জাতীয়

ঢাকা জেলায় ভিটামিন ‘এ প্লাস’ ক্যাপসুল খাবে ৫ লাখ শিশু

ঢাকা জেলার পাঁচ উপজেলা, এক পৌরসভায় ৫ লাখেরও বেশি শিশুকে ভিটামিন ‘এ প্লাস’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। পাশাপাশি পুষ্টিবার্তাও প্রচার করা হবে। আগামী ১৮ জুন (রোববার) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে। ছয় উপজেলার মোট ১৭৪২টি স্থায়ী ও ১২৬ অস্থায়ী কেন্দ্রে শিশুদের ভিটামিন এ খাওয়ানো হবে। এতে নিয়োজিত থাকবেন ৩ হাজার ৮৮৪ জন স্বেচ্ছাসেবক। এছাড়াও পর্যাপ্ত ডাক্তার, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা এ কাজে সরাসরি অংশ নেবেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হলরুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকার সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ইয়াসমিন নাহার।  এ সময় রিসোর্স পার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক কাজী গোলাম আহাদ।

সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ইয়াসমিন নাহার বলেন, ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন যে টার্গেট নিয়ে শুরু হয়েছে সেটা কোয়ান্টিটির দিক থেকে শতভাগ সফল। এখন আমরা কোয়ালিটির দিকে নজর দিচ্ছি। সেদিকেও আমরা দিন দিন উন্নতি করছি। প্রতিবারই ক্যম্পেইনের সময় নতুন কিছু বিষয়ে আমরা জোর দিয়ে থাকি। এবারও আমরা বলেছি কাপসুল খাওয়ানোর সময় শিশুর ঠোঁটে সম্পর্শ করা থেকে যেনো বিরত থাকি। সুস্থ থাকতে ক্যাপসুল খাওয়াতে গিয়ে যেনো শিশু ঠোঁটে ছোয়া লাগিয়ে ময়লায় জীবানুতে আক্রান্ত করা না হয়। শিশুদের বাড়িতে নয় কেন্দ্রে আমাদের প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী, স্বেচ্ছাসেবকদের দিয়ে ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করাসহ ছোট ছোট বিষয়ের ওপর আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।

তিনি বলেন, পুষ্টিবার্তা ব্যাপকভাবে প্রচার করা হবে। এখন থেকে মুখে মুখে বলতে থাকা, যাতে অভিভাবকসহ সব মহলে এক ধরনের জাগরণ সৃষ্টি হয়। ভালো থাকতে হলে স্বাস্থ ঠিক রাখতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের সুস্থ রাখতে অভিভাভকদের সচেতন হতে হবে।

তিনি ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল কাম্পেইন সফল করতে দেশের সব শ্রেণির পেশাজীবীকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।

এ সময় সিভিল সার্জন অফিসের সিনিয়র মেডিক্যাল অফিসার ডা. ঝুমানা আশরাফী সুইটি উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, এবার ঢাকা জেলার ৫টা উপজেলা ১টা পৌরসভায় আমরা ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের যে টার্গেট নিয়েছি সেটা পূরণের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শেষ করেছি। আমরা একটা শিশুকেও এই ক্যাম্পেইন থেকে বাদ রাখবো না তারপরও ১৮ জুনের পর বাড়ি বাড়ি গিয়ে আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীর বাদ পড়া শিশুদের অনুসন্ধান করে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়াবে।

সিভিল সার্জন অফিসের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মহসিন মিয়ার সঞ্চালনায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন সার্বিক তথ্য তুলে ধরেন মেডিক্যাল অফিসার ডা. নুরুন মোবাশ্বিরা প্রভা।

তিনি জানান, এবার ঢাকা জেলার ৫টা উপজেলা ১টা পৌরসভার মধ্যে ধামরাই, দোহার, কেরাণীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ, সাভার ও সাভার পৌরসভা এলাকায় এ ক্যাম্পেইন চলবে। ছয়টি উপজেলায় ৫ লাখ ১২ হাজার ৪৪৬ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এবার ৬-১১ বছর বয়সী ৬৬ হাজার ২৬৬ জন শিশুকে নীল রঙের এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ৪ লাখ ৪৬ হাজার ১৮০ জন শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন চলাকালে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুকে একটি নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুকে একটি লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। পাশাপাশি জন্মের পরপর নবজাতককে শালদুধ খাওয়ানো, ৬ মাস পর্যন্ত শিশুকে শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো; শিশুর ৬ মাস পূর্ণ হলে মায়ের দুধের পাশাপাশি পরিমাণমত ঘরে তৈরি সুষম খাবার খাওয়ানোর বার্তাও প্রচার করা হবে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টিকাকেন্দ্রে এই টিকা খাওয়ানো হবে।

ডা. প্রভা বলেন, ভিটামিন এ কাপসুল খাওয়ানোর পাশাপাশি কিছু বিষয়ে সচেতন করা হবে। জন্মের পরপর নবজাতককে শালদুধ খাওয়ানো, ৬ মাস পর্যন্ত শিশুকে শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো; শিশুর ৬ মাস পূর্ণ হলে মায়ের দুধের পাশাপাশি পরিমাণমত ঘরে তৈরি সুষম খাবার খাওয়ানোর বার্তাও প্রচার করা হবে। মসজিদে খুৎবার মাধ্যমেও ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনের প্রচারণা চালানো হবে বলে জানান তিনি।

প্রভা বলেন, ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল শিশুদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ডায়রিয়া-নিউমোনিয়ার প্রকোপ কমায়, অন্ধত্ব দূর করে। এজন্য শিশুদেরকে বাড়ির পাশের কেন্দ্রে গিয়ে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে। তবে অসুস্থ শিশুদের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না। কেউ অসুস্থ হলে সঙ্গে কেন্দ্রে চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকবে বলেও জানান তিনি।