জাতীয়

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘নিজস্ব অর্থায়নে বহু প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু নির্মাণ বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে এবং জাতির আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়েছে।’

ঢাকা সেনানিবাসে সেনা সদর দপ্তরের মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে আর্মি সিলেকশন বোর্ডের বৈঠকে এ কথা বলেছেন তিনি। সোমবার (৩০ মে) প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে তার প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ কথা জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘জনৈক ব্যক্তি পদ্মা সেতু প্রকল্পে মিথ্যা দুর্নীতির অভিযোগ আনায় কোনো বোর্ড মিটিং না করেই বিশ্বব্যাংক সেতু নির্মাণে অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছিল। যদিও পরে ওই অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যে অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছি, (বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি অর্জন করেছে) তা নিয়ে আমাদের আত্মবিশ্বাসের সাথে এগিয়ে যেতে হবে।’

সেনাবাহিনীর বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ আর্মি সব সময়ই অবকাঠামো নির্মাণসহ দেশের সার্বিক উন্নয়নে অবদান রেখেছে।’

জনগণের আস্থা অর্জন করতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘কোভিড-১৯ মহামারিতে সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, বিজিবিসহ সবাই জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে।’

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমন ও অভিযোজন সংক্রান্ত সরকারি পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘সরকার জলবায়ু উদ্বাস্তুদের আশ্রয় দিতে কক্সবাজারের খুরুসকুলে ফ্ল্যাট নির্মাণ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বে বাংলাদেশই একমাত্র উদাহরণ যেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে তিন মাসের মধ্যে মিত্র বাহিনী তাদের দেশে ফিরে গেছে।’

তৎকালীন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিটি সেক্টরে, বিশেষ করে সরকারি চাকরিতে বৈষম্যের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘পাকিস্তানি সামরিক সার্ভিসে শুধু একজন বাঙালি কর্নেল ছিলেন। তবে, এখন জেনারেলরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে আছেন। বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে বলেই এটা সম্ভব হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে নেতৃত্বের জন্য পেশাদারি দক্ষতা, উৎকর্ষ, সততা ও দেশপ্রেমী কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিতে হবে।’ দায়িত্ব প্রাপ্তরা সততা, ন্যায়পরায়ণতা এবং ন্যায়বিচারের সাথে দায়িত্ব পালন করবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সেনাবাহিনীর সদস্যরা সর্বদা জনগণের পাশে থাকে, উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে বিশ্বব্যাপী দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।’

বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব গোলাম মো. হাসিবুল আলম।