আন্তর্জাতিক

চাপের মুখে ইমরান খান

রাস্তায় ঘুরে ঘুরে পুরোনো জুতা বিক্রি করতো ২৭ বছরের আসাদুল্লাহ। শুক্রবার রাতে পাকিস্তানের করাচি শহরে সে নিজের দেহ অগ্নিদগ্ধ করে আত্মহত্যা করেছে সে। 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গ্রামের বাড়ি থেকে ফোন করে আসাদুল্লাহর কাছে অর্থ চেয়েছিল বাবা ও স্ত্রী। কিন্তু নিজের খরচ মেটাতে অক্ষম আসাদুল্লাহর পক্ষে অর্থ পাঠানো সম্ভব হয়নি। দেশের অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফিতির কারণে তার মতো নিম্ম আয়ের মানুষদের টিকে থাকাই মুশকিল হয়ে পড়েছে।  

আসাদুল্লাহর স্বজন গনি বলেন, ‘আমরা আমাদের ঘর চালাতে পারছি না, এ কারণেই আসাদুল্লাহ আত্মহত্যা করেছে। আমি পাঁচ জন মানুষকে জানি যারা এই মুদ্রাস্ফিতিতে হতাশ এবং দ্রব্যমূল্যের আকাশচুম্বি দামের কারণে তারা আত্মহত্যা করতে চাইছে। সরকারের উচিত দয়া করা এবং মূল্যস্ফিতি কমিয়ে আনা।’

অর্থনীতির নিম্নগতির কারণে চাপের মুখে রয়েছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। দেশটিতে সম্প্রতি মুদ্রাস্ফিতি সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে পেট্রোলের চেয়ে চিনির দাম বেশি এখন। 

ক্ষমতায় আসার আগে ইমরান খান দুর্নীতির মুলোৎপাটন ও দেশকে দারিদ্রমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে সম্ভাবনাময় ও নতুন একটি পাকিস্তান গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন তিনি। তবে ইমরানের দেখানো সেই স্বপ্ন ফ্যাকাসে হওয়া শুরু করেছে বহু আগেই।

গত সপ্তাহে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অর্থনীতির এই দুরাবস্থার জন্য সাবেক সরকারগুলোর ভুল এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিকে দায়ী করেছেন। জরুরি খাদ্যপণ্যে তিনি এক লাখ ২০ হাজার কোটি রুপির ভর্তুকির ঘোষণা দিয়েছেন।

তবে অর্থনীতি বিশ্লেষক খুররম হাসানের মতে, ইমরানের এই প্যাকেজ সংকট মোকাবিলায় পর্যাপ্ত নয়।

তিনি বলেন, ‘এই প্যাকেজ হচ্ছে সাগরের এক ফোটা পানির মতো এবং সাধারণ মানুষদের এটি খুব কমই সহায়তাকর হবে। ইমরান খানের ওপর চাপ আরও বাড়বে, কারণ আমরা দেখছি, প্যাকেজ ঘোষণার পরও জ্বালানি তেল ও চিনির মতো পণ্যগুলোর দাম আরও বেড়েছে।’

খুররম জানান, সাধারণ জনগণের ওপর মুদ্রাস্ফিতির চাপটা অনেক বেশি হওয়ার কারণ হচ্ছে, বেকারত্বের হার অনেক বেশি এবং মজুরি বৃদ্ধির হার স্থির। জ্বালানি ও বিদ্যুতের মতো জরুরি পণ্যগুলোর দাম অভূতপূর্বভাবে চড়া। 

বিরোধী দলগুলোর জোট পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট ইতোমধ্যে ইমরান খানের সরকারের পতনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছে। নিত্যপণ্যের চড়া দামের কারণে হতাশ জনগণও রাস্তায় নামতে শুরু করেছে। সেনা সমর্থিত ইমরান খানের ওপর বাড়তে শুরু করেছে পদত্যাগের চাপ।