স্থায়ী পে-কমিশন গঠন ও ৫০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দেওয়াসহ সরকারের কাছে ২৫ দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের মহাসচিব তোয়াহা স্বাক্ষরিত আবেদনপত্রে এসব দাবি জানানো হয়৷
দাবিগুলো হলো— ১। স্থায়ী পে-কমিশন গঠন করতে হবে এবং পে-কমিশনে কর্মচারী সংগঠনের প্রতিনিধি রাখতে হবে। ২। নতুন পে-কমিশন বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ৫০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দিতে হবে। ৩। বেতন স্কেলের ২০ ধাপ ভেঙে ১২ ধাপ বিশিষ্ট বেতন স্কেল দিতে হবে। 8। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন পদে ১৪৫ হারে বেতন স্কেল নির্ধারণ করে বেতনবৈষম্য দূর করতে হবে। ৫। আগের মতো শতভাগ পেনশন দেওয়াসহ ১ টাকার বিনিময়ে ৫০০ টাকা গ্র্যাচুইটি নির্ধারণ করে পেনশন দিতে হবে। ৬। আগের মতো টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল করতে হবে। ৭। পে-কমিশনে বাড়িভাড়া ৮০ শতাংশ, চিকিৎসা ভাতা ৫ হাজার টাকা, শিক্ষাভাতা ৩ হাজার টাকা, যাতায়াত ভাতা ২ হাজার টাকা, টিফিনভাতা ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। ৮। বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ৫ শতাংশের স্থলে ১০ শতাংশ করতে হবে। ৯। বৈশাখী ভাতা ১০০ শতাংশ করতে হবে এবং ১৬ ডিসেম্বর বিজয় ভাতা ও ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ভাতা দিতে হবে। ১০। সরকারি দপ্তরে আউটসোর্সিং নিয়োগ বন্ধ করতে হবে এবং ইতোমধ্যে আউটসোর্সিং ও প্রকল্পে নিয়োগকৃত কর্মচারীদের রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করতে হবে। ১১। সরকারি চাকরিতে সরাসরি প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছরের স্থলে ৩৫ বছর এবং বিভাগীয় প্রার্থীদের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ৪০ বছর পর্যন্ত করতে হবে। অবসরের বয়সসীমা ৫৯ বছরের স্থলে ৬৫ বছর করতে হবে। ১২। জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ এর শ্রেণিবিন্যাস বিলুপ্ত করে গ্রেড প্রথা চালু করা হয়েছে। যে কর্মচারী যে গ্রেডে বেতন ভাতা প্রাপ্য হন, তাকে সেই গ্রেডের পদমর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। ১৩। ব্লক পদ প্রথা প্রত্যাহার করে সকল পদে পদোন্নতির ব্যবস্থা করতে হবে। ১৪। সুইপার, গার্ড, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ফরাসদের গাড়িচালকদের মতো ওভারটাইম দিতে হবে। ১৫। গাড়িচালক, ডিআর, লিফটম্যান, ইলেক্ট্রিশিয়ানদের ঝুঁকি ভাতা দিতে হবে। ১৬। সচিবালয়ের কর্মচারীদের ১০ শতাংশ সচিবালয় ভাতা দিতে হবে। ১৭। কর্মচারীদের সন্তানদের চাকরির লক্ষ্যে পোষ্য কোটা ৩০ শতাংশ এবং সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্তানদের ভর্তির জন্য ২০ শতাংশ কোটা নিশ্চিত করতে হবে। ১৮। কর্মকর্তাদের মতো কর্মচারীদেরকে যোগ্যতা অনুসারে বিদেশে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। ১৯। কল্যাণ তহবিলে মাসিক ভাতা ২ হাজারের পরিবর্তে ৭ হাজার টাকা করতে হবে। ২০। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সিভিল কর্মচারী/প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়/প্রতিরক্ষা অডিটরদের মতো সচিবালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের জন্য রেশনিং পদ্ধতি চালু করতে হবে। ২১। সচিবালয়ে সহকারী সচিব পদে পদোন্নতিতে ফিডার পদের বৈষম্য দূর করে একই ফিডার পদ নির্ধারণ করতে হবে। ২২। সচিবালয়ের কর্মরত অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ও সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটরদের পদবি পরিবর্তনপূর্বক সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা করতে হবে এবং ক্যাশ সরকারের পদ পরিবর্তন করে ক্যাশ অফিসারে নামকরণ করতে হবে। ২৩। নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের গৃহ নির্মাণ ও মোটরসাইকেল ক্রয়ের জন্য সুদমুক্ত ঋণ দিতে হবে। ২৪। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের রাষ্ট্রীয় সফরে অন্যান্য পেশার মতো কর্মচারী প্রতিনিধি নিশ্চিত করতে হবে। ২৫। সচিবালয় কর্মচারী সমিতির নামে জায়গা বরাদ্দ দিতে কর্মচারী ভবন নির্মাণ করতে হবে।।
আবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় পে-স্কেল ২০১৫ বাস্তবায়নের পর তেল, গ্যাস বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্য বৃদ্ধির ফলে সরকারি কর্মচারীরা আজ দিশেহারা হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। প্রতিটি নিত্যপণ্যের মূল্য দুই থেকে তিন গুণ বৃদ্ধি পেলেও গত সাত বছর ধরে পে-স্কেল না দেওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি পায়নি৷ আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে জাতীয় পে-স্কেলের মতো কমিটি গঠন করে নতুন স্কেল কার্যক্রম চালু করাসহ ২৫ দফা দাবি পেশ করা হলো।