শাবনাজকে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে আছেন তার এক কন্যা। বাঁ হাতে অন্য কন্যাকে ধরে শাবনাজের পাশে দাঁড়ানো নাঈম। তাদের প্রত্যেকের চোখে-মুখে নির্মল আনন্দের রেখা বয়ে গেছে। নাঈম-শাবনাজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্ট করা একটি ছবিতে এমন দৃশ্য দেখা যায়। ছবিটির ক্যাপশনে এ তারকা দম্পতি লিখেছেন—‘পরিবারের ভালোবাসা জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন’। এর সঙ্গে একটি লাভ ইমোজি জুড়ে দিয়েছেন।
ঢাকাই সিনেমার এক সময়ের জনপ্রিয় তারকা জুটি নাঈম-শাবনাজ। বহু আগে রুপালি দুনিয়াকে টাটা জানিয়ে সংসারে ডুবে আছেন তারা। শোবিজ অঙ্গনের প্রেম-বিয়ে-সংসার নিয়ে বরাবরই মানুষের নেতিবাচক একটি ধারণা রয়েছে। কিন্তু এই ভাবনাকে মিথ্যা প্রমাণ করে নাঈম-শাবনাজ ‘আইডল’-এর তকমা কুড়িয়েছেন। দুই কন্যা সন্তান নিয়ে হাতে হাত রেখে সুখী দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছেন। আর এ বিষয়টি নেটিজেনদের নজর কেড়েছে। সন্তানদের সঙ্গে তোলা এ ছবি দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করছেন তারা।
আলেয়া নামে একজন লিখেছেন, ‘বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে আদর্শ জুটি। নতুন প্রজন্মের আইডল। আমার ভালোবাসা নাঈম-শাবনাজ ও তার পরিবারের জন্য।’ তানজিলা করিম লিখেছেন, ‘আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক এই পরিবারের উপরে। আল্লাহ দীর্ঘ আয়ু দিন আমার প্রিয় মানুষদের।’ সিরাজুম মুনীরা লিখেছেন, ‘সুন্দর একটা আদর্শ সুখী সংসারের উদাহরণ আপনারা। আপনাদের একসাথে তোলা ছবি দেখলে এত ভালো লাগে!’ এমন অসংখ্য মন্তব্য ভেসে বেড়াচ্ছে কেমন্ট বক্সে।
১৯৯৪ সালে এহতেশাম নির্মাণ করেন ‘চোখে চোখে’ চলচ্চিত্রটি। এতে জুটি বেঁধে অভিনয় করেন নাঈম-শাবনাজ। সিলেটে এই চলচ্চিত্রের শুটিং হয়। শুটিং করতে গিয়ে যে বাংলোতে উঠেছিলেন সেই বাংলোর ম্যানেজার শুটিং টিমকে আমন্ত্রণ জানায়। সেখানে শাবনাজের বাবাও উপস্থিত হয়েছিলেন। এই আয়োজনের এক ফাঁকে শাবনাজকে বাইরে ডেকে নিয়ে যান নাঈম। কোনো দ্বিধা না করে মনের সব কথা শাবনাজকে খুলে বলেন নাঈম। কিন্তু নাঈমের বিয়ের প্রস্তাবের বিষয়টি শাবনাজের কাছে আকস্মিক মনে হয়নি। কারণ শাবনাজ নিজেও নাঈমকে অনুভব করতেন। তারপর ১৯৯৪ সালের ৫ অক্টোবর কবুল বলেন এই দম্পতি।
পরিচালক এহতেশামের ‘চাঁদনী’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় একসঙ্গে পা রাখেন নাঈম ও শাবনাজ। এরপর ‘দিল’, ‘জিদ’, ‘অনুতপ্ত’, ‘সোনিয়া’, ‘সাক্ষাৎ’, ‘টাকার অহংকার’, ‘ফুল আর কাঁটা’, ‘চোখে চোখে’সহ অনেক জনপ্রিয় চলচ্চিত্র উপহার দেন এই জুটি। অভিনয় ক্যারিয়ারে তারা জুটি বেঁধে ২১টির বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তাদের একসঙ্গে অভিনীত শেষ চলচ্চিত্রের নাম ‘ঘরে ঘরে যুদ্ধ’। ১৯৯৪ সালে মুক্তি পায় এটি।
১৯৯৪ সালে প্রিয় মানুষ শাবনাজকে স্ত্রী হিসেবে ঘরে তুলেন নাঈম। একই বছর তার জীবনে নেমে আসে নানা সংকট। ১৯৯৪ সালে প্রথম চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেন নাঈম। তার প্রযোজিত ‘আগুন জ্বলে’ চলচ্চিত্রটি ব্যবসায়ীকভাবে ব্যর্থ হয়। যার কারণে আর্থিক সংকটে পড়েন নাঈম। একই বছর এ চিত্রনায়ক তার বাবাকে হারান। এসব ঘটনার পর পুরোপুরি চলচ্চিত্রবিমুখ হয়ে পড়েন এই দম্পতি। বর্তমানে সংসার নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। চলচ্চিত্রে না থাকলেও সব সংকট কাটিয়ে ব্যক্তিগত জীবনে দারুণ সময় পার করছেন নাঈম-শাবনাজ।