মতামত

মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ড এবং রোহিঙ্গা সংকটের গতি-প্রকৃতি

ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগর ঘিরে ভূ-রাজনীতি ও আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতায় ফেরার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গুরুত্ব হারাতে বসা রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কল্যাণে। তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে উচ্চপর্যায়ের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর প্রতি ‘জরুরি’ ভিত্তিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি সেখানে বলেছেন, এ সংকট প্রশ্নে প্রধান আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর নিষ্ক্রিয়তা বাংলাদেশকে মর্মাহত করেছে। এ ব্যাপারে অতি দ্রুত কিছু করতে ব্যর্থ হলে সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা মহাবিপদে পড়বে। মূলত প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের পরে জাতিসংঘেও রোহিঙ্গা ইস্যুটি বেশ গুরুত্ব পেয়েছে এবার। তবে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘে যখন উচ্চকিত হলেন, তার মাত্র কয়েকদিন পরেই হত্যা করা হলো, রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে। রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনের প্রশ্নে তিনি উচ্চকণ্ঠ ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ড প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আরও কিছুটা হলেও জটিল করে তুলেছে। কারণ, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফেরাতে চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখেননি তিনি। এমনকি তাদের প্রতিনিধি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে এসেছিলেন।

এদিকে মুহিবুল্লাহ হত্যাকে কেন্দ্র করে ঘুরপাক খাচ্ছে অসংখ্য প্রশ্ন। রোহিঙ্গাদের ঐক্যে ফাটল ধরানো এবং তাদের নেতৃত্ব শূন্য করার কূটচালের অংশ এ হত্যাকাণ্ড কিনা এমন প্রশ্ন উঠে এসেছে। কারণ, রোহিঙ্গাদের ভেতরে মুহিবুল্লাহই একমাত্র ব্যক্তি যার যোগাযোগ ও যাতায়াত ছিল বিশ্ব দরবারে। অন্যদিকে, যারা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় রাজি নন, তারা মুহিবুল্লাহর ভূমিকায় শুরু থেকেই অসন্তুষ্ট ছিলেন। সুতরাং অসন্তোষ থেকেই যে খুন হতে পারেন মুহিবুল্লাহ এ আশঙ্কাটিও বারবার সামনে আসছে। আরও স্পষ্ট করে বললে এই হত্যাকাণ্ডে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের গুপ্তচরদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি মোটা দাগে সামনে এসেছে।

সম্প্রতি ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের চ্যালেঞ্জ’ বিষয়ক একটি ওয়েবিনারে আলোচকরাও একই সুরে কথা বলেছেন। তারা জানিয়েছেন যে, প্রত্যাবাসন বাধাগ্রস্ত করতে মিয়ানমার নিজ স্বার্থে রোহিঙ্গাদের মধ্যে নেতৃত্ব তৈরি হতে দেবে না। প্রত্যাবাসনের পক্ষে কাজ করে এমন নেতাদের আরসা (আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি) বা অন্য কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী দিয়ে মিয়ানমারের গোয়েন্দা সংস্থা নির্মূল করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে। এই সন্দেহের কারণ হচ্ছে, মিয়ানমারের বর্তমান অভ্যুত্থানকারী সেনাবাহিনী নেতৃত্বাধীন সরকার এবং এর আগের অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকার- কোনো শাসকই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেনি। উল্টো নানাভাবে টালবাহানা করে প্রত্যাবাসন পিছিয়েছে। সেই টালবাহানার একটি গোপন অংশ হতে পারে মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ড।

অন্যদিকে, বিভিন্ন ফোরামে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের বিষয়ে প্রস্তাব উত্থাপিত হলেও বরাবরই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে চীন ও রাশিয়া। সে কারণেও সংকট সমাধানের গেরো এখনও খোলেনি। আর যে ৩১টি রাষ্ট্র ভোটদানে বিরত থেকেছে, তার মধ্যে ভারত ছাড়াও রয়েছে জাপান। মূলত চীন, রাশিয়া, জাপান, ভারতের সমর্থনের কারণে মিয়ানমার একটা চিন্তামুক্ত অবস্থানে আছে।

