সারা বাংলা

এক পদে দুই দাবিদার, নীলফামারী স্বেচ্ছাসেবক লীগে বিশৃঙ্খলা  

নীলফামারীর ডোমার উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি পদ দাবি করেছেন দুই নেতা। ফলে দল দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ায় সাধারণ কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত সমস্যার সমাধান করে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতি ঘোষণা করারও দাবি তুলেছেন। 

জানা গেছে, গত বছরের ৩০ জুলাই উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আব্দুল মালেক সরকার জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ডোমার উপজেলা শাখার কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল ইসলাম তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। এরপর তিনি আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। 

এর মধ্যে উপজেলা স্বেচ্ছোসেবক লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি জাবেদুল ইসলাম সানবিমকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দিয়ে একটি চিঠি দেন জেলা স্বেচ্ছোসেবক লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে কাঙ্খিত সাধারণ সম্পাদক পদ না পেয়ে আব্দুল মালেক সরকার পুনরায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি পদে ফিরতে লবিং শুরু করলে সংগঠনে বিভক্তি দেখা দেয়। 

স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রচার সম্পাদক মো. আজাহারুল ইসলাম (টুনু) অভিযোগ করে বলেন, আমাদের আগের সভাপতি আব্দুল মালেক সরকার পদত্যাগ করে আওয়ামী লীগে চলে গেছেন। এখন আবার তিনি নিজেকে সভাপতি দাবি করায় সংগঠনে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাবেদুল ইসলাম সানবিম বলেন, মালেক ভাই নয় মাস আগে সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসাবে যোগদান করেছেন। জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আমাকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি সেই দায়িত্ব পালন করছি। এখন তিনি পুনরায় সভাপতির পদ ফেরত চেয়ে দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন।

এ বিষয়ে আব্দুল মালেক সরকারকে ফোন করলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে ফোন রেখে দেন।

জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ  সম্পাদক দীপক চক্রবর্তী জানান, আব্দুল মালেক সরকার পদত্যাগ করায় সহ-সভাপতি জাবেদুল ইসলাম সানবিমকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তবে মালেক সরকার সম্মানজনক একটি বিদায় চাওয়ায় গত ১৫ এপ্রিল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন অনুষ্ঠানটি তার সভাপতিত্বে করা হয়েছে। বর্তমানে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সানবিম ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, এ সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় কমিটি আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ও নীলফামারী জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত রফিকুল ইসলাম আবুল বলেন, বিষয়টি সমাধানে সংসদ সদস্য, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সম্পাদক ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা ঈদের পর সাত দিনের মধ্যে বিষয়টির সমাধান করবেন।