বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এবার হজযাত্রীদের কোরবানি ছাড়া সর্বনিম্ন ৪,৬৩,৭৪৪ টাকা দিতে হবে। এ বছর হজ করতে হলে হজযাত্রীদের ১৮ মের মধ্যেই প্যাকেজের টাকা এজেন্সির স্ব স্ব ব্যংকে জমা দিতে হবে। অথবা নগদে দিলে এক্ষেত্রে এজেন্সির কাছ থেকে মানি রিসিট সংগ্রহ করতে হবে। এবারের বেসরকারি প্যাকেজ গত ২০১৯ এর হজ প্যাকেজ ও ২০২০ এ প্রস্তাবিত বেসরকারি হজ প্যাকেজের চেয়ে বেশি।
সৌদি সরকারের অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ, বাড়ি ভাড়া ও বিমান ভাড়া বাবদ এই তিন খাতে চার্জ বাড়িয়ে বেসরকারি হজযাত্রীদের জন্য চলতি বছরের জন্য সাধারণ প্যকেজ ঘোষণা করেছে হজ এজেন্সিস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)।
বৃহস্পতিবার (১২ মে) দুপুরে রাজধানীর হোটেল ভিক্টোরির ব্যংককুইট হলে এক সংবাদ সম্মেলনে বেসরকারি হজ যাত্রীদের জন্য সাধারণ প্যাকেজ নামে একটি হজ ঘোষণা করেন হাবের সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম।
এ সময় হাবের সহসভাপতি ইয়াকুব শরাফতী, মহাসচিব ফারুক আহমদ সরদার, মাওলানা ফজলুর রহমানসহ হাবের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
হাবের সভাপতি বলেন, বেসরকারি হজ ব্যবস্থাপনায় আমরা সরকার ঘোষিত এ ও বি প্যাকেজের মাঝামাঝি ঠিক করে এবার বেসরকারি হজযাত্রীদের জন্য সাধারণ প্যাকেজ নামে হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। তাছাড়া প্রত্যেক এজেন্সি স্ব স্ব স্পেশাল প্যাকেজ করতে পারবেন। তবে কোনো প্যাকেজই হাব ঘোষিত সর্বনিম্ম প্যাকেজ মূল থেকে কম হবে না। তিনি প্রত্যেক হজ যাত্রীকে প্যাকেজমূল্য ভাল করে বুঝে শুনে যেন এজেন্সির সঙ্গে লিখিত চুক্তি সম্পাদন করেন।
হাব সভাপতি বলেন, এবার হজ করতে হলে টিকার সনদের পাশাপাশি হজযাত্রার প্রাক্কালে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কোভিড নেগেটিভ সনদ সংগ্রহ করতে হবে।
তিনি বলেন, সাধারণ প্যাকেজের হজযাত্রীদের পবিত্র হারাম শরীফের বাইরের চত্বরের সীমানার এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০০ মিটার দূরত্বে আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।
সৌদি আরব প্রান্তের অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জের তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি জানিয়ে তসলিম বলেন, প্যাকেজ ঘোষণার পর সৌদি সরকার অতিরিক্ত কোনো ফি আরোপ করলে তা প্যাকেজের মূল্য হিসেবে গণ্য হবে এবং তা হজযাত্রীকে পরিশোধ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কোরবানি খরচ বাবদ প্রত্যেক হজযাত্রীকে ৮১০ সৌদি রিয়ালের সম পরিমাণ টাকা আলাদাভাবে নিজ দায়িত্বে সঙ্গে নিতে হবে।
হজ প্যাকেজের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে হাব সভাপতি বলেন, বাড়ি ভাড়া, সৌদি আরবের সার্ভিস চার্জ, ভ্যাট, মুদ্রার রেট অব এক্সচেঞ্জ এবং বিমান ভাড়া বাড়ানোর জন্য হজের খরচ বেড়ে গেছে।
ডেডিকেটেড ফ্লাইটে হজযাত্রীদের পরিবহনের জোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ডেডিকেটেড ফ্লাইটে হজযাত্রী পরিবহন করা না গেলে ঢাকায় হজযাত্রীদের প্রি-অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন করা সম্ভব নয়। আগামী ১০ জুন থেকে হজ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য পরামর্শ দিয়েছি জানিয়ে তসলিম বলেন, প্যাকেজের মূল্য পরিশোধের পর হজযাত্রীদের নিবন্ধন, আন্তঃএজেন্সি সমন্বয়, মোনাজ্জেম নির্ধারণ, ভিসা- এসব কাজ এখনো বাকি আছে। ৩১ মে হজ ফ্লাইট দিলে ঝুঁকি হয়ে যাবে। আমরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করছি। আমরা আগামী ১০ জুন থেকে হজ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বলেছি।
এর আগে বুধবার (১১ মে) সচিবালয়ে হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্বাহী কমিটির সভায় সরকারিভাবে দুটি ও বেসরকারিভাবে হজ পালনের ক্ষেত্রে একটি প্যাকেজ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান সাংবাদিকের হজ প্যাকেজ সম্পর্কে ব্রিফ করেন।
সরকারিভাবে হজে যেতে প্যাকেজ-১ এ ৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৪০ এবং প্যাকেজ-২ এ ৪ লাখ ৬২ হাজার ১৫০ টাকা খরচ ধরা হয়েছে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে প্যাকেজে খরচ ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৬৩০ টাকা।
প্যাকেজ-১ এর ক্ষেত্রে খরচ বেড়েছে এক লাখ ২ হাজার ৩৪০ টাকা, প্যাকেজ-২ এর ক্ষেত্রে এবার খরচ বেড়েছে ১ লাখ ২ হাজার ১৫০ টাকা।