আইন ও অপরাধ

উৎসবকে কেন্দ্র করে ছিনতাই করেন তারা

রাজধানীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ছিনতাই চক্রের সঙ্গে জড়িত ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে র‌্যাব-৩ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ফারজানা হক জানান, বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত র‌্যাবের কয়েকটি আভিযানিক দল একযোগে মতিঝিল, মুগদা, ওয়ারী, খিলগাঁও, বংশাল, সবুজবাগ ও শাহজাহানপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে ছিনতাই করে। ভ্যালেন্টাইন ডে, পহেলা ফাল্গুন এবং বইমেলাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ আশেপাশের এলাকায় উৎসব হয়। এ সুযোগে শাহবাগ, শাহজাহানপুর, মতিঝিল, কমলাপুর, খিলগাঁওসহ আরও বেশ কয়েকটি জায়গায় বড় ধরনের ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে আসছিল এই চক্রটি। এছাড়া আসন্ন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস তথা ২১ ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে নাশকতা তৈরির মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ছিনতাই করারও পরিকল্পনা ছিল এ চক্রটির।

র‌্যাব জানায়, সাধারণত এসব এলাকায় ছিনতাইকারী এই চক্রটির সদস্যরা ঘোরাফেরা করতে থাকে। এছাড়াও সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের অন্যান্য সদস্যরা বিভিন্ন অলি গলিতে ওৎপেতে থাকে। সুযোগ পাওয়া মাত্রই তারা পথচারী, রিকশা আরোহী, যানজটে থাকা সিএনজি, অটোরিকশার যাত্রীদের ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করে সর্বস্ব লুটে নেয়। সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত তুলনামূলক জনশূন্য রাস্তা, লঞ্চঘাট, বাসস্ট্যান্ড, রেল স্টেশন এলাকায় ছিনতাইকারীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তাদের ছিনতাই কাজে বাধা দিলে তারা নিরীহ পথচারীদের প্রাণঘাতী আঘাত করতে দ্বিধা বোধ করে না। সাম্প্রতিক সময়ে খিলগাঁও মালিবাগ রেল গেট, কমলাপুর, মতিঝিল, হাতিরঝিল, শাহবাগ, পল্টন, মানিকনগর, নন্দীপাড়া, গুলিস্তান এলাকায় সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত ছিনতাইকারীদের বেশ তৎপরতা পরিলক্ষিত হওয়ায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব-৩  সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে। ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা যেসব ব্যক্তির কাছ থেকে ছিনতাই করবে তাদের আগে থেকে অনুসরণ করতে থাকে এবং অনুসরণকৃত ব্যক্তির সাথে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন ধরনের কথা বলে থাকে। একপর্যায়ে কথা বলতে বলতে কোন ব্যক্তিকে সুবিধামতো কোনো জায়গায় নিয়ে যায় এবং সেখানে ছিনতাইকারী চক্রের অন্য সদস্যরা উপস্থিত হয়। চক্রের একজন সদস্য কোন ব্যক্তির সঙ্গে বিতর্কে জড়ায় ও মারধর শুরু করে। লোকজন এগিয়ে আসলে বলে, নিজেদের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝির কারণে এ মারামারি। ততক্ষণে ছিনতাইয়ের কাজটি তাদের চক্রের কেউ একজন সেরে ফেলে।

র‌্যাব জানায়, এছাড়া তারা ছিনতাইয়ের কাজে বিভিন্ন অভিনব কৌশল অবলম্বন করে থাকে এবং ছিনতাইয়ের কাজে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে। যখন কোন রিকশা অথবা সিএনজি আরোহী যাত্রীদের টার্গেট করে তারা অন্য একটি রিকশা অথবা সিএনজি নিয়ে উক্ত ব্যক্তির পেছনে যেতে থাকে। ছিনতাইকারীদের সুবিধামত স্থানে পৌঁছে যাত্রীকে এবং চালককে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে রিকশা ও সিএনজি যাত্রীর সর্বস্ব লুটে নেয়।