খেলাধুলা

আফগান কামানের মুখোমুখি লঙ্কান সিংহ

চলমান বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের পক্ষে বাজি ধরার মত লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্করই ছিল। এর আগে বিশ্বকাপে টানা ১২ ম্যাচে হারের মুখ দেখা আফগানদের নিয়ে আশা করা দিবাস্বপ্নের মতোই। আসরের শুরুতে বাংলাদেশের বিপক্ষে হারের পর সেটা আরও দৃঢ় হলো। কিন্তু দলটা আফগানিস্তান বলেই সব সম্ভব। ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানকে হারিয়ে সেটাই প্রমাণ করেছে হাশমতউল্লাহ শাহীদিরা।

দুই বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয় তুলে নেওয়া আফগানিস্তান আজ মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কার। এই ম্যাচ জিতে দুই দলই সেমিফাইনালের পথে আরেকটু এগিয়ে যেতে চায়। মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে লঙ্কানদের হারিয়ে দিতে পারলে আফগানিস্তানের সেমিফাইনালের স্বপ্ন বড় হবে আরও।

এই স্বপ্নের পেছনে সাফল্যের রহস্য জানিয়ে গেলেন শাহীদি, ‘আমরা আস্থা রেখেছি দলটির ওপর। নিজেদের পরিকল্পনায় অটল ছিলাম। একই দলে স্থির থেকেছি। যখন ভালো করছিলাম না, তখনো এই দল এবং একই খেলোয়াড়দের ওপর বিশ্বাস রেখেছি। তাদের প্রচুর সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’

আফগানদের মতো শ্রীলঙ্কাও আসরে প্রথম পাঁচ ম্যাচের দুটিতে জিতেছে। তারা টানা দুই ম্যাচে হারিয়েছে নেদারল্যান্ডস ও ইংল্যান্ডকে। লঙ্কানরা আফগানদের চেনা প্রতিপক্ষই। গত দুই বছরে দুবার শ্রীলঙ্কা সফর করেছে আফগানিস্তান। তাতে লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে আফগান কামান বনাম লঙ্কান সিংহ।

পরিসংখ্যানের লড়াইয়ে আফগানিস্তানের চেয়ে এগিয়ে শ্রীলঙ্কা। ওয়ানডে ফরম্যাটে এখন পর্যন্ত মোট ১১ বার দেখা হয়েছে দুই দলের। এতে ৭ ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেছে শ্রীলঙ্কা। বিপরীতে ৩টি ম্যাচ জিতেছে আফগানিস্তান। একটি ম্যাচের কোনো ফল হয়নি। 

এই লড়াইয়ে আফগানদের ভরসা স্পিনে। আফগানিস্তান তো আগের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে নামিয়ে দিয়েছিল চার স্পিনারকে। মোহাম্মদ নবী, রশিদ খান, মুজিব উর রহমানের সঙ্গে সেদিন যোগ দিয়েছিলেন ১৮ বছর বয়সী বাঁহাতি লেগ স্পিনার নূর আহমেদ।

এদিকে শ্রীলঙ্কারও বড় শক্তি স্পিন। তবে এর সঙ্গে তাদের পেস বিভাগের কথাও বলতে হয়। মহেশ থিকশানার সঙ্গে আছেন দুনিত ভেল্লালাগে। তাদের সঙ্গে দলে আছেন পেসার দুষ্মন্ত চামিরা। এই ম্যাচে শ্রীলঙ্কা অবশ্য পিছিয়ে থাকবে তাদের চোট জর্জরিত স্কোয়াডের কারণে।

আজকের ম্যাচটি দুই দলের জন্যেই শেষ চারের স্বপ্ন উজ্জ্বল করার উপলক্ষ্য। তাতে আফগান কামানের পুনে কাঁপানো বারুদের সামনে লঙ্কান সিংহ কতোটা গর্জন তুলতে পারে, সেটাই দেখার অপেক্ষায়।