তদুপরি, বাংলাদেশের অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে বিশ্বব্যাংকের রিফিউজি পলিসি রিভিউ ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্তকরণ এবং তাদের নির্বিঘ্নে কাজের সুযোগ প্রদানের প্রস্তাবটির কারণে। যদিও বাংলাদেশ সরকার এ প্রস্তাব জোরালোভাবে নাকচ করে দিয়েছে। সবমিলিয়ে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে এবার ছিল হতাশার সুর। তিনি বলেছেন, গত চার বছর ধরে আমরা এই উচ্চাশাই পোষণ করে আসছিলাম যে এসব স্থানচ্যুত লোকজন নিজেদের দেশ, তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে নিরাপদে, সুরক্ষিতভাবে সসম্মানে ফেরত যেতে পারবে। আমরা তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য আন্তর্জাতিক সমাবেশে এবং আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি আস্থা রেখেছিলাম। আমাদের কথা শোনা হয়নি, আমাদের আশা অপূর্ণই থেকে গেছে।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে এত দিনেও সাফল্য পায়নি কেন বাংলাদেশ? কেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কাজে লাগাতে পারেনি? এর কারণ হচ্ছে, জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো রোহিঙ্গাদের ওপর চলা জাতিগত নিধন নিয়ে সোচ্চার হলেও আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলো যারা রোহিঙ্গা ইস্যুতে মোটাদাগে ভূমিকা রাখতে পারতো তারা বাংলাদেশকে এখনও আশানুরূপ সহযোগিতা করেনি। বিশেষ করে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে মাঠে রেফারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া চীনের ভূমিকা বাংলাদেশকে বরাবরই হতাশ করেছে। দেশটি শুরু থেকেই বিষয়টি আন্তর্জাতিক ফোরামে উপস্থাপনের পরিবর্তে দ্বিপক্ষীয় সমাধানের পক্ষে। নিরাপত্তা পরিষদে তারা বারবার ভেটো প্রয়োগ করেছে, প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেছে। 

অন্যদিকে, দেশটি বাংলাদেশকে বারবার আশ্বস্ত করলেও কেবল তাদের আশকারা পেয়েই মিয়ানমার নানা অজুহাতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রেখেছে। এক পর্যায়ে চাপ দিয়ে চুক্তি করিয়েছে, অন্তরালে থেকে প্রত্যাবাসন নাটকও করিয়েছে৷ তদুপরি, জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেও চীন ও রাশিয়ার ভূমিকার কারণে নিরাপত্তা পরিষদ কোনো রকম ব্যবস্থা নিতে পারেনি। যদিও গাম্বিয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন নির্যাতনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শুনানিতে সম্মতি দেয়। তবে হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অন্তর্বর্তী আদেশ দেওয়ার সময়টাতে মিয়ানমারকে সাহস যোগাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দেশটি সফর করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। 

অন্যদিকে, এই অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টায় চীনের পাশাপাশি ভারতও সম্প্রতি এক চরম প্রতিযোগিতার লিপ্ত হয়েছে। এটাও আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য বয়ে এনেছে। এর ফলে রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনের মতো ভারতের মতো বন্ধু দেশকেও কখনও পাশে পায়নি বাংলাদেশ। চীন ও ভারত চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ হলেও রোহিঙ্গা ইস্যুতে দুটি দেশই কৌশলগতভাবে বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সীমান্ত নিয়ে চীনের সঙ্গে ভারতের বিরোধ দীর্ঘদিনের। দেশ দুটি বেশ কয়েকবার যুদ্ধেও জড়িয়েছে। ভারতের আকসাই চিন অঞ্চল ও অরুণাচল প্রদেশকে চীন  নিজেদের এলাকা মনে করে। সেকারণে দেশটি লাদাখ ও সেভেন সিস্টার্স নিয়ে চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকে। এ ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে থাকা শিলিগুড়ি করিডোর। এ করিডোরটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে সেভেন সিস্টার্সে যোগাযোগের একমাত্র পথ। চীনের দোকলাম থেকে যার দূরত্ব মাত্র ১৩০ কি.মি.। দুর্যোগপূর্ণ সময়ে চীনের চুম্বী ভ্যালিতে মোতায়েন থাকা সেনাবাহিনী শিলিগুড়ি করিডোরের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারলে পুরো সেভেন সিস্টার্স ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। ফলে নিরাপত্তা ও যোগাযোগের কথা চিন্তা করে ভারত কালাদান প্রকল্পের মাধ্যমে সেভেন সিস্টার্সে প্রবেশের বিকল্প একটি পথ তৈরিতে উদ্যোগী হয়। ভারতের কলকাতা থেকে সমুদ্রপথে মিয়ানমারের সিটওয়ে বন্দর হয়ে কালাদান নদীপথে পালেতোয়া। সেখান থেকে সড়কপথে ভারতের মিজোরাম তথা উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রবেশ করা যাবে। সংক্ষেপে এই হল কালাদান মাল্টিমোডাল প্রজেক্টের রুট। 

