গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনে দ্বিতীয় দফায় উপনির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হয়েছে। এখন কেন্দ্রে কেন্দ্রে চলছে ভোট গণনা।
বুধবার (৪ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ করেন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা।
এরআগে সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হওয়া ভোটে ভোটার উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। বেলা ১২টা পর্যন্ত কোনো কেন্দ্রে ১০ শতাংশ, কোনো কেন্দ্রে ১২ শতাংশ ভোট পড়ে। দুপুরের দিকে কেন্দ্রমুখী হয় ভোটাররা। তবে সকালের তুলনায় তেমন বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি। বরং বেলা ৩টার পর কেন্দ্রগুলো আরও ফাঁকা হতে থাকে।
উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের ১৪৫টি ভোটকেন্দ্রের মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৪ জন। তাদের মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮৬২ জন ও পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৯ হাজার ১৪২ জন।
এই নির্বাচনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মাঠে সক্রিয় ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাহমুদ হাসান রিপন (নৌকা) ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী (জাপা) এএইচএম গোলাম শহিদ রঞ্জু (লাঙ্গল)। ভোটের মাঠে প্রচারণায় দেখা যায়নি বিকল্পধারা বাংলাদেশের জাহাঙ্গীর আলম (কুলা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ মাহবুবুর রহমানকে (ট্রাক)। গত ২৫ ডিসেম্বর অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদুজ্জামান নিশাদ (আপেল) প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট কারচুপির আশঙ্কায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘ভোট সুষ্ঠু পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। এখন গণনা চলছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার সদস্যের নিরাপত্তার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে ১৪৫টি ভোট কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে ১ হাজার ২৪২টি সিসি ক্যামেরা। যা পর্যবেক্ষণের জন্য উচ্চ পর্যায়ের মনিটরিং সেল গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন।’
গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী গত ২৩ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এরপর আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আসনটিতে ১২ অক্টোবর উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে প্রথমে গোপন কক্ষে একাধিক ব্যক্তি প্রবেশ করায় ভরতখালী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, ফুলছড়ি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র এবং সাঘাটা উপজেলার রামনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে দফায় দফায় ৫১টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করে ইসি।
অনিয়মের ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে ৪ জানুয়ারি গাইবান্ধা-৫ আসনের উপ-নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।