যশোরে আওয়ামী লীগের জনসভায় নিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতির কথা জানিয়ে দলটির নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, এতে অন্তত ১০ লাখ লোকের জনসমাগম হবে।
জনসভা থেকে দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন জানিয়ে তারা বলেন, সব ধরনের অপশক্তির বিরুদ্ধে দেশকে সুরক্ষিত রাখতে আওয়ামী লীগের যে প্রতিরোধের ডাক, তা যশোর থেকে শুরু হলো।
বুধবার (২৩ নভেম্বরে) যশোরের শামস্-উল হুদা স্টেডিয়ামে জনসভার এক দিন আগে মাঠের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক।
জনসভার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে জানিয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, যশোরসহ আশপাশের এলাকার কোনও মানুষ ঘরে থাকবে না। তারা বৃহত্তর যশোরের উন্নয়নে রূপকার বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার কথা শুনতে আসবে।
জনসভাকে কেন্দ্র করে যশোর সংলগ্ন জেলাগুলোর মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখানকার প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে আমরা গিয়েছি। সেখানকার মানুষ জানে, ১৪ বছর আগে যশোর ছিল একটি ক্ষতবিক্ষত জনপদ। সেই যশোরসহ আশপাশের জেলাগুলাতে এখন উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। এই এলাকার মানুষ সব সময় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে।
‘বৃহস্পতিবারের জনসভা স্টেডিয়াম ছাড়িয়ে পুরো শহর জনসভাস্থলে পরিণত হবে। জনসভায় ১০ লাখ লোকের সমাগম হবে। এই জনসভা থেকে বিএনপি-জামায়াত অপশক্তিকে আমরা জানিয়ে দিতে চাই- এই বাংলাদেশ হলো মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তির বাংলাদেশ। সেই গর্জন যশোর থেকে শুরু হবে।’
বিএনপির সমাবেশের সঙ্গে আওয়ামী লীগের এই জনসভার কোনও প্রতিযোগিতা আছে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবো? যারা ভাইয়ের সামনে বোনকে রেপ করেছে, গাড়ির মধ্যে যারা মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে; যারা দেশকে জঙ্গিবাদের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছিল, যারা উন্নয়নের একটি দৃষ্টান্ত দিতে পারবে না- তাদের সঙ্গে কোনও প্রতিযোগিতা বা তুলনা করার কোনও সুযোগ আমাদের নেই।
এসময় এক প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, জঙ্গিরা তৎপর রয়েছে। তাদের ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এসব বিষয় মাথায় রেখে নিশ্চয়ই আমরা সর্বপ্রথম গুরুত্ব দেবো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তা। তারপর গুরুত্ব দেবো জনসমাগমের বিষয়টি। এজন্য আমরা গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাই।
জনসভার সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, খুলনা বিভাগীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জনসভার যোগদানের সকল প্রস্তুত সম্পন্ন করেছে। বৃহস্পতিবারের জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবে। জনসভাকে ঘিরে এই এলাকার মানুষের মাঝে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, জনসভায় দেশের রাজনৈতিক এবং আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে দেশের মানুষকে আগামীতে কীভাবে পরিচালনা করবেন, দেশকে কীভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন এবং এই বিষয়ে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন তিনি।
এই জনসভা থেকে দেশবাসীর কাছে একটি বার্তা যাবে উল্লেখ করে বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, দেশের রাজনীতিতে যখন দুষ্টচক্র, সাম্প্রদায়িক শক্তি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, রাজনীতি ও গণতন্ত্রকে ক্ষতবিক্ষত করার জন্য এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য যারা ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করছেন; তাদের বিরুদ্ধে সারা দেশের মানুষে কাছে একটি মেসেজ যাবে, সেটা হলো-দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের পক্ষে, শেখ হাসিনার পক্ষে এবং নৌকার পক্ষে। তারা সন্ত্রাসের বিপক্ষে, সাম্প্রদায়িক শক্তির বিপক্ষে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, এসএম কামাল হোসেন, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময়, যশোর জেলা আওয়ামী লগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার, যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) নাসির উদ্দিন প্রমুখ।