ক্যাম্পাস

কুবিতে বানরের কামড়ে শিক্ষার্থীসহ আহত ১২

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের পাশে আসা এক বানরের কামড়ে শিক্ষার্থীসহ বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ সময় হলের পাশ দিয়ে যাতায়াত করা শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিকে তেড়ে যেতেও দেখা যায় বানরটির।

জানা গেছে, বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে হলের সামনে আসে বানরটি। শুরু থেকেই শিক্ষার্থী এবং দায়িত্বরত আনসারদের ওপর ক্ষিপ্রতা দেখাচ্ছিল। এমনকি হলের একটি কক্ষেও প্রবেশ করেছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী রিপন জানান, ৯টার দিকে হলের সামনে কয়েকজন শিক্ষার্থীর দিকে তেড়ে যাচ্ছিল বানরটি। এরপর এক শিক্ষার্থীকে দৌড়ানি দেয়। তিনি দৌড়ে হলে এসে গেট লাগিয়ে দেন এবং হাতে থাকা বাঁশ দিয়ে তাড়ানোর চেষ্টা করেন। বানরটি পাগলপ্রায় ছিল এবং যাকেই সামনে পাচ্ছিল তাকে কামড়াতে যাচ্ছিল। এতে অন্তত ১০-১২ জনকে কামড়িয়ে দেয় বলে জানান তিনি। 

হলের দায়িত্বরত আনসার, হলের সহকারী রেজিস্ট্রার, শিক্ষার্থীদের মতে, প্রায় ১০-১২ জনকে কামড়িয়েছে বানরটি। ভুক্তভোগীদের মধ্যে আছেন নিরাপত্তা কর্মচারী, হলের বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা কর্মচারী এবং বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী।

কুবির ডেপুটি চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদুল হাসান খান বলেন, “আমাদের কাছে আটজন এসেছে। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে টিকা নেওয়ার জন্য সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছি।”

ভুক্তভোগী বাবুল বলেন, “বানরটি হলে প্রবেশ করার পর মানুষ দেখে পাগলামি করতে থাকে। এক পর্যায়ে একটু কাছে গেলে আমার বৃদ্ধ আঙুলে কামড় দেয়, আর তাতে রক্ত বের হয়ে যায়।”

দত্ত হলের সহকারী রেজিস্ট্রার কামরুল আহসান রুবেল বলেন, “আমি খবর পেয়ে প্রাধ্যক্ষ স্যারকে ফোন দেই। উনি নিরাপত্তা শাখায় কথা বললে আমি লোক নিয়ে এসে অনেক চেষ্টা করে তাড়ানোর ব্যবস্থা করি। এরপর আবার আসে।”

তিনি বলেন, “বন বিভাগে কল দিলে তারা জানান, আমরা যাতে এর ক্ষতি না করে আস্তেধীরে সরিয়ে দেই। তাদের নাকি অভিজ্ঞ লোকবল নেই।”

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের প্রাধ্যক্ষ সহযোগী অধ্যাপক মো. জিয়া উদ্দিন বলেন, “আমি নিরাপত্তা শাখায় কথা বলেছি। তারা বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করবে বলে জানিয়েছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার প্রধান সাদেক হোসাইন মজুমদার বলেন, “খবর পেয়ে দুইজন আনসার ও গার্ডকে পাঠালে তাদেরও কামড় দেয় বানরটি। এখন তারা সদর হাসপাতালে টিকা নিতে যাচ্ছে।”

বন ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে জানিয়েছেন কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমি জানাইনি। তবে রুবেল (দত্ত হলের সহকারী রেজিস্ট্রার) জানিয়েছে।”

এ বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ রেঞ্জের বন কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “আমরা কাছাকাছি আছি। অল্প কিছুক্ষণ লাগবে আর। সর্বোচ্চ চেষ্টা করব উদ্ধারের।”