সর্বোচ্চ ৭২৫৪০ কোটি টাকার কেনাকাটার মাধ্যমে বছর শেষ করলো সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনসহ ১২টি ক্রয় প্রস্তাবে এই অর্থ ব্যয় হবে।
বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এসব প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সভায় কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে অনুমোদিত ক্রয় প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আরেফিন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৩৫তম এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৪২তম সভা হয়েছে। অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদনের জন্য ১টি এবং ক্রয় কমিটির অনুমোদনের জন্য ১৩টি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। ক্রয় কমিটির প্রস্তাবগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের ৫টি, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ৩টি, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ২টি, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ১টি, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ১টি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রস্তাব ছিল। এর মধ্যে ১২টি প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ক্রয় কমিটির অনুমোদিত ১৩টি প্রস্তাবে মোট অর্থের পরিমাণ ৭২৫৪০ কোটি ৪১ লাখ ১২ হাজার ৬০ টাকা। মোট অর্থায়নের মধ্যে জিওবি হতে ব্যয় হবে ৭০,৮২৪ কোটি ৩১ লাখ ৬ হাজার ৮০৬ টাকা এবং কোরিয়া এক্সিম ব্যাংক ও ভারত থেকে ঋণ নেওয়া হবে ১,৭২৭ কোটি ৮৫ লাখ ৭৮ হাজার ২৫৪ টাকা।
তিনি বলেন, অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর বিস্তারিত জানাবেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আরেফিন।
অতিরিক্ত সচিব বলেন, আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে প্যাকেজ-৬ এর আওতায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানির একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান ভারতের মেসার্স বাগাদিয়া ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড এই গম সরবরাহ করবে। প্রতি মে.টন ৪০৪.১১ ডলার হিসেবে মোট খরচ হবে ২ কোটি ২ লাখ ৫ হাজার ৫০০ ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৭৩ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ৯০০ টাকা।
সভায় ৪র্থ স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর কর্মসূচির আওতায় ২৯.৭৬ মিলিয়ন সাইকেল ওরাল পিল (তৃতীয় প্রজন্ম) ক্রয়ের একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ৪র্থ স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর কর্মসূচির আওতায় ৫টি লটে ২৯.৭৬ মিলিয়ন সাইকেল ওরাল পিল (তৃতীয় প্রজন্ম) ক্রয়ের জন্য অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে ৫টি লটে ৩টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল করে। সবগুলি প্রস্তাবই রেসপনসিভ হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত রেসপনসিভ দরদাতা প্রতিষ্ঠান (১) পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস লি. থেকে ১টি লটে ৫.৯৫২ মিলিয়ন সাইকেল; (২) টেকনো ড্রাগস লি. থেকে ২টি লটে ১১.৯০৪ মিলিয়ন সাইকেল এবং (৩) রেনেটা লিমিটেড থেকে ২টি লটে ১১.৯০৪ মিলিয়ন সাইকেলসহ মোট ২৯.৭৬ মিলিয়ন সাইকেল ওরাল পিল (তৃতীয় প্রজন্ম) সংগ্রহ করা হবে। এতে ব্যয় হবে ১৪৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
সামসুল আরেফিন বলেন, বান্দরবান জেলার বিদ্যালয় বহির্ভূত শিশুদের শিখন কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ইম্লিমেন্টেশন সাপোর্ট এজেন্সি (আইএসএ) এর সেবা ক্রয়ের একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। ‘চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)’ প্রকল্পের আওতায় বান্দরবান জেলার ১টি উপজেলার বিদ্যালয় বহির্ভূত শিশুদের শিখন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে শিশু প্রতিভা বিকাশ কেন্দ্র (এসপিবিকে)। এজন্য ব্যয় হবে ২ কোটি ৭৭ লাখ ৩৭ হাজার টাকা।
