বিনোদন

‘শূন্যতায় বুকের ভেতরটা হাহাকার করে’

উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকর গত ৬ ফেব্রুয়ারি না-ফেরার দেশে চলে যান। এই শোকের রেশ না-কাটতেই গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পরপারে পাড়ি জমান সংগীতশিল্পী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। আজ বুধবার তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা। এর মধ্যেই খবর এলো গায়ক, সুরকার ও সংগীত পরিচালক বাপ্পি লাহিড়ী আর নেই।

এই তিন শিল্পীর শূন্যতা ‘সংগীতাঙ্গনের অপূরণীয় ক্ষতি’ বলছেন দেশের পপ গানের অন্যতম রূপকার সংগীতশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ।

এই পপ তারকা রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘গত কয়েক দিনে ভারতবর্ষের তিন জ্বলন্ত তারা ঝরে পড়লো। প্রকৃতির নিয়মে বিবর্তন তো চলবেই। তবে এটুকু বলা যায়- লতাজি ভারতীয় উপমহাদেশের কিংবদন্তি। সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়কে আমি ডাকি ‘বাংলার মধুর দিদি’। আর বাপ্পি লাহিড়ী সর্ম্পকে আমার একটাই বক্তব্য- ভারতবর্ষে আধুনিক গানের যে রূপায়ন এটি তার সুরেই হয়েছে।’

‘তিনজনই সংগীতের জ্ঞানে-গুণে শীর্ষে ছিলেন। তিনজনের কণ্ঠ এতই বেশি শক্তিশালী, যে কোনো সুর, ভাব তাদের কণ্ঠে ফুটে উঠতো। বাপ্পি লাহিড়ীর গান ১৯৮২ সাল থেকে আমি শুনি। তখন থেকে বাংলা গানের যে ধারা- সিনেমা বলেন, স্টেজ বলেন, সবখানে তিনি ছিলেন। যতবার তার গান শুনতান ততবারই নিজের অজান্তে প্রেমে ডুবে যেতাম।’

আজ থেকে প্রায় ১২ বছর আগে নবাবগঞ্জ কলেজে বাপ্পি লাহিড়ী এসেছিলেন। তখন তার সঙ্গে দেখা হয়েছে বলে জানান ফেরদৌস ওয়াহিদ। 

এদিকে পরপর তিনজনের মৃত্যু সংগীতশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎকেও বেদনাবিধুর করেছে। তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে চলে গেলেন লতাজি, গতকাল চলে গেলেন সন্ধ্যাদি, আজ সকালে চলে গেলেন বাপ্পীদা। এই মৃত্যু মেনে নিতে কষ্ট হয়। বুকের ভেতরটা শূন্যতায় হাহাকার করে। তারা ছিলেন মূলত গানের প্রতিষ্ঠান। তাদের আমি ‘গানের নক্ষত্র’ বলি। বাংলা গানের জগৎ চিরদিন তাদের স্মরণ করবে।’

বাপ্পি লাহিড়ীর সঙ্গে কুমার বিশ্বজিতের ছিল মধুর সর্ম্পক। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনেক বছর আগে লন্ডনে একটি শো করতে গিয়েছিলাম। সেখানে বাপ্পীদার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয়। প্রথম পরিচয় হওয়ার পর থেকেই তিনি আমাকে আপন করে নিয়েছিলেন। আমাদের সম্পর্ক অটুট ছিল সারাজীবন। মানুষকে কাছে টেনে নেওয়ার প্রচণ্ড ক্ষমতা ছিল তার।’