জাতীয়

যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক মজবুত করতেই একের পর এক দল পাঠাচ্ছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী 

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে মজবুত করতেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন একের পর এক দল পাঠাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

বুধবার (১৯ জুলাই) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী এ দাবি করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও আমেরিকার মধ্যে আরও মজবুত সম্পর্ক চান প্রেসিডেন্ট বাইডেন। সেজন্যই তিনি একের পর এক দল পাঠাচ্ছেন।

আগামী সপ্তাহে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ইমন গিলমোর ঢাকায় আসছেন।

তার সফর সম্পর্কে জানতে চাইলে ড. মোমেন বলেন, তারা আসুক সমস্যা নেই। আমাদের গোপন করার কিছু নেই। আপনারা (সাংবাদিকরা) সেখানে শুধু সন্দেহ খোঁজেন। প্রেসিডেন্ট বাইডেন বাংলাদেশ ও আমেরিকার আরও মজবুত সম্পর্ক চান। সেজন্যই তিনি একের পর এক দল পাঠাচ্ছেন। তারা আলোচনা করছেন কীভাবে বাংলাদেশ-আমেরিকার সম্পর্ক মজবুত করা যায়।

জাকার্তায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে সাক্ষাতে আলোচনার প্রসঙ্গে মোমেন বলেন, আমার সঙ্গে ব্লিঙ্কেনের আলোচনা হয়েছে। কীভাবে সম্পর্ক আরও মজবুত করা যায় সে বিষয়ে। অন্য কোনো আলাপ করেননি।

উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগে জাকার্তায় ৩০তম আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর।

ঢাকা-১৭ আসনের উপ-নির্বাচনে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের যৌথ বিবৃতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের অ্যাকটিভিস্ট ডিপ্লোমেট সম্পর্কে বলতে চাই। আমেরিকাতে যখন তখন লোক মেরে ফেলে। তারা কি কখনো বিবৃতি দেয়। ইউএন কি কোনদিন বিবৃতি দিয়েছে? বলেছে যে আমেরিকাতে লোক মরে যায় কেন? ক্যামব্রিজে একটি বাঙালি ছেলে মারা গেলো ফয়সাল, তারা কি বলেছে ছেলের তদন্ত কতদূর হয়েছে। কিংবা রাষ্ট্রদূতরা কি দল বেধে কোন বিবৃতি দিয়েছে। তাদের জিজ্ঞেস করেন কেন?

‘আপনারা জিজ্ঞেস করেন না প্রতিদিন লোক মারা যায় বিভিন্ন দেশে, তখন তারা কেন স্টেটমেন্ট দেয় না? আর বাংলাদেশ হইলেই একটা মগের মুল্লুক পাইছে ওরা।’

মন্ত্রী বলেন, আর কারে (হিরো আলম) মারল এটাও তদন্ত করে দেখতে হবে কে মারিয়েছে। এমনও হতে পারে কেউ কেউ এটায় ইনভলভ ছিলো, আমরা জানি না। একটা অনিশ্চয়তা তৈরির জন্য হয়ত কেউ আমাদের আগামী নির্বাচন চায় না। নির্বাচনকে বানচাল করতে এই অকাম কুকাম শুরু করেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ সময় গণমাধ্যমকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনাদের এটা তদন্ত করে বের করা উচিত ওরা কি কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে? এটা আপনারা জিজ্ঞেস করেন না কেন? আপনাদের সাথে যখন তখন সাক্ষাৎ হয় আপনারা তাদের দেশের কথা জিজ্ঞেস করেন না কেন? 

তিনি আরও বলেন, লন্ডনে মেরে ফেলেছে আমাদের বাঙালি ছেলেদের। আমেরিকা তো যখন তখন লোক মারে। রং বেরং দেখলেই মেরে ফেলে। কিংবা হেনস্থা করে। সেগুলো নিয়ে প্রশ্ন করেছেন কখনো? আপনাদেরও সজাগ হওয়া উচিত। খালি আমার দেশ হলেই হইচই শুরু করে দেন। আর কোথাও কি হইচই করে এরকম। আমাকে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দেন কোন কোন দেশের ক্ষেত্রে তারা এ ধরনের বিবৃতি দিয়েছে মেরে ফেলার পর।

মন্ত্রী আরও বলেন, কিছুদিন আগে কতগুলো লোক ফ্রান্সে আক্রান্ত হলো, কেউ কি দল বেধে বিবৃতি দিয়েছে? তাহলে কেন শুধ বাংলাদেশ হলেই দেয়। এটাই সময় আপনারা ওসব দেশের বিবৃতি প্রচার করা বন্ধ করেন। তারা আমাদের কাছে স্টেটমেন্ট না দিয়ে আপনাদের কাছে দেয়।