গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ভেন্নাবাড়ি গ্রামের দুই ভাই তাদের ৫ বিঘা জমিতে কুলের চাষ করে এলাকায় তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। খরচ উঠিয়ে তারা এ বছর অন্ততঃ ৫ লাখ টাকা লাভ করেছেন।
চাষিরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূল থাকায় কুলের বাম্পার ফলন হয়েছে। সেই সাথে ভালো দাম পাওয়ায় লাভবান হয়েছেন তারা। তাই এ কুলের আবাদ হচ্ছে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে। বিভিন্ন জাতের কুলের চাষ হচ্ছে মাঠের পর মাঠ।
ভেন্নাবাড়ি গ্রামের দুই ভাই প্রবীর নজন ও অপূর্ব নজন প্রথমে পৈত্রিক জমিতে বিভিন্ন ফলের চাষ করলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগে তা নষ্ট হয়ে যায়। এতে ভেঙে না পড়ে ঠিক করেন কুলের আবাদ করবেন। ইউটিউব দেখে আর চুয়াডাঙ্গা বিভিন্ন স্থান থেকে কুলের চারা এনে নিজেদের ৫ বিঘা জমিতে রোপণ করেন। স্বল্প মেয়াদের এ কুলে বাম্পার ফলন হয়েছে। গাছে গাছে ঝুলে রয়েছে কুল আর কুল।
দুই ভাইয়ের ক্ষেতে যেসব কুলের চাষ হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে- অস্ট্রেলিয়ান বল, ভারত সুন্দরী, কাশ্মিরি আপেল, বল সুন্দরী, থাই আপেল, সিড লেসসহ বিভিন্ন জাতের কুলের গাছ। প্রচলিত আপেল কুল ও বাউ কুলের চেয়ে আকারে বেশ বড় এই কাশ্মিরি আপেল কুল ও ভারতীয় জাতের বল সুন্দরী কুল।
তারা জানালেন- কুলের আবাদে তাদের খরচ হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা। ইতোমধ্যে ৪ লাখ টাকার কুল বিক্রি করেছেন। আর ক্ষেতে যে ফল রয়েছে তা বিক্রি করে উঠবে আরো অন্তত ৪ লাখ টাকা। দেখা যায়, খরচ উঠিয়ে এ মৌসুমে প্রায় ৫ লাখ টাকা লাভ করবেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ জেলায় চলতি মৌসুমে ১৬৮০ হেক্টর জমিতে কুলের আবাদ হয়েছে। কুলে মাত্র চার মাসের মধ্যে ফল পাওয়া যায়, আর বছরে ফলন পাওয়া যায় অন্তত তিনবার। তাই বছর বছর কুল বাগান বেড়েই চলছে। গোপালগঞ্জে এ কুলের আবাদ হচ্ছে বাণিজ্যিকভিত্তিতে। অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে বেশি লাভজনক। এ কারণে চাষিরা কুলচাষে ঝুঁকছে।
কুলচাষি যুবক প্রবীর নজন জানান, তিনি আগাম প্রতি কেজি কুল ১শ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি করেছেন। বর্তমানে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় প্রতি কেজি কুল বিক্রি হলেও লাভবান হচ্ছেন। ইতোমধ্যে প্রায় ২ হাজার চারা বিক্রি করেছেন।
অপর কুলচাষি অপূর্ব নজন জানান, নিজেরাই নিজেদের ক্ষেত দেখাশোনা করার পাশাপশি ফল বাছাই করে বিক্রির জন্য উপযোগী করে তোলেন। শুধু স্থানীয়রাই নয়, এ ক্ষেত দেখতে দূর দুরান্ত থেকে অনেকেই আসছেন। আবার অনেকেই কুল চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এসব ফল রাসয়ানিক মুক্ত হওয়ায় স্থানীয় বাজারে রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। ফলে পাইকাররা ক্ষেত বা বাড়িতে এসেই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আ. কাদের সরদার বলেন, এ জেলায় চলতি মৌসুমে ১৬৮০ হেক্টর জমিতে কুলের আবাদ হয়েছে। সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে কুলের আবাদ করলে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপশি পুষ্টির চাহিদাও পূরণ হবে। মাঠ ফসল থেকে কুল ফল চাষে দ্বিগুণ লাভ হওয়ার ফলে অনেকেই এ ফল চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
এসব চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি পরামর্শও দেওয়া হয় বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।