প্রবাস

দক্ষিণ কোরিয়ায় বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন কয়েক হাজার পরিবার

টানা ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। ভারী বৃষ্টি আর প্রচণ্ড বাতাসে রাজধানী সিউলের কয়েকটি এলাকা ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এছাড়া সিউলের দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকায় বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন ৪ হাজার পরিবার। অফিসপাড়া, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এজন্য বিমানের বহু ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) গভীর রাতে সিউলের সিওডাইমুন-গু-এর হংজে-ডং এলাকায় বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। প্রচণ্ড বাতাসে ওই এলাকায় একটি উচ্চ-ভোল্টেজের বিদ্যুতের লাইনের ওপর একটি গাছ ভেঙে পড়ে।

ফলে ২ হাজারেরও বেশি পরিবার বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে। এছাড়া রাতে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সিউলের উত্তর-পূর্ব এলাকার ডোবং-গুতে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে আরও ২ হাজার পরিবার।

কোরিয়া ইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বর্তমানে চলমান এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঠিক করার জন্য কাজ করছে একটি প্রতিনিধিদল। তবে এখনও সব জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।  

রাতভর ভারী বৃষ্টির কারণে শুক্রবার (১৪ জুলাই) ভোরে উত্তর সিউলের নওন-গুতে বাসিন্দাদের জন্য ভূমিধসের সতর্কতা জারি করা হয়। বৃষ্টিপাতের কারণে সিউলের প্রধান মহাসড়কগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাজধানী শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হান নদীর পানিও বহুগুণ বেড়েছে।

ভারী বর্ষণে অধিকাংশ রাজধানীর এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতর থেকে আরও জানানো হয়েছে, চলতি সপ্তাহজুড়ে বজ্রসহ ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। বৃহত্তর সিউলে প্রতি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৮০ মিলিমিটারের মতো ভারী বৃষ্টিপাত হবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল শুক্রবার (১৪ জুলাই) এক জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছেন। বৈঠকের পর অতিপ্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে দুর্যোগ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, ওই এলাকার শতাধিক ব্যক্তিকে নিরাপদ স্থানের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সিউলের ভূগর্ভস্থ বাসিন্দাদেরও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে কিছুক্ষণ পরপরই মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে জনসাধারণকে সতর্কতা জারি করেছে কোরিয়ার আবহাওয়া অধিদফতর।