তিনি বলেন, সভায় ‘খুলনা থেকে মোংলা পোর্ট পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ’ প্রকল্পের প্যাকেজ নম্বর ডব্লিউডি-১ এর ভেরিয়েশন প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ভারতের মেসার্স ইরকন ইন্টারন্যাশনাল। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১,২৭৮ কোটি ৬৫ লাখ ৫২ হাজার ৯০৭ টাকায় চুক্তি হয়। সে অনুসারে মাঠ পর্যায়ে পূর্তকাজ চলাকালে কিছু আইটেম হ্রাস/বৃদ্ধি এবং নতুন কিছু আইটেম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ভেরিয়েশন বাবদ অতিরিক্ত ২০৫ কোটি ৭২ হাজার ৩২৫ টাকা এবং লেজিসলেটিভ চেঞ্জের কারণে অতিরিক্ত ৬২ কোটি ১৫ লাখ ২৩ হাজার ৫৩১ টাকাসহ সর্বমোট ভেরিয়েশন বাবদ অতিরিক্ত ২৬৭ কোটি ১৫ লাখ ৯৫ হাজার ৫৫৬ টাকা ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘খুলনা থেকে মোংলা পোর্ট পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ’ প্রকল্পের প্যাকেজ নং ডব্লিউডি-২ এর ২য় ভেরিয়েশন প্রস্তাবেও অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। প্রকল্পের আওতায় রূপসা নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণের জন্য ১,৫২৯ কোটি ৩৪ লাখ ২৬ হাজার ৮৬ টাকার সম্পূরক চুক্তি করা হয়। রেলওয়ে ব্রিজ নির্মাণের দায়িত্ব পায় ভারতের মেসার্স লারসেন অ্যান্ড টারবো লিমিটেড। সে অনুসারে মাঠ পর্যায়ে পূর্তকাজ চলমানকালে কিছু আইটেম হ্রাস/বৃদ্ধি এবং নতুন কিছু আইটেম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ভেরিয়েশন বাবদ ১৮ কোটি ৫৬ লাখ ৫২ হাজার ৯৯০ টাকার ব্যয় হ্রাস এবং লেজিসলেটিভ চেঞ্জের কারণে ভেরিয়েশন বাবদ অতিরিক্ত ১২ কোটি ৩৩ হাজার ৬০২ টাকা এবং সিডিভ্যাট ভেরিয়েশন বাবদ ৭৩ কোটি ৮৩ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যয় হ্রাস করে সংশোধিত চুক্তিমূল্য ১,৪৪৮ কোটি ৯৪ লাখ ৯ হাজার ৬৯৮ টাকার ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সভায় বিআইডব্লিউটিএ-এর জন্য ২টি ২৪ কাটার সাকশন ড্রেজারসহ সহায়ক জলযান ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি (প্যাকেজ-১২, লট-০১) সংগ্রহ ও ক্রয় প্রস্তাবে অনমোদন দিয়েছে কমিটি। সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান খুলনা শিপইয়ার্ড জলযানগুলো সরবরাহ করবে। এজন্য ব্যয় হবে ২১১ কোটি ৯৬ লাখ ৬৮ হাজার ৯৫৩ টাকা।
বিআইডব্লিউটিএ-এর জন্য ২টি ২৪ কাটার সাকশন ড্রেজারসহ সহায়ক জলযান ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম (প্যাকেজ-১২, লট-০২) সংগ্রহ ও ক্রয়ের আরও একটি ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান খুলনা শিপইয়ার্ড জলযানগুলো সরবরাহ করবে। এজন্য ব্যয় হবে ২১১ কোটি ৯৬ লাখ ৬৮ হাজার ৯৫৩ টাকা।
অতিরিক্ত সচিব বলেন, কুমারগাঁও ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং বর্ধিত মেয়াদের জন্য ট্যারিফ অনুমোদন দিয়েছে ক্রয় কমিটি। বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্পন্সর কোম্পানি এনার্জি প্রিমা লিমিটেড এর সঙ্গে সরকারের বর্ধিত চুক্তির মেয়াদ (৩ বারে ৮ বছর) শেষ হওয়ায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বর্তমানে বন্ধ আছে। উক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক পিজিসিবির জিআইএস সাবস্টেশন নির্মাণ করতে জানুয়ারি ২০২৩ সময় পর্যন্ত সময় প্রয়োজন। তাই বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও পিইসির সুপারিশের প্রেক্ষিতে মূল চুক্তির অনুরূপ অন্যান্য শর্তে কুমারগাঁও ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেয়াদ ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১ বছর বাড়ানোর জন্য এনার্জি প্রিমা লিমিটেড-এর সঙ্গে ট্যারিফ কিলোওয়াট ঘণ্টা ১.৯৭৫২ টাকা হিসেবে ‘নো ইলেক্ট্রিসিটি,নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে সংশোধিত চুক্তি করার অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। বর্ধিত মেয়াদে ৮৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা বিদ্যুতের দাম পরিশোধ করতে হবে।
সভায় ফেঞ্চুগঞ্জ ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানো এবং বর্ধিত মেয়াদের জন্য ট্যারিফ অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। বিদ্যুৎকেন্দ্রের সময় ৩ বছর বাড়ানোসহ ট্যারিফ কিলোওয়াট ঘণ্টা ২.১২১২ টাকা হিসেবে ‘নো ইলেক্টিসিটি, নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে সংশোধিত চুক্তি সম্পাদনে এনার্জি প্রিমা লিমিটেড এর প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। বর্ধিত মেয়াদে ২৭৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বিদ্যুতের মূল্য পরিশোধ করতে হবে।
