সারা বাংলা

শিশু তানিশা হত্যাকাণ্ডে সৎ মায়ের মৃত্যুদণ্ড

খুলনার তেরখাদা উপ‌জেলার আড়কা‌ন্দি গ্রা‌মের মেয়ে শিশু তানিশা খাতুনকে (৫) ধারা‌লো অস্ত্র দি‌য়ে কু‌পি‌য়ে হত‌্যার দায়ে তার সৎ মা তিথী আক্তার মুক্তাকে ফাঁসির আদেশ দি‌য়ে‌ছেন আদালত।

সোমবার (১৫ ন‌ভেম্বর) দুপুরে খুলনা জেলা ও দায়রা জজ মো. মশিউর রহমান চৌধুরী এ রায় ঘোষণা ক‌রেন।

রায় ঘোষণাকা‌লে দণ্ডপ্রাপ্ত আসা‌মি আদাল‌তের কাঠগড়ায় উপ‌স্থিত ছিল। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি শেখ মো. এনামুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতের সূত্র জানান, তেরখাদা উপজেলার আড়কান্দি গ্রামের আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য মো. খাজা শেখের মেয়ে তানিশা। আগের স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর খাজা ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারি ফকিরহাট উপজেলার আট্রাকি গ্রামের দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত হোসেন আলী শেখের মেয়ে মুক্তাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর মোবাইলে আসক্ত ছিল মুক্তা। বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে ইমো ও ম্যাসেঞ্জারে কথা বলতো। এ নিয়ে খাজা স্ত্রীকে সন্দেহ করে। খাজা শেখ ওই সময়  বান্দরবনে কর্মরত ছি‌লেন।

চলতি বছরের ২ এপ্রিল ম্যাসেঞ্জারে ফারাবি প্রসেনজিত নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব ও কথা বলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রী’র মধ্যে দাম্পত্য বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে খাজা স্ত্রীকে তালাক দেওয়াসহ বিষয়টি সকলকে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এ কারণে স্বামী খাজার ওপর প্রতিশোধ নিতে তানিশাকে হত্যার পরিকল্পনা করে সৎ মা মুক্তা। পাঁচ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে হত্যার উদ্দেশ্যে দা সংগ্রহ করে, দরজা বন্ধ করে ঘুমন্ত তানিশার ওপর আক্রমণ করে। দা দিয়ে ঘাড়ে ও মাথায় আঘাত করতে থাকে। ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে তানিশার দাদি দরজা খুলতে বললেও মুক্তা খোলেনি। পরবর্তীতে তানিশার চাচা রাজু শেখ বাড়ি এসে দরজা খুলতে বললে মুক্তা বাইরে বের হয়ে যায়। এ সময় তার চাচা ঘরে ঢুকে তানিশার নিথর দেহ খাটের ওপর পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় স্বাস্থ‌্য কমপ্লেক্সে নেন। পরে সেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহত তানিশার দাদা মো. আবুল বাশার শেখ মুক্তাকে আসামি করে তেরখাদা থানায় মামলা দায়ের করেন, যার নম্বর ৩। গ্রেপ্তার হওয়ার পর হত‌্যাকা‌ণ্ডের বিষ‌য়ে মুক্তা ১৬৪ ধারায় স্বীকা‌রো‌ক্তিমুলক জবানব‌ন্দি দেন। এ বছরের ৩১ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শফিকুল ইসলাম মুক্তাকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলায় মোট ২৩ জন সাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন।