‘বাংলাদেশের জন্য বড় সময় নিয়ে ব্যাট করতে পারে (মুশফিক ভাই) এমন একজন। উনি যদি বড় স্কোর দিতে পারে, তাহলে বিষয়টা বাংলাদেশের জন্য ভালো কিছু হবে’-মুশফিকুর রহিমের কাছে এমন প্রত্যাশার পর অধিনায়ক লিটন দাস আস্থা প্রকাশ করেন রান খরায় থাকা মুমিনুল হকের প্রতি, ‘উনি (মুমিনুল) নতুন শুরুর চেষ্টা করছেন, শেষ সিরিজেই আপনারা প্রমাণ পেয়েছেন, বড় ইনিংস খেলেছেন। তার রানের ক্ষুধাটা আছে।’
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সোমবার (১২ জুন) সংবাদ সম্মেলনে মুশফিক-মুমিনুলকে নিয়ে এমন মন্তব্য করেন লিটন। সাদা পোশাকে ব্যাট হাতে বাংলাদেশের অন্যতম ভরসা মুশফিক। আফিগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে প্রথমবারের মতো নেতৃত্ব দিতে যাওয়া লিটন তার কাছে বড় প্রত্যাশা করবেন, এটাই স্বাভাবিক।
মুশফিক সবশেষের ঘরের মাঠে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি ও দ্বিতীয় ইনিংসে ফিফটি করেন। টেস্টেও মুশফিক আছেন দারুণ ফর্মে, ২০২২ সালে তার ব্যাট থেকে ২ টেস্টে আসে ৩০৩ রান, আর ২০২২-২৩ মৌসুমে ৩ টেস্টে তার ব্যাট থেকে আসে ২৬৩ রান। ৮৫ টেস্টে ৩৮.৪৪ গড়ে ব্যাট করা মুশফিককে তাইতো দেশের সেরা বললেন লিটন।
‘মুশফিক ভাইয়ের ভূমিকা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয় তিনি টেস্টে সেরা, বাংলাদেশের জন্য বড় সময় নিয়ে ব্যাট করতে পারে এমন একজন। উনি যদি বড় স্কোর দিতে পারে, তাহলে বিষয়টা বাংলাদেশের জন্য ভালো কিছু হবে।’
রানের বৃত্তে থাকা মুশফিকের কাছে প্রত্যাশা থাকলেও রান খরায় থাকা মুমিনুলের প্রতি আস্থা হারাননি লিটন। টেস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবে তকমা পাওয়া মুমিনুল রান খরায় হারিয়েছেন নেতৃত্ব। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সবশেষ টেস্টের ২ ইনিংসে মুমিনুলের ব্যাট থেকে আসে ৩৭ রান। এর আগে গতবছরের শেষে ভারতের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে পেয়েছিলেন ফিফটি (৮৪)। ৬ টেস্ট পর এই ফিফটি করেন মুমিনুল। সবশেষ ‘এ’ দলের হয়েও আলো ছড়াতে পারেননি। দুই ইনিংসে আউট হন ৫ রান করে।
মুমিনুলের রানের ক্ষুধা আছে জানিয়ে লিটন বলেন, ‘মুমিনুল ভাই খারাপ সময় পার করছেন, আমিও করেছি। উনি নতুন শুরুর চেষ্টা করছেন, শেষ সিরিজেই আপনারা প্রমাণ পেয়েছেন, বড় ইনিংস খেলেছেন। তার রানের ক্ষুধাটা আছে। দলে ব্যাটিং করে এমন সবার ওপরই দায়িত্ব থাকবে ভালো কিছু করার।’
সাকিব আল হাসান ইনজুরিতে থাকায় টেস্টে নেতৃত্ব পেয়েছেন লিটন। সাদা পোশাকে সাকিব না থাকলেও ততটা সমস্যা দেখছেন না লিটন যতটা রঙ্গিন পোশাকে হয়। ‘অবশ্যই সাকিব ভাই দুই দিক থেকে ভারসাম্য এনে দেন। কিছু ওভার বোলিং পাবেন, ব্যাটিংও পাবেন। তাই সাকিব ভাই না থাকলে, বিশেষ করে ওয়ানডে-টি টোয়েন্টি ফরম্যাটে বেশি কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু টেস্টে আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ বোলার আছে।’