সারা বাংলা

হাসিনার গাড়িবহরে হামলা: খালাস পেলেন বিএনপি নেতা হাবিব

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের ১০ বছরের কারাদণ্ড বাতিল করে খালাসের রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। হাবিবুল ইসলাম হাবিবের করা রিভিশন আবেদনের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর বেঞ্চ এ রায় দেন।

এ মামলার অন্য আসামিদের রিভিশন আবেদনের শুনানি না হওয়ায় তাদের বিষয়ে হাইকোর্ট কোনো রায় দেননি বলে জানান হাবিবুল ইসলাম হাবিবের পক্ষে শুনানি করা আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলাম। এ মামলায় আরো আইনজীবী ছিলেন হাবিবুল ইসলাম হাবিবের স্ত্রী শাহানারা আক্তার বকুল।

রায়ের পর হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, ‘‘ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনা ও তার দোসররা সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঘটনার ১২ বছর পর আমাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছিল। অথচ আমি ওই সময়ে ঘটনাস্থলে ছিলাম না। আমি ঢাকাতে ছিলাম। এ মামলায় আমি দীর্ঘ ৪ বছর কারান্তরীণ ছিলাম। এরপর গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর আমি কারাগার থেকে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে জামিনে বেরিয়ে এসেছি।’’

হাবিব বলেন, ‘‘মহান আল্লাহপাকের অশেষ রহমতে আজ আমি মুক্ত। অথচ ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা অসংখ্য বিএনপি নেতাকর্মী ও ছাত্র-জনতাকে নির্মমভাবে হত্যা এবং জেল, জুলুম ও নির্যাতন করার পরও লাখ লাখ ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ক্ষমতায় টিকে থাকতে না পেরে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।’’

এদিকে, হাবিবুল ইসলাম হাবিব খালাস পাওয়ায় তার নির্বাচনী এলাকা সাতক্ষীরার তালা ও কলারোয়ায় আনন্দ মিছিল করেছে বিএনপি নেতাকর্মীরা।

কলারোয়ায় ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট তৎকালিন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার ঘটনার দীর্ঘ ১২ বছর পর কলারোয়া থানায় মামলা দায়ের হয়। এ মামলায় ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরা-১ আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ৫০ জন নেতাকর্মীকে সর্বনিম্ন চার থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছর মেয়াদে সাজা দেন সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম হুমায়ুন কবির।

এ মামলায় হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন হাবিবুল ইসলাম হাবিব। রিভিশন শুনানি শেষে আজ তাকে এ মামলা থেকে খালাস দেন হাইকোর্ট। তবে এই মামলার অন্য আসামিদের রিভিশন আবেদনের শুনানি না হওয়ায় তাদের বিষয়ে হাইকোর্ট কোনো রায় দেননি।