বিনোদন

কৌতুক অভিনেতা মন্টু আর নেই

ডেস্ক রিপোর্টঢাকা, ১০ জুন : চলে গেলেন প্রবীণ কৌতুক অভিনেতা সিরাজুল হক মন্টু। শনিবার রাত ৯টায় তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। এই কৌতুক অভিনেতাকে পুরনো দর্শকরা মনে রাখবে অনেকদিন।

তার বড় মেয়ে ফৌজিয়া বেগম মিতা জানান, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তার বাবা ব্রেইন স্ট্রোক করেন। এর পরপরই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একদিন থাকার পর তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। রোববার বাদ জোহর জানাজার পর সিরাজুল হক মন্টুর মরদেহ ময়মনসিংহের গুলকীবাড়ি কবরস্থানে দাফন করা হয়।

বয়স হয়ে গেলেও সিরাজুল হক মন্টু বেশ স্বাভাবিক জীবন যাপনই করতেন। গত ১ জুন তিনি তার ছোট ছেলে রিন্টুর বিয়ে দেন। বড় মেয়ে মিতা ও রিতার বিয়ে হয়েছে বেশ আগেই। সিরাজুল হক মন্টুর সহধর্মিনী তার স্বামীর মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন।

তিনি বাংলাদেশ বেতার, টেলিভিশনের নিয়মিত অভিনয় শিল্পী ছিলেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো হচ্ছেÑ ছুটির ঘণ্টা, অশিক্ষিত, সুজন সখী, দর্পচূর্ণ, মাটির ঘর ইত্যাদি।

এক সময়ের তুমুল জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা সিরাজুল হক মন্টু ময়মনসিংহের বাসিন্দা। আশির দশকে ফজলে লোহানীর ‘যদি কিছু মনে না করেন’ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে ‘আচ্ছা বলুনতো’ সংলাপটির মাধ্যমে অনেক দর্শকের হৃদয়ে মন্টু আজও জাগ্রত।

২৯ জুন’১২ ‘ইত্যাদি’ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিন পর সিরাজুল হক মন্টুকে দর্শকের সামনে উপস্থাপন করেন হানিফ সংকেত । নতুন করে দর্শক মনে আবার জাগিয়ে তোলেন। কৌতুক অভিনেতা হিসেবে তিনি ছিলেন কিংবদন্তিতুল্য।

মন্টুর প্রয়াণে নন্দিত উপস্থাপক হানিফ সংকেত বলেন, ‘গত বছর আমরা ইত্যাদির একটি পর্বে মন্টু ভাইকে আবারও সবার মাঝে নিয়ে এসেছিলাম। অত্যন্ত গুণী একজন অভিনেতাকে আমরা হারালাম।

মন্টুর মৃত্যুর আগে ময়মনসিংহেরই একজন চিত্রশিল্পী মোহাম্মদ ছাইদুল ইসলাম তাকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেন। এ তথ্যচিত্রে সিরাজুল ইসলাম মন্টু নিজে তার জš§সহ কর্মময় জীবন সম্পর্কে নানান কথা বলেছেন। তথ্যচিত্রটি প্রযোজনা করছে নোভিস ফাউন্ডেশন।

রাইজিংবিডি/শামটি/এলএ