এর ফলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দ্রুত সংযোগ স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ রুট ছাড়াও অন্য একটি বিকল্পও তৈরি থাকলো ভারতের কাছে। এ কারণে ভারতের কাছে দেশটি খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আর রাশিয়ার ব্যাপার হচ্ছে, দেশটি মিয়ানমারের অস্ত্রের বাজার দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। নজর আছে খনিজ সম্পদের দিকেও। অন্যদিকে, অং সান সুচির সময়ে, বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলে প্রচুর লগ্নি করেছে চীন। পাশাপাশি রাখাইনের মংডুর কাছে পরিকল্পিত ইকোনোমিক জোনে বিশাল লগ্নির পরিকল্পনাও করেছে। 

তবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন খেলায় মিয়ানমারের পক্ষে মূল খেলোয়াড় হচ্ছে চীন। রাশিয়া স্ট্যান্ডবাই, ডাক পড়লেই মাঠে এসে চীনের শক্তি বৃদ্ধি করে। জাপান বা ভারতের অবস্থান এখানে এখনও তেমন প্রভাব ফেলতে পারবে না। তদুপরি, চীনই দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্ব মতামত উপেক্ষা করে তাদের টিকিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে, ভারত বা জাপান নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যও নয়। ফলে এ দেশ দুটির চেয়ে চীন ও রাশিয়ার ভূমিকা এ ক্ষেত্রে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মিয়ানমারের জন্য যে চারটি করণীয় নির্ধারণ করে দিয়েছে,  মিয়ানমার তা প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে ওই আদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবেই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যাবে। এ ক্ষেত্রে আদালতের আদেশ প্রতিপালন না করার কারণে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা নিয়ে ভোটাভুটি হবে। ওই ভোটাভুটির ক্ষেত্রে চীন ও রাশিয়া আগের মতো ভেটো দিলে পুরো আদেশটিই কার্যত অর্থহীন হয়ে যাবে। 

অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে সৃষ্ট নতুন ভূ-রাজনৈতিক ইকুয়েশনের কারণে চীনও মিয়ানমারের ওপর নির্ভরতা দিন দিন বাড়াচ্ছে। আর মিয়ানমারের শাসকেরা এ সুবিধা ভালোভাবেই কাজে লাগাচ্ছেন। বিশ্বে প্রভাব বিস্তারে চীনের বিআরআই প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ ধরা হয় মিয়ানমারকে। এটা হচ্ছে, ভারত মহাসাগরে চীনের প্রবেশদ্বার। এর বিনিময়ে মিয়ানমার যা চেয়েছে, তা-ই দিয়েছে চীন। বলা হচ্ছে, চীনা অর্থনীতির লাইফলাইন হয়ে উঠতে পারে এই প্রবেশদ্বার। এসবের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং বঙ্গোপসাগরে অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তির ভারসাম্য চীনের পক্ষে রাখা হবে। 

বিশ্ব রাজনীতিতে চীন-যুক্তরাষ্ট্র এখন মুখোমুখি। আগামী দিনগুলোতে ক্রমবর্ধমান চীন-মার্কিন দ্বন্দ্ব বিশ্বের নব মেরুকরণ কোথায় নিয়ে দাঁড় করাবে, তা কেউই জানে না। সম্প্রতি আফগানিস্তান ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল নিয়ে দেশ দুটি বিরোধে জড়িয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে রোহিঙ্গা সংকটে। চীন তার ভূ-রাজনীতির স্বার্থে উত্তর কোরিয়ার মতো মিয়ানমারকেও যা খুশি তাই করার লাইসেন্স দিয়ে দিয়েছে।   

তবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরেক দফা বিশ্বসম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন। মূলত প্রধানমন্ত্রীর নতুন করে দৃষ্টি আকর্ষণের পর নতুন কিছু তোড়জোড় পরিলক্ষিত হচ্ছে। অনেকদিন ধরেই নাকচ করে এলেও ভাসানচর কার্যক্রমের সঙ্গে জাতিসংঘের যুক্ত হওয়ার ঘোষণাও এসেছে এ সময়। তবে ভাসানচর অথবা কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের থাকার যে ব্যবস্থা করা হয়েছে, তা যে সাময়িক এটা সব পক্ষকেই মনে রাখতে হবে। মূল লক্ষ্য হতে হবে, বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তবে এ চেষ্টা সফল করতে হলে, চীন, ভারতসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলো যাতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করে, সরকারকে সে কৌশলও নিতে হবে।      লেখক: প্রাবন্ধিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক