টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে শাশুড়ি-পুত্রবধূসহ তিন খুনের পেছনে পরকীয়া প্রেম থাকতে পারে বলে ধারণা করছে র্যাব। ঘরের দেয়ালে লেখা একটি বাক্য, স্থানীয়দের বক্তব্য এই ধারণাকে আরো জোরালো করেছে। আজ (৩০ অক্টোবর) টাঙ্গাইল র্যাব-১২ সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার লে. আব্দুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য জানান।
এর আগে আজ সকাল ১০টায় ঘাটাইলের দিঘর ইউনিয়নের খামারপাড়ার একটি বাড়ি থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন ওই এলাকার মৃত হযরত আলীর স্ত্রী জমেলা বেগম (৬৫), তার ছেলে জয়েন উদ্দিনের স্ত্রী সুমি বেগম (২৬) ও শাহজালাল ইসলাম সোহাগ (৩০)। শাহজালাল কালিহাতী উপজেলার সাতুটিয়া পূর্বপাড়া এলাকার সোহরাব আলীর ছেলে।
আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, জমেলা, সুমি ও শাহজালাল নামে তিনজনের লাশ বসতঘর থেকে পাওয়া গেছে। এ সময় সুমির শিশু সন্তানকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। লাশের পাশে ছুরি ও হাতুড়ি পাওয়া গেছে। ঘরের দেয়ালে লেখা ছিল ‘এমনটা হতো না যদি আমার সুমি আমার কাছে থাকতো। এ সব কিছুর জন্য সুমির বাবা দায়ী।’
স্থানীয় বাসিন্দা আবু সাইদ জানান, স্কুলজীবন থেকে শাহজালালের সঙ্গে সুমির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ৫ বছর আগে জয়েনুদ্দিনের সঙ্গে সুমির বিয়ে হয়। কিছুদিন সংসার করার পর জয়েনুদ্দিন বিদেশ চলে যায়। এ সুযোগে সুমি পুনরায় শাহজালালের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। গত ৬ মাস আগে শাহজালালের সঙ্গে সুমি ঘর ছাড়ে। এমনকি তারা প্রায় দুই মাস সংসার করে। পরে জয়নুদ্দিন দেশে ফিরে সুমিকে ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। কিন্তু আড়াই মাস আগে জয়েনুদ্দিন পুনরায় সৌদি আরব চলে গেলে শাহজালাল সুমির সঙ্গে যোগাযোগ করে। গত রাতে শাহজালাল সুমির সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল। সকালে শুনি জয়নুদ্দিনের ঘরে তিনজনের লাশ পড়ে আছে!
দিঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মামুন শাহজালালের সঙ্গে সুমির অবৈধ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘প্রায় ৬ মাস আগে শাহজালালের সঙ্গে সুমি পালিয়ে গিয়েছিল। শুনেছি তারা বিয়েও করেছিল। পরে সুমির স্বামী বিদেশ থেকে আসার পর তাকে ফিরিয়ে আনে।’
আরও পড়ুন: ঘরে মিললো শাশুড়ি পুত্রবধূসহ তিনজনের লাশ