সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা প্রয়াত এইচ টি ইমামের ছেলে তানভীর ইমামের সাবেক স্ত্রীর গুলশানের বাসায় তল্লাশির নামে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে জাতীয়তাবাদী চালক দল কেন্দ্রীয় কমিটির স্বঘোষিত সভাপতি জুয়েল খন্দকারসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হামলা-লুটপাটের অভিযোগে মামলা হয়েছে।
সোমবার (১০ মার্চ) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ছানাউল্ল্যাহর আদালতে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক ইলতুৎমিস সওদাগর অ্যানি মামলার আবেদন করেন।
আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে গুলশান থানার ওসিকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দেন।
জুয়েল খন্দকারের পাশাপাশি তার সহযোগী শাকিল খন্দকার ও জসিম উদ্দিনকে এ মামলার আসামি করা হয়েছে। তারা তিনজনই গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. খোরশেদ আলম বলেন, কথিত জাতীয়তাবাদী চালক দলের নাম ব্যবহার করে প্রতারণা ও জালিয়াতি করার অভিযোগে মামলার আবেদন করি। আদালত মামলাটি গুলশান থানা পুলিশকে এজাহার হিসেবে নেয়ার আদেশ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে মামলার বাদী ইলতুৎমিশ সওদাগর এ্যানি বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার নির্দেশে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সুনাম ক্ষুণ্ন করতে কথিত জাতীয়তাবাদী দলের নামে বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছিল অভিযুক্তরা। এ বিষয়ে অবগত হওয়ার পর দলীয় সিদ্ধান্তে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, জাতীয়তাবাদী চালক দল নামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কোনো অঙ্গসংগঠন নেই। আসামিরা গত ৪ মার্চ তাদের মনগড়া কাহিনী তৈরি করে প্রয়াত এইচ টি ইমামের ছেলে তানভীর ইমামের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর বাসায় অনধিকার ও বেআইনি অনুপ্রবেশ করে ব্যাপক লুটপাট চালায়। এ খবর দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।
আসামিরা একটি ভুয়া সংগঠন জাতীয়তাবাদী চালক দল জালিয়াতির মাধ্যমে সৃজন করে এই ব্যানারে তারা বিভিন্ন জায়গায় বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও লুটপাট চালাতে থাকে। প্রতারণামূলকভাবে ভুয়া দল সৃষ্টি করে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে তৎপর এই স্বঘোষিত ভুয়া দল। বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের পরামর্শে এই মামলা দায়ের করা হল।
এর আগে গত ৪ মার্চ রাতে এইচ টি ইমামের ছেলে তানভীর ইমামের সাবেক স্ত্রীর গুলশানের বাসায় ১৫ জন আকস্মিকভাবে বে-আইনি জনতাবদ্ধভাবে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর ও তছনছ করে। এ সময় আসামিরা আলমারি ভেঙে ২টি স্বর্ণের চেইন ও ১টি স্বর্ণের পায়েল, ১টি হাতের আংটিসহ মোট ২ ভরি আট আনা স্বর্ণ নেন। যার মূল্য ৩ লাখ টাকা। ওই ঘটনায় ওই বাসার কেয়ারটেকার আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন।