ক্যাম্পাস

সত্যজিৎ চক্রবর্ত্তীর অনুপ্রেরণামূলক বই ‘মাইন্ড ম্যানেজমেন্ট’

অনুপ্রেরণা এক অদৃশ্য শক্তি। মানুষ নিজের ভেতর থেকে নিজেকে আবিষ্কার করার এক অসাধারণ ক্ষমতা অর্জন করে এই অনুপ্রেরণা দিয়ে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশাত্মবোধক গান আমাদের সাহস যুগিয়েছিল। এক একটা গান যেন স্বাধীনতার স্বপ্নবোনা এক একটা অনুপ্রেরণা ছিল তখন। 

কবি নজরুলের বিদ্রোহী কবিতাগুলো আমাদের শিকলভাঙার প্রেরণা যোগায়৷বেগম রোকেয়ার একেকটা প্রবন্ধ নারীদের প্রেরণা যুগিয়েছে তাদের নিজস্ব শক্তি আবিষ্কারের। একজন নারী স্বেচ্ছায় প্রচণ্ড প্রসব বেদনা সহ্য করে শুধু ‘মা’ ডাক শোনার প্রেরণায়। জীবনের সর্বক্ষেত্রে আমাদের প্রয়োজন হয় প্রেরণার।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানাচ্ছে, বর্তমান বিশ্বে চতুর্থ বড় রোগ হতাশা। আর এই হতাশা থেকেই বর্তমানে বেড়ে যাচ্ছে আত্মহত্যার প্রবণতা। খুব ছোটখাটো বিষয়ে মান অভিমান থেকেই মানুষ আত্মহত্যা করছে। এসময় প্রয়োজন মানসিক শক্তির৷আর মানসিক শক্তি আসে অনুপ্রেরণা থেকে। তাই তরুণ প্রজন্মের কেউ কেউ কখনো মাইক্রোফোন হাতে কখনো অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছেন বিভিন্ন প্রশিক্ষণে, কেউ কেউ আবার কলম হাতে অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছেন লেখার মধ্য দিয়ে। তেমনই একজন তরুণ জনপ্রিয় লেখক সত্যজিৎ চক্রবর্ত্তী। এবার অমর একুশে বইমেলায় তার নতুন বই এসেছে ‘মাইন্ড ম্যানেজমেন্ট’ নামে।

দীর্ঘ দিন ধরে তিনি লেখালেখির সাথে যুক্ত আছেন। তিনি একজন অনুপ্রেরণাদায়ী বক্তা হিসেবেও যথেষ্ট পরিচিত। তার মূল পেশাগত পরিচয়ের চেয়েও সবচেয়ে বেশি পরিচিত লেখক ও অনুপ্রেরণাদায়ী বক্ত হিসেবে। বিভিন্নসময় বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, করপোরেট কোম্পানি এবং সংগঠনে তিনি ক্যারিয়ার বিষয়ক প্রশিক্ষণ, আত্ম উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ এগুলো দিয়ে তরুণদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। এমনকি তার লেখা পড়ে আত্মহত্যার পথ থেকেও ফিরে এসেছে এমন কাহিনিও আছে। 

লেখালেখির সূচনা কিভাবে হলো, এমন প্রশ্নের জবাবে এই লেখক বলেন, আমি লেখালেখির সাথে খুব একটা পরিকল্পনা করে যুক্ত হইনি। মূলত আমার পাঠকরাই আমাকে লেখালেখিতে প্রেরণা যুগিয়েছিল। আমিও তখন অনুভব করি যদি আমার কথাগুলো বই আকারে চলে আসে, তাহলে আমি আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারবো পরোক্ষভাবে। এতে অন্তত যেকোনো মানুষের একটু যদি স্বপ্নবোনার লাঙলটা অন্তত আমি হতে পারি, কারো চোখের সামনে হতাশার পর্দাটা অন্তত সরিয়ে দিতে পারি তাহলে জীবনে কমপক্ষে কিছু একটা করেছি বলে মনে হবে।

এবার অমর একুশে বই মেলায় লেখক সত্যজিৎ চক্রবর্ত্তীর মোট ৫টি বই পাওয়া যাচ্ছে। তার মধ্যে ৪টি আত্ম উন্নয়নমূলক বই- রোড টু সাকসেস, দ্যা হিডেন পাওয়ার, সাকসেস হান্টার, মাইন্ড ম্যানেজমেন্ট। এ ছাড়া, একটা গল্পগ্রন্থও পাওয়া যাবে ‘উপেক্ষিত অপেক্ষা’ নামে। সব বই প্রকাশিত হয়েছে দাঁড়িকমা প্রকাশনী থেকে। 

দাঁড়িকমার প্রকাশক আবদুল হাকিম নাহিদ বলেন, আগে দেশে আত্ম উন্নয়নমূলক বই ছিল না বললেই চলে। একসময় সত্যজিৎ চক্রবর্ত্তীর ‘রোড টু সাকসেস’ লেখা হয়। বইটা এত বেশি সাড়া যুগিয়েছিল যে, দেশের বাইরেও আমরা যথেষ্ট পাঠক পেয়েছি। তিনি অনেক ভেবেচিন্তে লেখালেখি করেন৷ তার লেখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে তিনি খুব সহজ ভাষায় বড় বড় হতাশাকে মুহূর্তেই দূর করে দিতে পারেন লেখার মধ্য দিয়ে। তার দেওয়া উদাহরণগুলো একদম জীবন্ত। তাই পাঠক খুব সহজে তার বইগুলো গ্রহণ করে এবং বর্তমানে বলা যায় আত্ম উন্নয়মূলক বইয়ের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক সত্যজিৎ চক্রবর্ত্তী।’

‘পরিশ্রম কখনো পরিশ্রমীকে বিনাপারিশ্রমিকে বিদায় দেয় না’, ‘আপনার যা নেই তা নিয়ে যতটুকু আফসোস করেন, আপনার যা আছে তা নিয়ে কি ততটুকু কৃতজ্ঞ থাকেন?’ লেখক সত্যজিৎ চক্রবর্ত্তীর এমন সব একেকটা বাক্য আর প্রশ্ন যেন পাঠকদের মুহূর্তেই হারিয়ে নিয়ে যায় অন্য দুনিয়ায়৷বইমেলা মানেই প্রাণের মেলা। লেখক পাঠকদের এক মিলনমেলা।