বিভিন্ন সময়ে ৫টি পরিবারকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাকি ১৯টি পরিবার আতঙ্কে দিন পার করছে।
চুনারুঘাটের সাতছড়ি ত্রিপুরা পল্লীর হেডম্যান চিত্তরঞ্জন দেববর্মা বলেন, এই পাহাড়ে আমাদের জন্ম। মৃত্যুও যেন এখানেই হয়। এ জায়গাটা আমাদের কাছে প্রিয়। পাহাড় রক্ষা করতে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছি। আমরা কখনোও টিলা কাটি না। টিলা রক্ষায় কাজ করি। তবে টিলা কাটা চক্রের কাছে আমরা অসহায়। জন্মের পর ছড়াগুলো দেখলাম ছোট, এখন দিন দিন বড় হচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে কী হবে তা জানি না।
তিনি আরও বলেন, দেশ স্বাধীনের পর সরকারি সিদ্ধান্তে বনবিভাগ আমাদেরকে বনের এক পাশে অবস্থিত সড়কের কাছের টিলায় বসবাসের অনুমতি দেয়। সেই থেকে এখানে আমরা বাস করছি। টিলা ধসে যাওয়ায় আমাদের বসবাসও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, বৃষ্টিপাতের কারণে ২০১৭ সালে পল্লীর টিলা ধসে যায়। সে মৌসুমে ৩ আদিবাসী পরিবারকে নিজেদের ভিটা ছাড়তে হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরো ২ পরিবারকে নিজেদের ভিটা ছাড়তে হয়। বর্তমানে পুরো টিলাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। টিলাগুলো সংরক্ষণ করা না গেলে এখানে বাস করা মানুষগুলো বাড়িছাড়া হয়ে যাবে। তাছাড়া, টিলাগুলো জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। টিলা ধসে গেলে তা পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
সাতছড়ি বন্যপ্রাণি রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন জানান, ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এ উদ্যানটি বেশ প্রিয়। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে এ পাহাড়ের ত্রিপুরা পল্লীসহ বিভিন্ন টিলা ধসে পড়েছে। সেই সঙ্গে ভেঙে পড়ছে গাছপালা। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় টিলাগুলো দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন। এজন্য টিলা রক্ষায় দ্রুত প্রাচীর নির্মাণ করা দরকার। আর তাতে প্রয়োজন বড় আকারের বাজেট। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে বরাদ্দ আশার সম্ভাবনা আছে। এ অপেক্ষায় আছি।
চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সিদ্ধার্থ ভৌমিক বলেন, ত্রিপুরা পল্লী রক্ষায় টিলা মেরামতে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ আসা মাত্র দ্রুত টিলা মেরামত করা হবে। এছাড়া উপজেলা প্রশাসন থেকে পল্লীর বাসিন্দাদের খোঁজ খবর নেওয়া হয়ে থাকে। যে কোনো পরিস্থিতিতে তাদের পাশে আছে উপজেলা প্রশাসন।