অতিরিক্ত সচিব বলেন, বগুড়া ২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানো এবং বর্ধিত মেয়াদের জন্য ট্যারিফ নির্ধারনের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। স্পন্সর কোম্পানি এনার্জি প্রিমা লিমিটেডের সঙ্গে সরকারের বর্ধিত চুক্তির মেয়াদ (২ বারে ৬ বছর) শেষ হওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বর্তমানে বন্ধ আছে। স্পন্সর কোম্পানি ট্যারিফ অপরিবর্তিত রেখে চুক্তির মেয়াদ পুনরায় ৩ বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করে। প্রস্তাবের সব প্রক্রিয়া শেষে পিইসি কর্তৃক নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে সুপারিশের প্রেক্ষিতে মূল চুক্তির অনুরূপ অন্যান্য শর্তে বগুড়া ২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ ৩ বছর বাড়ানোর জন্য উদ্যোক্তার সঙ্গে ট্যারিফ কিলোওয়াট ঘণ্টা ২.০৩৬১ টাকা হিসেবে ‘নো ইলেক্ট্রিসিটি, নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে সংশোধিত চুক্তির প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বর্ধিত মেয়াদে ১০৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা বিদ্যুতের দাম পরিশোধ করতে হবে।
সামসুল আরেফিন বলেন, আশুগঞ্জ ৫৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানো এবং বর্ধিত মেয়াদের জন্য ট্যারিফ অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। ইউনাইটেড এনার্জি লিমিটেড-এর আশুগঞ্জ ৫৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানো এবং ট্যারিফ অনুমোদনের লক্ষ্যে ২০২০ সালের ৯ ডিসেম্বর তারিখের সিসিজিপি সভায় উপস্থাপন করা হলে কমিটি বেশকিছু বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়। পরে পিইসি কর্তৃক নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে সুপারিশের প্রেক্ষিতে মূল চুক্তির অনুরূপ অন্যান্য শর্তে আশুগঞ্জ ৫৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ ৫ বছর বাড়ানোর জন্য ইউনাইটেড এনার্জি লিমিটেড এর সঙ্গে ট্যারিফ কিলোওয়াট ঘণ্টা ২.৪৩ টাকা হিসেবে ‘নো ইলেক্টিসিটি, নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে সংশোধিত চুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বর্ধিত মেয়াদে ৪৫১ কোটি ২০ লাখ টাকা বিদ্যুতের দাম পরিশোধ করতে হবে।
সভায় চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাইয়ে ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্যাস অথবা আরএলএনজি ভিত্তিক কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। পাবলিক সেক্টর পাওয়ার জেনারেশন-১৯৯৬ এর আওতায় ‘বিল্ড ওন অ্যান্ড অপারেট (বিওও)’ ভিত্তিতে আইপিপি হিসেবে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরের অন্তর্ভুক্ত মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্যাস অথবা আরএলএনজি ভিত্তিক কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য যৌথভাবে কনফিডেন্স পাওয়ার হোল্ডিংস লিমিটেড, জিউ ক্যাপিটাল ইউএস হোল্ডিং ইনকরপোরেশন কনফিডেন্স পাওয়ার লিমিটেড এবং ইলোক্ট্রোপ্যাক ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড কর্তৃক অযাচিত প্রস্তাব দাখিল করে। বিউবো এবং কারিগরি কমিটি কর্তৃক প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে যোগ্য বিবেচিত হয়। পরবর্তী সময়ে পিইসি কর্তৃক স্পন্সর কোম্পানির সাথে নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে সুপারিশকৃত দরদাতা প্রতিষ্ঠান এর সঙ্গে ২২ বছর মেয়াদে ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের চুক্তি সম্পাদনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। ট্যারিফ ভিত্তিতে বিদ্যুৎ ক্রয় করা হলে ২২ বছর মেয়াদে উক্ত কোম্পানিকে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা ২.৯৪৩২ টাকা হিসাবে মোট ৩৭,৪৩৫ কোটি ২০ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে।
এর আগে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় ঘোড়াশাল ৪র্থ ইউনিট রি-পাওয়ার্ড কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিশেষজ্ঞ সেবা সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।