সারা বাংলা

সুরমায় পানি বৃদ্ধি, সিলেট নগরীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত 

সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। সুরমা, কুশিয়ারা, সারি নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে বইছে। সুরমা নদী উপচে সিলেট নগরীতে পানি প্রবেশ করেছে। নগরীর তালতলা ও শাহজালাল উপশহরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে পানি উঠেছে।

সীমান্তর্তী উপজেলা কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর কোম্পানীগঞ্জসহ সিলেট সদরের ৪টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লোকজন।  সোমবার (১৬ মে) সকাল থেকে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। এতে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। বিকেল পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। 

সরেজমিন দেখা গেছে, সুরমা নদীর তীর উপচে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। এতে তলিয়ে যায় নগরের উপশহর, সোবহানিঘট, কালিঘাট, ছড়ারপাড়, শেখঘাট, তালতলা, মাছিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকা। এ সব এলাকার বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনায়ও পানি ঢুকে পড়ে। নগরীর সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার কালিঘাটে ঢুকে পড়ে পানি। এতে ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা বাণিজ্য। 

পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় গোয়াইনঘাটের সবকটা ইউনিয়ন পানিতে তলিয়ে গেছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ইমরান আহমদ ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবনের নিচতলায় কোমর পানি হয়ে গেছে। কানাইঘাট উপজেলা সদরের প্রধান বাজার গত তিনদিন থেকে কোমর পানি রয়েছে। লোভা নদীর তীরবর্তী ইউনিয়নগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জৈন্তাপুরেও একই অবস্থা। কোম্পানীগঞ্জ ও সিলেট সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আঞ্চলিক সড়কে পানি উঠে গেছে। ফলে যানচলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি উঠে যাওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

সিলেট পাউবো সূত্রে জানা যায়, সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে সোমবার (১৬ মে) দুপুরে বিপদসীমার ১.২৮ সেন্টিমিটার, সিলেট পয়েন্টে ১০.৬৬ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর পানি আমলশিদ পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার, ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৮.৭৪ সেন্টিমিটার, শেরপুর পয়েন্টে ৬.৯৬ সেন্টিমিটার, গোয়াইনঘাটের সারি নদীর পানি বিপদসীমার ০.৮ সেন্টিমিটার, কানাইঘাটের লোভা নদীর পানি ১৪.৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিলো।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিলেটের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী বলেন, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমেছে। তবে উজানে বৃষ্টি হচ্ছে, একারণে ঢল নামছে। ফলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান বলেন, বন্যা কবলিত এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের খোঁজ খবর রাখতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সবকটা উপজেলা কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। পর্যাপ্ত ত্রাণসমাগ্রী বিতরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।