কোরআন পোড়ানোর প্রতিবাদে বিশ্বের মুসলিমপ্রধান রাষ্ট্রগুলোকে সুইডেনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে সে দেশ থেকে দূতাবাস সরিয়ে নেওয়া এবং মুসলিমপ্রধান রাষ্ট্রে সুইডেনের দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
সুইডেনে পবিত্র কোরআন পোড়ানো ও ফিলিস্তিনে মুসলমানদের ওপর ইসরাইলের হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার (৭ জুলাই) জুমার নামাজের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ইসলামী আন্দোলন আয়োজিত বিক্ষোভ-পূর্ব সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলমের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠটির প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী।
তিনি বলেন, ‘সুইডেনে কোরআন পোড়ানো হয়েছে। সুইডেন আবার মুসলমানরা দখল করবে, তারাই শাসন করবে।’
সুইডেনে কোরআন পোড়ানোর ঘটনায় মুসলিম বিশ্বের নেতারা নিন্দা জানিয়েছেন, উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমাদের জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী নিন্দা প্রস্তাব করেননি।’
সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী বলেন, সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পাঁচ সিটি কর্পোরেশনে খুব সুন্দর নির্বাচন উপহার দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আপনি ঘরে বসে আছেন আর আপনার ভোট হয়ে গেছে, এটা সুন্দর নির্বাচন হয়েছে? ইভিএম মেশিনে যে বিজয়ী হয়েছে, তার ভোট পরিবর্তন করে যে বিজয়ী হয়নি তাকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে, এটাই হচ্ছে তার সুন্দর ভোটের নমুনা।’
সরকারের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতায় আসতে দেবে না দেশের জনগণ। আগামী নির্বাচন হবে জাতীয় সরকারের অধীনে। দলীয় সরকার, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন আমরা করতে দেবো না।’
সমাবেশে জাতীয় সরকারের অধীনে দ্বাদশ নির্বাচনের দাবিতে ৮ জুলাই (শনিবার) আলোচনা সভার কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) অধ্যাপক সৈয়দ বেলায়েত হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, ছাত্রনেতা শরিফুল ইসলাম রিয়াদ, অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান, ডা. শহিদুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার মুরাদ হোসেন, মাওলানা কেএম শরীয়াতুল্লাহ, মুফতি ফরিদুল ইসলাম, যুবনতো আল আমিন, মুহাম্মদ ফাইয়াজ প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন—দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন ও অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, শ্রমিকনেতা হাফেজ মাওলানা ছিদ্দিকুর রহমান।
মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, সুইডেনে কোরআন পোড়ানোর প্রতিবাদ হিসেবে বিশ্বের মুসলমান রাষ্ট্রগুলোকে সুইডেনের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে সুইডেনে অবস্থিত দূতাবাস সরিয়ে নিতে হবে এবং মুসলিম দেশগুলোতে থাকা সুইডেনের দূতাবাস বন্ধ এবং সুইডিশ পণ্য বর্জনের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, সৌদি আরবসহ আরব রাষ্ট্রগুলোকে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে এবং সেই দেশগুলোতে থাকা ইসরাইলের নাগরিকদেরকে গ্রেপ্তার করে চাপ প্রয়োগ করতে হবে। সাথে সাথে বিশ্বব্যাপী ইসরাইলের সকল পণ্য বর্জন কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা ইমতিয়াজ আলম বলেন, সুইডেন বার বার কোরআন পোড়ানোর মতো অপকর্ম করেই যাচ্ছে। তারা কোরআন পোড়াচ্ছে না, মুসলমানের অন্তর পোড়াচ্ছে। এ ধরনের গর্হিত কাজ থেকে ফিরে আসতে হবে। সুইডেনের রাষ্ট্রপ্রধানকে মুসলিম বিশ্বের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
তিনি ইসরাইলের বর্বরতার নিন্দা জানিয়ে বলেন, বিশ্বমোড়লরা কোথায়? ফিলিস্তিনে ঈদের দিন নিরীহ নিরাপরাধ মুসলমান নারী, পুরুষ ও শিশুদের হত্যা করছে। জাতিসংঘ নির্বিকার। জাতিসংঘ মসুলিমনিধন সংঘে পরিণত হয়েছে।
সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররম থেকে বিশাল মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি পল্টন মোড়, বিজয়নগর, কাকরাইল মোড় ঘুরে পল্টন মোড়ে এসে শেষ হয়।