সারা বাংলা

চট্টগ্রামে ‘টর্চার সেল’ থেকে থানা লুটের গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১১

চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানার আওতাধীন বহদ্দার হাট এলাকায় সন্ত্রাসীদের একটি বড় টর্চার সেলের সন্ধান পেয়েছে র‌্যাব ও চান্দগাঁও থানা পুলিশ। 

সোমবার (২১ জুলাই) রাতে র‌্যাব-৭ ও চান্দগাঁও থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ওই টর্চার সেল থেকে থানা লুণ্ঠিত গুলি, বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জামসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই চট্টগ্রামের পরিচিত সন্ত্রাসী শহিদুল ইসলাম ওরফে বুইসার সহযোগী বলে পুলিশ জানিয়েছে।

চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন জানান, সোমবার সন্ধ্যার দিকে বহদ্দার হাট এলাকায় ইসমাইল হোসেন ওরফে টেম্পো ও শহিদুল ইসলাম ওরফে বুইসার নেতৃত্বাধীন দুটি সন্ত্রাসী বাহিনীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর রাতে র‌্যাব-৭ এবং চান্দগাঁও থানা পুলিশ যৌথভাবে বহদ্দার হাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। 

অভিযানে বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার এলাকার একটি ভবনের তৃতীয় তলার বাসা থেকে থানা থেকে লুট হওয়া গুলি ও গুলির খোসা, বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। অভিযানে ১১ জন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান তিনি। 

গ্রেপ্তার ১১ জন হলো- বোরহান উদ্দিন, মোহাম্মদ মারুফ, আল আমিন, মিজানুর রহমান, রোকন উদ্দিন, আলী আহাম্মদ, শান্ত মজুমদার, মো. অন্তর, বিরো পাল, মোহাম্মদ রাহাত ও মোহাম্মদ ফরহাদ।

থানা থেকে লুণ্ঠিত গুলি ও গুলির খোসাসহ দেশীয় নানা অস্ত্র এবং নির্যাতনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ১১ জনই চট্টগ্রামের তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী শহিদুল ইসলাম ওরফে বুইসার সহযোগী। যে বাসা থেকে অস্ত্র-গুলি উদ্ধার করা হয়েছে, সেটিকে তারা ‘টর্চার সেল’ হিসেবে ব্যবহার করত। চাঁদা বা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ধরে এনে সেখানে নির্যাতন চালানো হতো। ওই বাসা থেকে প্লায়ার্স, রামদা, সিসিটিভি ক্যামেরাসহ নির্যাতনের নানা সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে।

র‍্যাব-৭ চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক এ আর এম মোজাফফর হোসেন বলেন, “গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং বাকি সহযোগীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন থানায় অস্ত্র-গুলি লুটের ঘটনা ঘটে। এসব লুট হওয়া অস্ত্র ডাকাতি ও ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম জানান, বহদ্দারহাট কেন্দ্রীক সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে ১৯টি এবং শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।